নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে ১১ দফা দাবিতে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের পণ্যবাহী নৌযান ধর্মঘট শুরু হয়েছে। সোমবার রাত ১২টার পর থেকে এই ধর্মঘট শুরু হয়।
বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. শাহ আলম ভূঁইয়া বলেন, ১১ দফা দাবিতে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ধর্মঘট চলছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে।তিনি বলেন, ২০১৮ সালে প্রথমে ১১ দফা দাবি তোলা হয়। এরপর নৌযান শ্রমিকেরা গত বছর তিনবার এই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করে। প্রতিবারই সরকার ও মালিকপক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভঙ্গ করে।
আজ মঙ্গলবার সকালে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের বরিশাল অঞ্চলের যুগ্ম সম্পাদক মাস্টার একিন আলী বলেন, শুধুমাত্র পণ্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে যদি আমাদের দাবিগুলো মানা না হয় তাহলে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে নৌযান ধর্মঘটের কারণে অনেক রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
ধর্মঘট ও কর্মবিরতি শুরুর আগেই গতকাল বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্যোগে নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক ডাকা হয়। কয়েক ঘণ্টার আলোচনায় শ্রমিকপক্ষ দাবি আদায়ে অনড় অবস্থানে থাকায় কোনো সমঝোতা ছাড়াই রাত ১১টায় বৈঠক শেষ হয়। তবে এরপরও বিআইডব্লিউটিএ মালিকপক্ষের সঙ্গে আরেক দফা বৈঠক করলেও আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি।
রাত সোয়া ১১টায় বৈঠক থেকে বেরিয়ে নৌ-শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সৈয়দ শাহাদাত হোসেন পরিবহন জগতকে বলেছেন, ‘বৈঠকে মালিকপক্ষ ত্রিপক্ষীয় কমিটি গঠন করে দাবি-দাওয়ার বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে আমাদের পক্ষে আর সময় দেওয়া সম্ভব নয়। কেননা আমরা এক বছর ধরে দাবি নিয়ে ঘুরছি, এ নিয়ে আন্দোলন করে আসছি। আমাদের দাবি-দাওয়া মানা হয়নি।’
রাজধানীর মতিঝিলের বিআইডব্লিউটিএ ভবনে সংস্থাটির চেয়ারম্যানের কক্ষে ত্রিপক্ষীয় এ বৈঠক হয়। এতে বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক, মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, ধর্মঘটরত শ্রমিক সংগঠনের পক্ষে নৌ-শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সৈয়দ শাহাদাত হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক এবং নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলমসহ দুই সংগঠনের নেতারা বৈঠকে যোগ দেন। মালিকদের পক্ষে যাত্রী পরিবহন (যাপ) মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম ও কার্গো ভ্যাসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হকসহ নেতারা বৈঠকে যোগ দেন।
গত ১৩ অক্টোবর রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম অধিদপ্তরের সামনে নৌ-শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ ঐক্য পরিষদের মানববন্ধন থেকে নৌযান ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। এর আগে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন।
নৌ-শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ ঐক্য পরিষদের ১৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- নৌযান শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও মাসিক খাদ্যভাতা প্রদান, সার্ভিস বুক খোলা, স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান ও কল্যাণ তহবিল গঠন, নৌযানের মাস্টারশিপ-ড্রাইভারশিপ (চালকদের যোগ্যতা নির্ধারণী) পরীক্ষায় অনিয়ম-দুর্নীতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নৌ অধিদপ্তর কর্তৃক শ্রমিকদের নানা ধরনের হয়রানি বন্ধ করা। নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ১১ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নিয়োগপত্র প্রদান, ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নৌ-শ্রমিকদের জন্য কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড, ফিশারিসহ অন্যান্য বেসরকারি খাতের নৌ-শ্রমিকদের জন্য কল্যাণ তহবিল গঠন, মাসিক খাদ্যভাতা প্রদান, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়ম ও হয়রানি বন্ধ করা।
Leave a Reply