1. paribahanjagot@gmail.com : pjeditor :
  2. jadusoftbd@gmail.com : webadmin :
মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৩৭ অপরাহ্ন

ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করে হাঁটাবান্ধব পরিবেশ ও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ঢাকা শহরে ব্যক্তিগত গাড়িতে ৭ শতাংশ ট্রিপ হয়। এজন্য সড়কের ৭০ ভাগ জায়গা দখল করে রাখে। অপরদিকে বাস, রেল, নৌপথ, হাঁটা ও রিকশা এ সকল মাধ্যমে ৯৩ শতাংশ চলাচল হলেও এ মাধ্যমগুলির জন্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়নি। পরিকল্পনায় হাঁটা ও গণপরিবহনকে প্রাধান্য না দিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িকে প্রাধান্য দেয়ার ফলে যানজট, জ্বালানী দূষণ এবং দূর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে আমরা শহরকে দূষণের শহর, যানজটের শহর আর অনিরাপদ শহরে রূপান্তর করেছি।
আজ ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ, কারফ্রি সিটিস এলাইন্স, কারফ্রি সিটিস এলাইন্স বাংলাদেশ এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর যৌথ আয়োজনে “বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস ২০২১ : নগর পরিকল্পনায় আমাদের ভাবনা” শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ক ফর এ বেটারবাংলাদেশ ট্রাস্ট এর পরিচালক গাউস পিয়ারী। ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট এর প্রকল্প কর্মকর্তা মোঃ আতিকুর রহমান এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন হেল্থ ব্রীজ ফাউন্ডেশন অব কানাডার আঞ্চলিক পরিচালক দেবরা ইফরইমসন। অতিথি আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতি খন্দকার এম আনসার হোসেন, নাসফ এর সভাপতি মুঃ হাফিজুর রহমান ময়না, সিয়াম এর নির্বাহী পরিচালক মাসুম বিল্লাহ এবং এসপিকে এর নির্বাহী পরিচালক এনামুল হক।
দেবরা ইফরইমসন বলেন, নগর যাতায়াত ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত গাড়িবান্ধব প্রকল্প (ফ্লাইওভার, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) থেকে বের হয়ে অযান্ত্রিকযান, পথচারীদের প্রাধান্য দেয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। যানজটের কারণে শুধু ঢাকায় দৈনিক ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। যার আর্থিক ক্ষতি বছরে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। উন্নয়নকে আমরা জিডিপি দিয়ে মূল্যায়ন করছি। যেখানে মানুষের মূল্যায়ন নেই।
খন্দকার এম আনসার হোসেন বলেন, ঢাকা শহরে বাস, রিকশা, সাইকেল ও হেঁটে যাতায়াত বেশি হলেও এ মাধ্যমগুলো মাত্র ৩০ ভাগ সড়ক ব্যবহারের সুবিধা পাচ্ছে। অথচ সাড়ে ৫ শতাংশ লোকের ব্যক্তিগত গাড়ি আছে। অল্প সংখ্যক এ মানুষের জন্য নগর উন্নয়ন করতে গিয়ে আমরা সাধারন মানুষের অধিকারকে ক্ষুন্ন করছি। আমাদের এলাকা ভিত্তিক উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। Ksrm
মুঃ হাফিজুর রহমান ময়না বলেন, ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আধুনিক গণপরিবহনের ব্যবস্থা করতে হবে। সড়কে যে মাধ্যমে যতটুকু যাতায়াত হয় তাকে ততটুকু জায়গা দিতে হবে। ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিং এর জন্য ১৬০ বর্গফুট জায়গা নেয় এবং ৯০ ভাগ সময় পার্কিং অবস্থায় থাকে। ২০০২ সালে টু-স্ট্রোক চালিত থ্রি হুইলার বন্ধ করার পর বায়ূর মান কিছূটা ভালো হলেও অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রাইভেট কারের বৃদ্ধি বায়ূর মান পূর্বের চেয়ে খারাপ হয়েছে।
মাসুম বিল্লাহ বলেন, সারা বিশ্বে যখন প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে সেখানে আমরা চলছি উল্টো পথে। নগর পরিকল্পনা মানুষের জন্য হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে মানুষকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে না। এনামুল হক বলেন, নগরকে আধুনিকায়ন করতে গিয়ে আমরা গণপরিসরকে উপেক্ষা করে শপিংমল এবং গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। যার ফলে আমরা স্বাস্থ্যকর পরিবেশ আর বিনোদনের জায়গা হারিয়ে পেয়েছি যানজট আর দূষণ।
গাউস পিয়ারী বলেন, ঢাকা শহরে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩ কোটি বেশি ট্রিপ হয়। এর মধ্যে হাঁটা ও গণপরিহনে বেশি যাতায়াত হলেও পরিকল্পনায় এ মাধ্যমগুলো উপেক্ষিত। গত ১০ বছরে যানজট নিরসনে আমরা প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছি। কিন্তু তার সুফল মিলছে না। বরং ১০ বছর আগের চেয়ে বর্তমানে গাড়ির গতি কমে দাঁড়িয়েছে ঘন্টায় ৭ কি:মি:। নীতিমালা অনুযায়ী পথচারীদের জন্য পায়ে হেঁটে চলার পরিবেশের মানোন্নয়ন, বিশেষত শিশু, মহিলা, বয়স্ক এবং শারীরিক বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের ব্যবহার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© 2020, All rights reserved By www.paribahanjagot.com
Developed By: JADU SOFT