1. paribahanjagot@gmail.com : pjeditor :
  2. jadusoftbd@gmail.com : webadmin :
রবিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
আগামীকাল থেকে বিরতিহীন ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ শিপিং কর্পোরেশনের বহরে ২১টি জাহাজ যুক্ত হবে : নৌপ্রতিমন্ত্রী টাঙ্গাইলে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে দুর্বৃত্তের আগুন ‘দুর্নীতিগ্রস্ত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে আর থাকবে না’ কক্সবাজার-দোহাজারী রেল লাইন : প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন, শেষ হলো অপেক্ষা সড়ক দুর্ঘটনার ৩৫% বাঁক ও ক্রসিংয়ে, বাঁক সোজা করার সুপারিশ সংসদীয় কমিটির বঙ্গবন্ধু টানেলে রেসের ঘটনায় ৫ গাড়ি জব্দ : দুজন গ্রেপ্তার অক্টোবরে ৪২৯ সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৭ জন নিহত, ড্রাইভার মারা গেছে ১২০ জন : যাত্রী কল্যাণ সমিতি বিমানের কোটি কোটি টাকা পাওনা রয়েছে এমন অনেক ট্রাভেল এজেন্সির অস্তিত্ব নেই : প্রতিমন্ত্রী মেট্রো রেলে আধা ঘন্টায় উত্তরা থেকে মতিঝিল

হাওর পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা

ড. মো. হুমায়ুন কবীর
  • আপডেট : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আমরা জানি, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রায় সাতটি জেলার ৪৭টি উপজেলা নিয়ে হাওর এলাকা বিস্তৃত। এটি বাংলাদেশের একটি বিশেষ ভৌগোলিক অঞ্চল। অর্থনীতিতে রয়েছে এর বিশেষ অবদান। এখানে সারা বছরে মাত্র একটি ফসল বোরো ধানের আবাদ হয়ে থাকে। কাজেই এ অঞ্চলকে বোরো ধানের জন্য শস্যভান্ডার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। সেজন্য দেশের মোট বোরো ফসলের এক-পঞ্চমাংশ এ অঞ্চলে চাষ ও উত্পাদিত হয়, যে কারণে প্রতি বছর নিরাপদে হাওরের ফসল ঘরে উত্তোলন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি দেশের মোট খাদ্য উত্পাদন ও খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। সেখানে যে শুধু ধানই হয়, তা নয়। সেখানে পানির মধ্যে বেঁচে থাকে হাজার রকমের দেশি প্রজাতির মাছ। পালিত হয় হাঁসের পাল। তাছাড়া প্রাকৃতিকভাবে অতিথি পাখপাখালি তো রয়েছেই।
হাওরের পানিতে হাঁস ও মাছের চাষ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। যেহেতু হাওরে বছরে একটিই বোরো ফসল হয়, সেজন্য সেখানে বছরের প্রায় ছয়-সাত মাস কৃষকদের ঘরে বসে থাকতে হয়। একে তো পানির জন্য স্বাভাবিক চলাচল বিপন্ন হয়, অন্যদিকে তাদের কোনো কাজকর্ম থাকে না। সে সময় পানিতে মাছ ধরা ও হাঁস পালন করা অত্যন্ত লাভজনক। সেজন্য বর্ষা মৌসুমে পর্যটকেরা যখন হাওরে বেড়াতে যায়, তখন সেখানে তারা প্রাকৃতিক এসব ভাসমান হাঁসের খামার দেখতে পায়। দূর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে থাকা এসব হাঁসের পালকে তারার মেলা মনে হয়। কাজেই একদিকে আর্থিক লাভবান হওয়ার সুযোগ, অন্যদিকে পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ—দুটিই হয়ে থাকে।
এবারের করোনাকালে ভ্রমণপিপাসুদের এসব ভিন্নমাত্রার প্রাকৃতিক বিষয় ব্যাপকভাবে টানছে। নেত্রকোনা হাওর এলাকায় রয়েছে উচিতপুরসহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান। তেমনিভাবে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখোলা, চামড়াবন্দর, মিঠামইন, কামালপুর, তাড়াইল, নিকলি, কুলিয়ারচর, বাজিতপুর—এসব এলাকায় একাধিক ভ্রমণ স্পট রয়েছে; যেখানে ইচ্ছা করলেই সহজে চলে যাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে টেলিভিশন ও বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়ায় এসব এলাকার বিভিন্ন পর্যটকের ধারণকৃত ভিডিও ও ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর সেসব এলাকায় এখন ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। এসব এলাকায় কোনো ঘনবসতি নেই। বাড়িঘর অনেক দূরে দূরে অবস্থিত। তাই সেখানে মানুষের চলাচলও কম। আমরা এই সময়ে জনসমাগম এড়াতে চাই। আর সেজন্যই হাওর এলাকার পর্যটন যে কোনো স্বাভাবিক ও সাধারণ পর্যটনের চেয়ে অনেক নিরাপদ। তাই তো মানুষ এখন হাওরের দিকে ছুটছে।
