রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স এন্ড ডিলারস এসোসিয়েশন-বারভিডায় অবশেষে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
আজ বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা থেকে মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ছাদেক আহমেদকে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করা হয়। নতুন প্রশাসককে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সঠিক ভোটার তালিকা প্রণয়নসহ কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আগে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গত ৯ ডিসেম্বর বারভিডার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু সদস্য পদ বাতিল ও ভোটার তালিকায় স্থান না পাওয়া বারভিডার দুই সদস্য আদালতের শরণাপন্ন হলে গত ৫ ডিসেম্বর সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ নির্বাচন স্থগিত করে দেয়।

আবেদনকারীদের একজন ছিলেন বারভিডার বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম আনোয়ার সাদাত। নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ ছিলো আগামীকাল ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। মেয়াদপূর্তির একদিন আগেই প্রশাসক বসলো দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই বানিজ্য সংগঠনটিতে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়, উচ্চ আদালত নির্বাচন স্থগিত করার পর বারভিডা সভাপতি আবদুল হক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালক বাণিজ্য সংগঠনের (ডিটিও) কাছে কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর আবেদন করেছেন।
গাড়ি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বারভিডার নির্বাচন স্থগিত কিন্তু মন্ত্রণালয় কমিটির মেয়াদ না বাড়িয়ে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে।

আদেশে বলা হয়, যেহেতু এই বাণিজ্য সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ আগামী ৩১/১২/ ২০২১ তারিখে উক্তীর্ণ হবে, যেহেতু মেয়াদ উক্তীর্ণ হওয়ার সময়ের মধ্যে বাণিজ্য সংগঠনবিধিমালা অনুযায়ী নতুনভাবে তফশীল দিয়ে কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা চলমান কমিটির পক্ষে সম্ভব নয়, সেহেতু বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স এন্ড ডিলারস এসোসিয়েশন-বারভিডা এর কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সঠিক ভোটার তালিকা প্রণয়নসহ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ছাদেক আহমেদকে প্রশাসক নিয়োগ করা হলো।
যে কারণে বারভিডায় প্রশাসক : বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স এন্ড ডিলারস এসোসিয়েশনের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির অনিয়ম,অব্যবস্থাপনার কারণেই সংগঠনটিতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বারভিডার সদস্যরা। এর আগে বারভিডায় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তা নিরপে তদন্তের জন্য নিজ সংগঠনে প্রশাসক নিয়োগের আবেদন জানিয়েছিলেন বারভিডার সিনিয়র সহসভাপতি এস এম আনোয়ার সাদাত।

বারভিডার বর্তমান কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে সাধারণ সদস্যদের কাছ থেকে আদায়কৃত টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা না দেওয়া এবং পিকনিকের নামে সংগঠনের টাকা তছরুপসহ অনিয়মের প্রচুর অভিযোগ তোলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগটি ২০২০ সালের ২৭ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালক বাণিজ্য সংগঠন (ডিটিও) শাখায় জমা দেওয়া হয়।
এর আগেই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের জের ধরে ২৭ জুলাই বারভিডার সিনিয়র সহসভাপতি এস এম আনোয়ার সাদাতকে সংগঠন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে সংগঠনের সাধারণ সদস্যপদ থেকেও এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সময় এস এম আনোয়ার সাদাত গণমাধ্যমকে বলেন, অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্বোচ্চার থাকায় মুখ বন্ধ করতেই আমাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। কিন্তু বহিষ্কার করে এসব অনিয়ম ধামাচাপা দেওয়া যাবে না। তিনি অভিযোগ করেন, করোনা মহামারির সময় গত ৪ এপ্রিল বারভিডার প্রত্যেক সদস্যদের কাছ থেকে ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা করে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। সদস্য, সদস্যদের বাইরে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, এমনকি জাপানের গাড়ি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও বিপুল টাকা জমা হয়। কিন্তু গত চার মাস পার হলেও সেই টাকা প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে তো জমা দেওয়া হয়ইনি; উপরন্তু ইতিমধ্যে দুটি নিয়মিত সভায়ও এর কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বার্ষিক পুনর্মিলনী এবং বার্ষিক সাধারণ সভায় সদস্যদের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা চাঁদা নিয়ে এবং সংগঠনের তহবিল থেকে টাকা তছরূপ করা হয়েছে। এসব অনিয়মের সুষ্ঠু-নিরপে তদন্তের স্বার্থে বারভিডার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে সংগঠনে প্রশাসক নিয়োগ করে এসব অনিয়ম উদ্ঘাটন করা হোক।
বহিষ্কার করার কারণেই এসব অভিযোগ কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এসব অভিযোগ দালিলিক প্রমাণসহ লিখিতভাবে করেছি। ভিত্তিহীন কোনো অভিযোগ করিনি। বর্তমান কমিটি থাকলে এর সঠিক তদন্ত হবে না বলেই প্রশাসক নিয়োগ করে তদন্তের দাবি করেছি।
এদিকে বারভিডার একাধিক সদস্য বলেছেন, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনে প্রশাসক নিয়োগ অত্যন্ত দু:খজনক। বর্তমান কমিটি তাদের কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে প্রশাসক ডেকে এনেছে।
Leave a Reply