1. paribahanjagot@gmail.com : pjeditor :
  2. jadusoftbd@gmail.com : webadmin :
রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ১২:২১ অপরাহ্ন

মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে আটকে গেল প্রগতি ইন্ডাষ্ট্রিজের গতি

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম
  • আপডেট : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২০

সদ্যঃসমাপ্ত অর্থবছরে করোনার মধ্যেও প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছিল প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (পিআইএল)। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ শাখার এক পরিপত্রে সেই অগ্রযাত্রা থমকে গেছে। চলমান কভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলা ও সরকারের কৃচ্ছ্রতা সাধন নীতির অংশ হিসেবে গত ৮ জুলাই জারি করা এক পরিপত্রে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের আওতায় সব ধরনের যানবাহন ক্রয় বন্ধ থাকার কথা জানানো হয়।
এই পরিপত্র পাওয়ার পর থেকে গত এক মাসে গাড়ি বিক্রির আর কোনো অর্ডার পায়নি দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত গাড়ি সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান প্রগতি। গাড়ি বিক্রি বন্ধের কারণে যেমন মূলধন আটকে গেছে তেমনি প্রায় ৪০০ কর্মীর বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়ে ঝুঁকিতে পড়েছে লাভজনক প্রতিষ্ঠানটি। আবার জাপানের মিত্সুবিশি মোটরস করপোরেশনের (এমএমসি) সঙ্গে সিকেডি আমদানির শর্ত ভঙ্গ হলে চুক্তি বাতিলের আশঙ্কাও করছে প্রগতি কর্তৃপক্ষ।
এমন পরিস্থিতিতে জারীকৃত পরিপত্রের শর্ত কিছুটা শিথিল করতে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে চিঠি দিয়েছেন পিআইএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
চিঠিতে জানানো হয়, ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহ পিআইএলের গাড়ির প্রধান ক্রেতা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পিআইএল সর্বোচ্চ ৫৬২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা করেছে, যার বিপরীতে পিআইএলের নিট মুনাফা ৬৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। কয়েক বছর ধরেই এমন ধারাবাহিক মুনাফাকে কম্পানির পরিচালন মূলধন ভিত্তি ধরে নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নযোগ্য কয়েকটি উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে পিআইএল অগ্রসর হচ্ছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অত্যাধুনিক অটোমেটিক অ্যাসেম্বল প্ল্যান্টের ডিটেইল লে আউট, ড্রয়িং, ডিজাইন ও প্রাক্কলন ব্যয় প্রস্তুত, ঢাকায় ৩৭ তলা ভিত্তিবিশিষ্ট প্রগতি টাওয়ার নির্মাণ প্রকল্প, চট্টগ্রামের নাসিরাবাদে আধুনিক সার্ভিস সেন্টার ও নিজস্ব অফিস ভবন নির্মাণ অন্যতম। আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সরকারি খাতে গাড়ি বিক্রি করা সম্ভব না হলে স্বাভাবিকভাবেই এসব কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে।
তবে দীর্ঘ সময় গাড়ি ক্রয় বন্ধ রাখায় জাপানের মিত্সুবিশি মোটরস করপোরেশনের (এমএমসি) সঙ্গে করা চুক্তি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে। প্রগতি কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে শুধু জাপানের মিত্সুবিশি মোটরসের সঙ্গে পাজেরো স্পোর্ট (কিউএক্স) এসইউভি জিপ এবং মিত্সুবিশি এল-২০০ ডাবল কেবিন পিকআপের সিকেডি সংযোজনের চুক্তি বলবৎ রয়েছে।
চুক্তির শর্ত ও পিপি-১ মোতাবেক যথাক্রমে বাৎসরিক ৬০০ ইউনিট পাজেরো (কিউএক্স) জিপ এবং প্রথম বছরে এক হাজার ২০০ ইউনিট, দ্বিতীয় বছরে এক হাজার ৫০০ ইউনিট ও তৃতীয় বছরে দুই হাজার ৫০০ ইউনিট ডাবল কেবিন পিকআপের সিকেডি যন্ত্রাংশ আমদানির শর্ত রয়েছে। অন্য কোনো গাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কম্পোনেন্ট সাপ্লাই অ্যাগ্রিমেন্ট নেই। সিকেডি আমদানির ক্ষেত্রে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ হলে এমএমসি চুক্তি বাতিল করতে পারে।
জাপানি বিশেষজ্ঞদলের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষামূলক সংযোজনের সব স্তর যথাসময়ে সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী মাসে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা যাবে। এমতাবস্থায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত গাড়ি না কেনার সরকারি নিষেধাজ্ঞা সম্ভাবনাময় এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হবে।
প্রগতির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, ‘প্রগতি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় অর্জিত মুনাফা থেকে সঞ্চিত অর্থ সরকারের হেফাজতে আছে। এমতাবস্থায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গাড়ির জরুরি চাহিদা যা না হলে চাহিদাকারী প্রতিষ্ঠানের কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে অন্ততপক্ষে সীমিতসংখ্যক গাড়ি পিআইএলের কাছ থেকে সরাসরি পদ্ধতিতে কেনার জন্য অর্থ বিভাগের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ অধিশাখা-৬ থেকে জারীকৃত পরিপত্রের শর্ত কিছুটা শিথিল করার জন্য চিঠি দিয়েছি।’

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© 2020, All rights reserved By www.paribahanjagot.com
Developed By: JADU SOFT