1. paribahanjagot@gmail.com : pjeditor :
  2. jadusoftbd@gmail.com : webadmin :
সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ০৩:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
ইউএস-বাংলার দশম বর্ষপূর্তি : ২৪ এয়ারক্রাফট দিয়ে দেশে বিদেশে ২০ গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা এয়ার ইন্ডিয়ার যাত্রী পরিবহন তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বিশ্বখ্যাত মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড রয়েল এনফিল্ড খুব শিগগিরই বাজারে আসছে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী এমটি কনসার্টো জাহাজে বাংলাদেশী নাবিকের মৃত্যুর তদন্ত দাবি লুব্রিকেন্ট আমদানিতে বাড়তি শুল্কায়নে ডলার পাচার বাড়বে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সম্পাদক ওসমান আলীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, অপসারণ দাবি বৈশ্বিক বিমান সংস্থাগুলোর মুনাফা হবে তিন হাজার কোটি ডলার উত্তরা মোটর্স বাজারে এনেছে ইসুজুর দুই মডেলের বাস বাংলাদেশীদের জন্য ভ্রমণ ফি কমাল ভুটান পরিবহন চাদাবাজি : সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড দখল নিয়ে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র হবিগঞ্জ নিহত ৩, আহত ৫০

পানিতে ডুবে মৃত্যু রোধ করা সম্ভব

সালাউদ্দিন নাগরী
  • আপডেট : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