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে যেতে হলে কিশোরগঞ্জ শহরের ভেতর দিয়ে করিমগঞ্জ রোডে ১০-১২ কিলোমিটার গেলেই একপাশে চামড়াবন্দর, অপর পাশে বালিখোলা নৌবন্দর। চামড়াবন্দর কিংবা বালিখোলা নৌবন্দর থেকে ট্রলারে ঘণ্টাখানেক চড়লেই মিঠামইন, কামালপুর এলাকায় হাওরের জন্য নির্মিত বিশেষ ধরনের ‘অল ওয়েদার রাস্তা’ দেখতে পাওয়া যাবে। এই রাস্তার বৈশিষ্ট্য হলো দুই ধারে দিগন্তজোড়া নয়নাভিরাম পানি আর পানি। সেখানে গেলে এটা সাগর না হাওর তা আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়বে। অন্যদিকে নিকলি, মানিকখালী, বাজিতপুর, ভৈরব ইত্যাদি জায়গা দিয়েও হাওরে প্রবেশ করা যায়। তাছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট এলাকা দিয়েও আলাদা আলাদাভাবে সেখানকার হাওরে প্রবেশ করা যায়।
বর্তমান মৌসুমটাই হাওরে বেড়ানোর জন্য সবচেয়ে ভালো সময়। কারণ ডিসেম্বর মাস থেকে পানি কমে গিয়ে বোরো ধানের আবাদ শুরু হয়ে যায়। অন্যদিকে বর্ষার শুরুতে কালবৈশাখীর ঝড়-বৃষ্টি আচমকা আক্রমণ করতে পারে। এতে সে সময় নৌকাডুবির মতো দুর্ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। তবে বর্ষা শেষ হয়ে গেলেও স্থায়ী কিছু হাওর রয়েছে, যেগুলোতে পানি কখনো শুকায় না। বরং শীতে এসব হাওরে অতিথি পাখির আনাগোনা বৃদ্ধি পায়। বিশ্ব ঐতিহ্যে স্থান পাওয়া টাঙ্গুয়ার হাওর, হাকালুকি হাওর এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখে আমরাও ঘরে বসে থাকতে পারিনি। আমিও আমার পরিবার নিয়ে একদিন ঢুঁ মেরে এলাম। পরে জানতে পেরেছি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ অনেকেই সেখানে বেড়িয়ে এসেছেন।
অন্য সময় এগুলো মানুষের দৃষ্টি এতটা কাড়তে না পারলেও করোনাকালে মানুষ ঘরে থেকে থেকে একগুঁয়ে হয়ে যাওয়ার কারণে দূরে কোথাও বেড়াতে না পেরে কাছাকাছি হাওরকেই ভ্রমণের তালিকায় স্থান দিচ্ছে। এসব এলাকা অনাদি-অনন্তকাল ধরে অবহেলিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের নিজ এলাকা এসব অবহেলিত হাওরে হওয়ায় তিনিই প্রথম সেখানে উন্নয়নের কার্যক্রম শুরু করেছেন। তিনি সেখানকার প্রতিটি বাড়িকে বিদ্যুতায়িত করেছেন, গড়ে তুলেছেন বিরল অল ওয়েদার সাবমারজিবল রাস্তা। এসব দেখার জন্যই মানুষের ভিড় দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। একবার যেহেতু অবহেলিত সেসব এলাকায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের হাতের ছোঁয়া পড়েছে—তা চলতেই থাকবে। আর এভাবেই হাওরাঞ্চলের গুরুত্ব দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিকটও বাড়বে। আর পর্যটনের অবারিত দ্বার উন্মোচনের আশা জাগিয়েছে এই করোনাকাল।
এই পর্যটনের সম্ভাবনা অত্যন্ত চমত্কার হতে পারে। কারণ এই সময়ে পর্যটক আসছে বলে সেখানকার অনেক কর্মহীন কৃষক, শ্রমিক, কুলি ও নিম্ন আয়ের মানুষের কিছু রোজগারের ব্যবস্থা হচ্ছে। কেউ নৌকা চালিয়ে, কেউবা ভ্যান-অটো চালিয়ে, আবার কেউ ছোটখাটো দোকান করে কিছু আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন। তাতে পিছিয়ে পড়া হাওরাঞ্চলের মানুষের রুজি-রোজগারের ব্যবস্থা হতে পারে। সামনের দিনে অল ওয়েদার রাস্তাগুলো সব একসঙ্গে সংযুক্ত হয়ে গেলে তা আরো আকর্ষণীয় হতে পারে। এভাবে দিনে দিনে একসময় এমনও হতে পারে, যেখানে হোটেল-মোটেলও গড়ে উঠবে। সম্ভাবনাময় এই বাংলাদেশে সবই সম্ভব। আজ যা স্বপ্ন, আগামী দিনে তা বাস্তবে রূপ নেবে না, তা কে বলতে পারে। হাওরে এমন রাস্তা হবে তা-ই বা কে ভেবেছিল? আমরা সেই সুদিনের অপেক্ষাতেই রইলাম।
 লেখক : কৃষিবিদ ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© 2020, All rights reserved By www.paribahanjagot.com
Developed By: JADU SOFT