বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা আছে, অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দিয়ে ক্ষতিপূরণের হার আরও ৯ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যায়। ক) কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর জন্য পলিসির ক্ষতিপূরণ অঙ্ক + আরও ৯ গুণ = ২,০০,০০০/- (সর্বোচ্চ দুই লাখ) টাকা পর্যন্ত পাওয়া যেতে পারে। খ) কোনো সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পলিসির ক্ষতিপূরণ অঙ্ক + আরও ৯ গুণ = ৫,০০,০০০/- (সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ) টাকা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ আছে। প্রতি যাত্রীকে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হলেও ৯ গুণ অতিরিক্ত প্রিমিয়াম আদায় করতে হবে।
সরকারের রাজস্ব আয় এবং জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য সরকারের বিভিন্ন বিভাগ কাজ করছে। তারা কোনোভাবেই সরকারের আয়ের উৎস ও সরকারি সিদ্ধান্তের বিপরীতে কাজ করতে পারে না।
কিন্তু সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮-এর ৬০ ধারা অনুযায়ী মোটরযানের কোনো ক্ষতি হলে সড়ক পরিবহন আইনের ৫৩-এর অধীনে মালিকরা তাদের অনুদানে গঠিত আর্থিক সহায়তা তহবিল থেকে কোনো ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন না। এ কথার মানে এই নয় যে, বীমা করা যাবে না। সরকার আইনের মাধ্যমে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ২০১০ গঠন করেছে। সরকারের আইন বাস্তবায়নে পুলিশ বাহিনী রয়েছে। তাদের উপেক্ষা করে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে কিনা ভেবে দেখার বিষয়।
আমরা সাধারণত নতুন বা রিকন্ডিশন গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের পর পাঁচ বছরের জন্য কমপ্রিনসিভ বা সব ধরনের ক্ষতির বীমা করে থাকি। এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। যদি প্রিমিয়াম কিছুটা কমানো যায় তা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের রেটিং কমিটি বিবেচনায় নেবে। থার্ড পার্টি বীমা অবশ্য চালু করতে হবে, তা যে নামেই হোক বা যে ফরম্যাটেই হোক না কেন, পাঁচ বছর মেয়াদ অতিক্রান্তের পর পরবর্তী পাঁচ বছর একটি নির্ধারিত মূল্য ধরে গাড়ির বীমার ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে কোনো ব্যক্তি নিজের গাড়ি, থার্ড পার্টির গাড়ি, প্যাসেঞ্জার ও রাস্তায় চলাচলকারী পথিক সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সার্কুলার অনুযায়ী ৯ গুণ প্রিমিয়াম বাড়িয়ে ৯ গুণ ক্ষতিপূরণ প্রদান, যা ১০ বছর পর গাড়ির লাম্পসাম মূল্য ধরে করা যেতে পারে। এই প্রক্রিয়ার ফলে ব্যক্তি ও সম্পদ নিরাপদ থাকবে, বীমা কোম্পানিগুলোর আয় বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে।
লেখক : ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও, ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স কো. লি:।
Leave a Reply