কিন্তু প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললেই চোখে পড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংবাদ। গত ৬ জানুয়ারি দৈনিক সমকালের লোকালয় পাতায় ‘চার জেলায় সাতজন নিহত’ শিরোনামে সংবাদটি পড়েছি। এ রকম সংবাদ প্রতিদিন টেলিভিশন, পত্রিকা ও অনলাইন মাধ্যমে দেখছি। কিন্তু এর লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না।
সড়ক দুর্ঘটনা সবার কাছে এক আতঙ্কের নাম। সড়কের মড়কে খালি হচ্ছে হাজারো মায়ের কোল। সরকারের একার পক্ষে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন সংগঠন, এনজিও, ছাত্রসমাজ, যাত্রী, চালক, পথচারীসহ সবাইকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। তবে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উদ্যোগ সরকারই নিতে পারে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকার নতুন আইন করেছে। এ আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে সরকারের আরও কঠোর হওয়া উচিত। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সর্বপ্রথম সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলো খতিয়ে দেখা আবশ্যক। এসব দুর্ঘটনার কারণগুলো হচ্ছে- সচেতনতার অভাব, অদক্ষ ও অশিক্ষিত চালক, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, চালকদের প্রশিক্ষণের অভাব, যাত্রী ও পথচারীদের অসচেতনতা, দুর্নীতি, চলন্ত অবস্থায় চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহার, অপরিকল্পিত ও ভঙ্গুর সড়ক, ওভারক্রসিং, অতিরিক্ত গতি, ওভারব্রিজের স্বল্পতা, ট্রাফিক আইন অমান্য করা, ট্রাফিক পুলিশের গাফিলতি, অনিয়ম, লাইসেন্সবিহীন গাড়ি ও চালক এবং বেপরোয়া গাড়ি চালানো। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। গণমাধ্যম এ বিষয়ে সহায়ক ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে গণমাধ্যমকে দক্ষতার সঙ্গে আরও অধিক বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।
যুগ্ম মহাসচিব, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)
Leave a Reply