গত ৩ সেপ্টেম্বর সমকালের একটি প্রতিবেদনে এক দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে পানিতে ডুবে ১৪ জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়। এর আগে ১৬ আগস্ট দেশের বিভিন্ন জায়গায় পানিতে ডুবে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া প্রায় প্রতিদিনই পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়-স্বজন মিলে গ্রামের বাড়ি যাওয়া বা দু’একদিনের জন্য ঘুরতে গিয়ে বেশি ঘটে থাকে। কক্সবাজার সৈকতে ঢেউয়ে তলিয়ে কত প্রাণ হারিয়ে গেছে তার ইয়ত্তা নেই।
পানিতে ডুবে মৃত্যু শুধু সাগর, নদী, পুকুর বা হাওরের মতো বড় বড় জায়গায় ঘটছে তা নয়। ঘরের মধ্যে বাথটাব, টিউবওয়েলের পানি জমার গর্ত, বাসস্থানের আশপাশে পানি জমে থাকা ডোবা, নালা ও ক্ষুদ্র জলাশয়েও ডুবে মারা যাচ্ছে দুগ্ধপোষ্য থেকে শুরু করে সাঁতার না জানা ১০-১২ বছরের শিশু। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা এশিয়ায়, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়াতে বেশি ঘটে থাকে। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্ধৃতি দিয়ে দেশের কয়েকটি পত্রিকার রিপোর্ট বলছে, আমাদের দেশে প্রতি বছর ১৪ হাজারের মতো শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন ৪০ শিশু প্রাণ হারাচ্ছে পানিতে ডুবে। এদের মধ্যে ৩০ জনের বয়স ৫ বছরের নিচে। সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চের (সিআইপিআরবি) সার্ভে রিপোর্ট অনুযায়ী, ইনজুরি বা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুর ক্ষেত্রে আত্মহত্যা ও সড়ক দুর্ঘটনার পরের অবস্থানে আছে পানিতে ডুবে মৃত্যু, যার পরিমাণ প্রায় ১১.৭ শতাংশ। সমবয়সী শিশুরা একত্রে খেলে, দৌড়ায় ও ঘুরে বেড়ায়। একজন পানিতে পড়ে গেলে তাকে সাহায্য করতে গিয়ে অন্যরাও ডুবে মরে। দুর্ঘটনার শিকার এ বয়সের শিশুরা তাদের বাসাবাড়ি থেকে ২০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত পুকুর, ডোবা ও জলাশয়ে ডুবে মারা যায়। একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন মতে, শহরের চেয়ে গ্রামে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর হার বেশি হলেও, ঢাকা মহানগরে এ সংখ্যা কম নয়। বুড়িগঙ্গা সংলগ্ন ও বিভিন্ন ঝিলের ওপর গড়ে ওঠা বস্তির শিশুরা প্রতিনিয়ত এ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এ বস্তির ঘরগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাঁশের তৈরি এবং তাদের চলাচলও বাঁশের ওপর দিয়ে, তাই পা পিছলে পানিতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে। এ ঘটনাগুলো বেশি ঘটছে সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে। কারণ ওই সময় মায়েরা গৃহস্থালি কাজে ব্যস্ত থাকায় দুধের শিশুটির চলাফেরার দিকে খেয়াল রাখতে পারেন না। মায়েদের ব্যস্ততার ওই সময়টুকুতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন জায়গায় শিশু রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন ও অন্যান্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। সিআইপিআরবি দেশের বিভিন্ন জায়গায় সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ২০-২৫ জন শিশুকে একজন প্রশিক্ষিত মা ও সহকারীর তত্ত্বাবধানে রাখার ব্যবস্থা করেছে; বিভিন্ন দুর্ঘটনা থেকে শিশুদের রক্ষায় এটি একটি কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ধরনের কেন্দ্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ এবং সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পাড়া-মহল্লায় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। উদ্যোগী যুবকদের নিয়ে উদ্ধার কমিটি তৈরি করে তাদের ফার্স্ট এইড, করণীয় বিষয়গুলোর প্রশিক্ষণ এবং প্রণোদনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ ছাড়া দু’চার মাস পরপর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে মতবিনিময় ও অন্যান্য সভা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের চাঙ্গা রাখার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। বাড়তি সুরক্ষা হিসেবে শহর এবং পল্লি অঞ্চলে সবাইকে সাঁতার শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
যেহেতু অধিকাংশ শিশু তাদের বাসাবাড়ির ২০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত গর্ত, ডোবা, পুকুর ও জলাশয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়; তাই পুকুর, ডোবা, জলাশয়গুলো বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া ছাড়া পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর দুর্ঘটনা কমানো যাবে না। ওইসব জলাভূমি যাদের মালিকানায় তারা যদি সামর্থ্যবান হয় তাহলে তারাই বেড়া দিয়ে ঘিরে দেবে নতুবা সরকারি উদ্যোগের সূচনা করতে হবে। গ্রাম-পাড়া-মহল্লায় যত জলাভূমি আছে তার তালিকা প্রণয়ন করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তর, প্রকৌশল দপ্তর ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের আওতায় সেগুলো বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়া এবং বছরব্যাপী ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিতে হবে। জেলা পরিষদগুলো অনেক ছোট ছোট প্রকল্প বাস্তবায়ন করে থাকে। ভেঙে যাওয়া সরু ও কর্দমাক্ত রাস্তা যেগুলোতে বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুদের চলাফেরায় বিপদ ঘটতে পারে, সেসব রাস্তা মেরামত ও পুকুর-ডোবা, জলাশয়গুলো ঘিরে দিতে জেলা পরিষদের তরফ থেকে উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
সড়ক দুর্ঘটনা, বজ্রপাত, বিদ্যুৎস্পর্শ, সাপের কামড়, পানিতে ডুবে ও অন্যান্য অস্বাভাবিক মৃত্যুর হার আমাদের দেশে তুলনামূলক বেশি। আমরা উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হয়েছি, তৎপ্রেক্ষিতে অপঘাতে মৃত্যুর এ উচ্চহার বড়ই বেমানান। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমাদের অসতর্কতা, অসচেতনতা, খামখেয়ালিপনা, কুসংস্কার, আইন অমান্যতা ও অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা না নেওয়ার কারণে এসব দুর্ঘটনা নিয়মিত ঘটছে; ফলে দীর্ঘ হচ্ছে অপঘাতে মৃত্যুর ‘রেজিস্টার’। তাই সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিশুদের খেলাধুলা ও ঘুরে বেড়ানোর জায়গায় অবস্থিত সব ধরনের জলাশয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে পানিতে ডুবে এ মৃত্যুর লাগাম হয়তো আরেকটু টেনে ধরা যেতে পারে।
সরকারি চাকরিজীবী
snagari2012@gmail.com

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© 2020, All rights reserved By www.paribahanjagot.com
Developed By: JADU SOFT