1. paribahanjagot@gmail.com : pjeditor :
  2. jadusoftbd@gmail.com : webadmin :
শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৯:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
পেট্রোনাস লুব্রিক্যান্টস বিক্রি করবে মেঘনা পেট্রোলিয়াম অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশে ভারতীয় সব ভিসা সেন্টার বন্ধ মন্ত্রী এমপিদের দেশত্যাগের হিড়িক : নিরাপদ আশ্রয়ে পালাচ্ছেন অনেকেই বাস ড্রাইভার নিকোলাস মাদুরো আবারও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ইউএস-বাংলার দশম বর্ষপূর্তি : ২৪ এয়ারক্রাফট দিয়ে দেশে বিদেশে ২০ গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা এয়ার ইন্ডিয়ার যাত্রী পরিবহন তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বিশ্বখ্যাত মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড রয়েল এনফিল্ড খুব শিগগিরই বাজারে আসছে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী এমটি কনসার্টো জাহাজে বাংলাদেশী নাবিকের মৃত্যুর তদন্ত দাবি লুব্রিকেন্ট আমদানিতে বাড়তি শুল্কায়নে ডলার পাচার বাড়বে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সম্পাদক ওসমান আলীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, অপসারণ দাবি

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে পর্যটকদের জন্য চালু হবে ‘ট্যুরিস্ট ট্রেন’

তৌফিকুল ইসলাম বাবর, চট্টগ্রাম
  • আপডেট : বুধবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২১

পর্যটকের কাছে ‘ট্যুরিস্ট ট্রেনের’ কদর বরাবরই অন্যরকম। এই ট্যুরিস্ট ট্রেন এবার চালু হতে চলেছে বাংলাদেশেও। শেষ হতে চলেছে পর্যটকদের আক্ষেপের দিন। রেলের ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চালু হচ্ছে দেশের এই প্রথম ট্যুরিস্ট ট্রেন। ইতোমধ্যে ৩৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৪টি বিলাসবহুল ট্যুরিস্ট কোচ আমদানিও করতে চলেছে রেলওয়ে। রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, পর্যটকরা যাতে ঢাকা থেকে সরাসরি পর্যটন শহর কক্সবাজার যাতায়াত করতে পারেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে ভ্রমণ করতে পারেন, সে জন্য এ ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত যে রেলপথটি হচ্ছে, সেটির কাজ শেষ হওয়ার পরপরই এ সার্ভিস চালু করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। ট্যুরিস্ট কোচ আমদানির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইনের কাজ শেষ হচ্ছে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে। ট্যুরিস্ট ট্রেন সার্ভিস উন্নত দেশের মতোই মানসম্মত হবে। পর্যটকরা এ ট্রেনে চট্টগ্রামও ভ্রমণ করতে পারবেন। ট্যুরিস্ট ট্রেন চালুর অংশ হিসেবে ‘প্রকিউরমেন্ট অব ৫৪ ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ ফর অপারেটিং ট্যুরিস্ট ট্রেন ফর ট্যুরিস্ট অব কক্সবাজার’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে রেলওয়ে। এ প্রকল্পের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কোচ আমদানির জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গত বছরের মার্চে রেলওয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি করে।

রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক (মেকানিক্যাল) মঞ্জুরুল আলম চৌধুরীকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন যুগ্ম মহাপরিচালক (অপারেশন) মুরাদ হোসেন ও রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন। আগস্টে এ কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। এর পর ডিপিপি তৈরি করে সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠায় রেলওয়ে। প্রস্তাবনায় ৫৪টি কোচের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি কোচ আমদানিতে খরচ পড়বে ছয় কোটি ৬০ লাখ টাকা। প্রকল্প ব্যয়ের ৭৮ কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ সরকার। অবশিষ্ট ২৭৮ কোটি টাকা ধরা হয়েছে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে। ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতেও প্রকল্প রাখা হয়েছে। রেলওয়ের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশকে মাথায় রেখে ট্যুরিস্ট ট্রেন চালুর জন্য রেলওয়ের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা ইতোমধ্যেই রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে এটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে যাবে। সব কিছু ঠিক থাকলে কক্সবাজার রেললাইন চালুর আগেই ট্যুরিস্ট ট্রেন চালানোর সব আয়োজন সম্পন্ন হয়ে যাবে। ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রেলপথে সাধারণ ট্রেনের পাশাপাশি প্রতিদিন ঢাকা থেকে দুই জোড়া ট্যুরিস্ট ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে চালানো হবে এক জোড়া ট্রেন। সবক’টি কোচ হবে আলিশান ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। পর্যটক যাত্রীদের সুবিধার্থে এসব কোচে সুপরিসর বাথ সার্ভিস ছাড়াও থাকবে রেলের নিজস্ব ক্যাটারিং সার্ভিস, সার্বক্ষণিক গার্ড ও ওয়েটার সুবিধা। যাত্রাপথে স্বচ্ছ আয়নায় বাইরের প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগের ব্যবস্থাও থাকবে।
যেসব কোচ আমদানি করা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে ছয়টি মিটারগেজ ট্যুরিস্ট কার (সিটি), ১৩টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্লিপার কার (ডব্লিউজেসি), ২২টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার কার (ডব্লিউইজেসিসি), সাতটি পাওয়ার কার (ডব্লিউপিসি), শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ডাইনিং কার ও গার্ড ব্রেক (ডব্লিউজেডিআর)।
চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে। প্রকল্পের আওতায় ১২৮ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে দোহাজারী থেকে রামু পর্যন্ত ৮৮ কিলোমিটার ও রামু থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় আবার রামু থেকে মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা ঘুমধুম পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার রেলপথও নির্মাণ করা হবে। চীনের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিআরইসি) ও চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) এবং বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ও ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড বিভিন্ন লটে বিভক্ত এসব কাজ করছে। ২০২২ সালের জুনের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষে রেললাইনটি ট্রেন চলাচলের উপযোগী হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© 2020, All rights reserved By www.paribahanjagot.com
Developed By: JADU SOFT