আগামী বছরের জুনে নয়, পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে ২০২২ সালে। বৈশ্বিক করোনাভাইরাস মহামারি আর এবারের অতিরিক্ত বন্যার কারণে সেতু নির্মাণকাজে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় এই দেরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গতকাল বুধবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এই কথা বলেন।
সেতু নির্মাণকাজ শেষ হতে সময় বেশি লাগবে বলে মূল সেতু ও নদী শাসনকাজ তদারকির জন্য পরামর্শক সংস্থার মেয়াদ আরো ৩৪ মাস বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। এ জন্য সরকারের ব্যয় হবে ৩৪৮ কোটি এক লাখ ৩২ হাজার টাকা। এটিসহ সর্বমোট ৭৯৪ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ছয়টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। পরামর্শকের খরচ বাড়ার কারণে প্রকল্প ব্যয় বাড়বে কি না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প ব্যয় যা ছিল তা-ই থাকবে। প্রকল্প ব্যয়ে যা ধরা ছিল, সেখান থেকেই সমন্বয় করা হবে।

অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২১ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন), ইবতেদায়ি ও দাখিল স্তরের বিনা মূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের জন্য আহ্বানকৃত মোট ৭৫টি লটে সর্বমোট ছয় কোটি ৫৬ লাখ ৫৬ হাজার ৭৬৭ কপি বই ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ক্রয় কমিটি। এতে ব্যয় হবে ৬৮ কোটি এক লাখ পাঁচ হাজার ৮৫৩ টাকা।
এ ছাড়া কমিটি ২০২১ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন), ইবতেদায়ি, দাখিল, এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল এবং কারিগরি (ট্রেড বই) স্তরের বিনা মূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের জন্য আহ্বানকৃত মোট ২১০টি লটের দর প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এতে মোট ১২ কোটি ২০ লাখ ৭৪ হাজার ৩৮০ কপি পাঠ্য বই মুদ্রণ (কাগজসহ), বাঁধাই ও সরবরাহের জন্য ব্যয় হবে ২০৫ কোটি ৮৪ লাখ ৮৩ হাজার ৬২০ কোটি টাকা।
২০২১ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক (বাংলা ও ইরেজি ভার্সন) স্তরের বিনা মূল্যে বিতরণযোগ্য পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের জন্য ১২ হাজার টন মুদ্রণ কাগজ ও এক হাজার ৩০০ টন আর্ট কার্ড সংগ্রহের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ব্যয় হবে ৯০ কোটি তিন লাখ ৪৮ হাজার ৭৫৮ টাকা।
‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পে ডেলিগেটেড ওয়ার্ক হিসেবে বাস্তবায়নাধীন ‘গ্রিন সিটি আবাসিক পল্লী’ নির্মাণের আওতায় চারটি ২০ তলা এবং ছয়টি ১৬ তলা আবাসিক ভবনের ৯৫৬টি ইউনিটে আসবাব সরবরাহকাজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে ৫৫ কোটি ৯০ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। হাতিল কমপ্লেক্স লিমিটেড সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে এসব আসবাব সরবরাহ করবে। ওই ইউনিটগুলোতে হোম অ্যাপ্লায়েন্স সরবরাহ ও স্থাপনকাজের ক্রয় প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২৬ কোটি ৯৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। মেসার্স জেএপি ট্রেডিং সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে এসব সরবরাহ ও স্থাপন করবে।
Leave a Reply