জ্বালানি বাবদ বিমানের কাছে দুই হাজার একশ’ কোটি টাকার পাওনা আদায়ে বৃহস্পতিবার বৈঠক হয়। বৈঠকে জ্বালানি বিভাগ ছাড়াও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যাপারে জ্বালানি সচিব আনিছুর রহমান বলেন, ‘বিমানের পাওনার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে বিমান ‘রাইট অফ’ করার জন্য চিঠি দিয়েছে। মন্ত্রণালয় এই টাকা ‘রাইট অফ’ করতে পারে না। পদ্মা অয়েল কোম্পানিও করতে পারে না। করলে তারা চলবে কীভাবে। পদ্মাকে বিমান অথবা অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে টাকা দিতেই হবে। এটা বাড়তেই থাকবে না দেওয়া পর্যন্ত। এই বকেয়া আজকের না। মূলত ১০ বছর আগের বকেয়া। ২০০৯-২০১০ সালে এই বকেয়া হয়েছিল।’ সচিব বলেন, ‘বিমানের পাওনা ছাড়াও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অধীনে একটা ডিপো আছে। সেখানে পদ্মা জেট অয়েল সরবরাহ করে। ভাড়াসহ আরও বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একটা কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। আরও কিছু দেনা-পাওনা ছিল। কমিটি রিপোর্ট করলে পরে আবারও বৈঠক হবে।’
বৈঠক সূত্র জানায়, বিমান এই টাকা মওকুফ করে দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু প্রচলিত নিয়মে কোনও কোম্পানির পাওনা সরকার মওকুফ করতে পারে না। এই টাকা মওকুফের বদলে সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে বিমানকে ভর্তুকি বা ঋণ হিসেবে দিতে পারে।
বৈঠক সূত্র আরও জানায়, বিমানের তরফে বৈঠকের শুরুতেই বলা হয়, পদ্মা অয়েলের এই পাওনা ২০১৮-১৯ অর্থবছরের আগের। ফলে এই দেনা তাদের পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব নয়। বিপিসির তরফ থেকে বৈঠকে জানানো হয়, বিমান বরাবরই লোকসানের কথা বলে দেনা পরিশোধ করেনি। তবে এখন লাভের ধারায় ফিরলেও বিমান এই বকেয়া পরিশোধের কোনও উদ্যোগ নেয়নি; বরং বিমানের সঙ্গে একাধিক সমঝোতা বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে।
Leave a Reply