1. paribahanjagot@gmail.com : pjeditor :
  2. jadusoftbd@gmail.com : webadmin :
শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
বৈশ্বিক বিমান সংস্থাগুলোর মুনাফা হবে তিন হাজার কোটি ডলার উত্তরা মোটর্স বাজারে এনেছে ইসুজুর দুই মডেলের বাস বাংলাদেশীদের জন্য ভ্রমণ ফি কমাল ভুটান পরিবহন চাদাবাজি : সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড দখল নিয়ে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র হবিগঞ্জ নিহত ৩, আহত ৫০ গতিসীমা নিয়ে বিতর্ক : শহরে বাইকের সর্বোচ্চ গতি ৩০ কিলোমিটার, মহাসড়কে ৫০ কর্মীরা গণহারে অসুস্থ, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ৯০ ফ্লাইট বাতিল মগবাজার রেল গেটে ট্রেনের ধাক্কায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের গাড়ি চুরমার নতুন দুটি বিদেশি এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম শুরু আগামী মাসে : অক্টোবরে চালু হচ্ছে থার্ড টার্মিনাল চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৯ মাসে ৪৩৫৫ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি ইউএস বাংলার বহরে যুক্ত হলো দ্বিতীয় এয়ারবাস ৩৩০

মোংলা বন্দরে সাড়ে ৩ কোটি টাকার পণ্যের হদিস নেই

আমির হোসেন আমু, মোংলা (বাগেরহাট) 
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২০

মোংলা বন্দরে হঠাৎ তৎপর হয়ে উঠেছে একটি চক্র। ঘোষণা অনুযায়ী পণ্য আমদানি না-করা, পণ্যবিহীন খালি কনটেইনার আসা ও আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য আমদানিসহ শুল্ক ফাঁকির বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। কাস্টমস শুল্ক বিভাগের গেল এক মাসের নজরদারিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এ বন্দরে দু’দফায় আসা আমদানি করা সাড়ে ৩ কোটি টাকা সমমূল্যের পণ্যের হদিস নেই। ঘোষণাপত্র ও কাগজে-কলমে থাকলেও মিল নেই বাস্তবে। বন্দরে আসা পণ্যের পরীক্ষায় ধরা পড়ে এসব গরমিল। সর্বশেষ গেল সপ্তাহে একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৩১ টন পণ্য আসার ঘোষণা থাকলেও পাওয়া গেছে মাত্র ৭ টন। বন্দরে আসা এ পণ্যের চালানটির ২৪ টনই পাওয়া যায়নি। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় পৌনে এক কোটি টাকা।

এর আগে অন্য এক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৫৬ টন পণ্যের (কাপড়ের) মধ্যে প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের ৪০ টন কাপড়ের খোঁজ মেলেনি। সিল ও লগ করা কনটেইনার থেকে পণ্য (কাপড়) গায়েব হয়েছে। চীন থেকে আসা দু’দফায় দুটি প্রতিষ্ঠানের সাড়ে ৩ কোটি টাকা সমমূল্যের পণ্যের কূল-কিনারা করতে পারছে না কাস্টমস। আর এ ক্ষেত্রে ৩ কোটি টাকার বেশি শুল্ক হারিয়েছে কাস্টমস। এ ছাড়া পণ্য আমদানির ঘোষণা থাকলেও খালি কনটেইনার আসার ঘটনা ঘটেছে বন্দরে। একের পর এমন ঘটনা মোংলা বন্দর ও কাস্টম কর্তৃপক্ষকে ভাবিয়ে তুলছে। তাই পণ্য চুরি ও দুষ্টচক্রের তৎপরতা, মানি লন্ডারিং এবং শুল্ক ফাঁকিসহ ত্রিমুখী প্রশ্ন মাথায় রেখেই নেপথ্যের ঘটনা উদ্ঘটনে এগোচ্ছে কাস্টমস।

জানা যায়, ঢাকার কোতোয়ালির আহসানুল্লা সড়কের ১/১২৫ ঠিকানার মেসার্স নামিরা এন্টারপ্রাইজ এলসির মাধ্যমে চীন থেকে ৩১ টন (৩১ হাজার কেজি) থান কাপড়ের রোল আমদানি করে। ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি কনটেইনারে কাপড়ের এ চালানটি মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে পৌঁছায় মোংলা বন্দরে। আর এ কাপড়ের চালানটি আসার পর কাস্টমস শুল্ক প্রদান প্রক্রিয়ায় ছাড় করাতে তেমন তৎপরতা ছিল না আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের। যে কারণে টানা ৫ মাস কনটেইনারে থাকা আমদানি করা কাপড়ের চালানটি বন্দরের কনটেইনার ইয়ার্ডে পড়ে থাকে। ২৯ সেপ্টেম্বর বন্দরের ইয়ার্ডে থাকা কাপড়ের কনটেইনারটি খোলা হয়। এ সময় আমদানিকারকের ঘোষণাপত্র অনুযায়ী ওজন করা করা হলে ৩১ টনের পরিবর্তে মাত্র ৭ টন কাপড় পাওয়া যায়। বাকি ২৪ টন কাপড় কোথায় গেল-তা নিয়ে হরেকরকম প্রশ্ন ওঠে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটির সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স আবুল হাসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মাসুদ রানা বলেন, মোংলা বন্দরের কনটেইনার ইয়ার্ডের নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে পণ্য (কাপড়) হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে আমদানিকারকের মানি লন্ডারিং অথবা কনটেইনার আসা জাহাজ ও পথিমধ্যে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করেন তিনি। সোমবার সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের মাধ্যমে সংগ্রহ করা মেসার্স নামিরা এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি পরশের সঙ্গে তার ব্যবহৃত (০১৯২১০৩৬৫১৪) মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি কাস্টমস ও সিঅ্যান্ডএফের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। পরে তার প্রতিষ্ঠানের মালিকের সঙ্গে ফোনালাপ করিয়ে দিতে ঘণ্টা খানেক পর আবার ফোন করতে বলেন। দ্বিতীয় দফায় দুপুর ২টার দিকে ওই নম্বরে ফোন করলে মুঠোফোনে পরশ নামের ওই ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন ও জানান প্রতিষ্ঠানের মালিক অসুস্থ থাকায় কথা বলা যাবে না।

এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যরে দুটি কনটেইনারে ৫৬ টন কাপড় আমদানি করে মেসার্স জিম অ্যান্ড জেসি কম্পোজিট লিমিটেড নামে অপর একটি প্রতিষ্ঠান। ওই দুটি কনটেইনারে ৬৬১ বেল্ট (রোল) কাপড় থাকার কথা থাকলেও পাওয়া যায় মাত্র ২১৬ বেল্ট কাপড়। বন্দরে আসার পরপরই কাস্টমসের পরীক্ষায় ৪৪৫ বেল্ট সমপরিমাণ ৪০ টন কাপড়ের সন্ধান মেলেনি। এ অবস্থায় কনটেইনারবাহী জাহাজ বিভিন্ন দেশ ও বন্দর ঘুরে মোংলা বন্দরে পৌঁছায়। এই সব বন্দর অতিক্রমকালে পথিমধ্যে নাকি মোংলা বন্দরে পৌঁছানোর পর ওই পণ্য (কাপড়) লোপাট কিংবা আমদানিকারক নামমাত্র এলসির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ (মানি লন্ডারিং) করেছে কিনা-ঘুরেফিরে এসব প্রশ্ন উঠছে। কনটেইনার থেকে পণ্য উধাও হওয়ার ঘটনা ছাড়াও আমদানি পণ্যের ঘোষণার বিপরীতে খালি কনটেইনার পৌঁছানোর ঘটনাও ঘটেছে মোংলা বন্দরে। ৩ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর মেসার্স সোবাহানাল্লা ট্রেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে পেম্পার্স, ডায়াপার ও পার্টি স্প্রে আমদানির ঘোষণায় ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি পণ্যবাহী কনটেইনার আসে। এ কনটেইনারে কোনো পণ্য মেলেনি। কাগজে-কলমে এ প্রতিষ্ঠানের নামে রাজশাহীর এক্সিম ব্যাংকে এলসি দেখানো হয়। বাস্তবে আমদানিকারক এ প্রতিষ্ঠানের নামে ওই ব্যাংকে কোনো অ্যাকাউন্ট এবং এলসি খোলার তথ্য-উপাত্ত খুঁজে পায়নি কাস্টমস। এ ঘটনায় শেষ পর্যন্ত কাস্টমস বাদী হয়ে শিপিং এজেন্টসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করে। এ বিষয়ে মেসার্স সোবাহানাল্লা ট্রেডের স্বত্বাধিকারী এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে তার প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার ও সুনাম নষ্ট করতে চক্রান্ত করছে।

অপরদিকে ১৩ আগস্ট টেনিসবল আমদানির ঘোষণা দিয়ে আনা প্রায় ৩০ কোটি টাকা সমমূল্যের ৮০ টন আমদানি নিষিদ্ধ পোস্তদানার চালান আটক করে কাস্টমসের শুল্ক ও গোয়েন্দা বিভাগ। এ ঘটনার ৩ দিন পর আমদানিকারক ঢাকার চকবাজারের মেসার্স তাজ ট্রেডার্স, মেসার্স আয়শা ট্রেডার্স ও মেসার্স ওসান ট্রেডার্স শিপিং এজেন্টের বিরুদ্ধে মামলা করে কাস্টমস। একই সঙ্গে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান দুটির অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়। মোংলা কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার সুমন দাস বলেন, আমদানি পণ্যের ঘোষিত মূল্যের ওপর ৯০ শতাংশ শুল্ক আদায় করে থাকে কাস্টমস। ঘোষণা অনুযায়ী আমদানি পণ্য না পাওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাগেরহাট চেম্বারের সভাপতি লিয়াকত আলী বলেন, এ ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে নানা শঙ্কা বিরাজ করছে। তবে ঘটনা খতিয়ে দেখতে লেডিং পয়েন্ট থেকে শুরু করে পণ্য খালাস হওয়া পর্যন্ত অনুসন্ধানী টিম গঠন করা জরুরি।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, মোংলা বন্দর জেটি সংরক্ষিত এলাকা। সিসি ক্যামরা ছাড়াও জেটি, ইয়ার্ড গেটে তৃতীয় স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী রয়েছে। এ বন্দরে আসা কনটেইনারজাত পণ্য খোয়া কিংবা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে মানি লন্ডারিংসহ ব্যবসায়িক দুষ্টচক্র মোংলা বন্দরের সুনাম নষ্ট করতে চাইছে বলে জানান তিনি। নেপথ্যের ঘটনা উদ্ঘাটনে যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন বলে জানান মোংলা কাস্টম হাউসের কমিশনার হোসেন আহম্মেদ।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© 2020, All rights reserved By www.paribahanjagot.com
Developed By: JADU SOFT