দেশের ইঞ্জিন অয়েল খাতের শীর্ষ কোম্পানি এমজেএল ১৮৫ কোটি টাকায় নতুন একটি অয়েল ট্যাঙ্কার কিনবে। এর মধ্য দিয়ে কোম্পানিটি তার ব্যবসায় আরও গতি আনতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। এমজেএলের কোম্পানি সচিব মোঃ রকিবুল কবির জানান, তারা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পুরানো জাহাজটি প্রতিস্থাপনের জন্য একটি নতুন জাহাজ কিনবেন। এক লাখ ১৫ হাজার টন ধারণক্ষমতার নতুন এই জাহাজটি সংস্থার নিট মুনাফা বাড়াতে সহায়তা করবে বলে তিনি জানান।
এমজেএল বাংলাদেশ আমেরিকান বহুজাতিক তেল ও গ্যাস কর্পোরেশন এক্সন মবিলের লুব্রিকেন্ট ইউনিট এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন যমুনা অয়েল কোম্পানির যৌথ উদ্যোগ। এটি দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত কোম্পানি এবং ইস্ট কোস্ট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। ১৯৮৯ সালে যখন এক্সন মবিল কর্পোরেশন রাষ্টায়াত্ব যমুনা অয়েল কোম্পানির অংশীদারিতে মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্টস ব্লেন্ডিং প্লান্ট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তখন বাংলাদেশে লুব্রিক্যান্টের বাজার ছিল খুবই সীমিত। এখন বিস্তৃত লুব্রিকেন্ট বাজারে ‘মবিল’ তার শ্রেষ্টত্ব অক্ষুন্ন রেখেছে। দেশের লুব্রিকেন্ট বাজারে ২৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিয়ে এমজেএল এখন শীর্ষ লুব্রিকেন্টস ব্রান্ড। ২০১৯ -২০২০ অর্থ বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে লুব্রিকেন্ট থেকে এর ৫২৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা আয় হয়েছে। যদিও করোনার প্রভাবে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৯ শতাংশ আয় কমে গেছে।
এমজেএল-এর আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং পরিবহন খাত লুব্রিকেন্টের প্রধান গ্রাহক। রকিবুল কবির বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে আমাদের বিপণন ব্যবস্থা খারাপ হয়েছিল। এখন আমরা আমাদের ব্যবসায়টিকে করোনাকালের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, কিছু স্থানীয় আমদানিকারক নিম্নমানের লুব্রিক্যান্ট নিয়ে আসছেন। নিম্নমানের এবং সস্তা লুব্রিকেন্টের আমদানি বাড়ছে। এতে জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলি ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদকরা লুব্রিক্যান্টের বৃহত্তম বেসরকারি ক্রেতা।
দেশের কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো মোট লুব্রিক্যান্ট চাহিদার ৩০শতাংশ ব্যবহার করে। লুব্রিক্যান্টের মোট চাহিদার প্রায় ৬০শতাংশ ব্যবহার করে অটোমোবাইল খাত। গত অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে লুব্রিক্যান্ট ব্যবসায় মন্দা সত্ত্বেও এমজেএল এর সম্মিলিত রাজস্ব কিছুটা বেড়ে ১৬২০ কোটি ৬১ লাখ টাকা হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, তাদের বেশিরভাগ রাজস্ব আসে সহযোগী ওমেরা পেট্রোলিয়াম এবং ওমেরা সিলিন্ডার্স থেকে। উভয়ই এলএনজি ব্যবসায় সঙ্গে যুক্ত। তবে এমজেএলের একীভূত নিট মুনাফা ৩% বৃদ্ধি পেয়ে ১৬১ কোটি ৩১লাখ টাকা হয়েছে এবং শেয়ার প্রতি তার আয় হয়েছে ৪৯.৯২ টাকা।২০১১ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত এমজেএলের পরিশোধিত মূলধন ৩৩১দশমিক ৭৫ লাখ টাকা। কোম্পানির স্পনসর এবং ডিরেক্টরদের ৭১.৫৩%, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ১৯.৫২%, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ০.২৩% এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৮.৭2২% শেয়ার রয়েছে। গত রবিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানির শেয়ারের সর্বশেষ দাম ছিল ৯৯.৯০ টাকা। এর শেয়ারের দাম গত দুই মাসে ৩৯% বেড়েছে।
Leave a Reply