বিশ্বের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ বেয়াদব একসময় মাঝির ঘাট-মাওয়া রুটে সী-বোট পরিচালনা করতো। ওদের কাছে নাজেহাল হয়নি এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া যাবে বলে আমার মনে হয় না। আজ সেই সী-বোট নিথর হয়ে নদী তীরে পদ্মার ঢেউয়ের সাথে দুলছে আর কিনারায় বসে ঢেউ গুনছে সেই প্রসিদ্ধ ও প্রতিষ্ঠিত বেয়াদবেরা।

কথাগুলো লিখলাম এ কারনে যে, কোন কিছুই চিরস্থায়ী নয়। রুপ-যৌবন, ধন-সম্পদ, ক্ষমতা-প্রতিপত্তি এমনকি জীবনও। একমাত্র ভালো সেবা দিয়ে, ভালো ব্যবহার দিয়ে মানুষের মন জয় করা সম্ভব।

আমাদের জেলায় দীর্ঘদিন যাবৎ অত্যন্ত নিম্নমানের বাস দিয়ে যাত্রী সেবা দিয়ে আসছিলো বাস মালিকেরা। পদ্মা সেতুর সুবাদে এখন ঢাকা থেকে রাষ্ট্রায়ত্ব বিআরটিসি বাস আসতে শুরু করেছে মাত্র। ভবিষ্যতে সম্ভাবনা দেখা দিলে আরো বিলাসবহুল বাস সার্ভিস যারা দেয় তারাও শরীয়তপুরে আসতে চাইবে। আসতে চাওয়াটাই স্বাভাবিক। অথচ এতদিন যারা নিম্নমানের বাস দিয়ে যাত্রী সেবা দিয়েছে তারা বাগড়া দিচ্ছে। তাদের ভাষ্য এতদিন তারা সেবা দিয়েছে, এখন সুযোগ এসেছে তাই তারাই ব্যবসা করবে।
এতদিন সেবা দিয়েছেন এটাতো আপনারা বলছেন, আমরা সেবা পেয়েছি না নির্যাতন ভোগ করেছি সেটা আমাদের অন্তরেই জানে।

বিআরটিসি বাস চলতে দিতে বাধ্য হলেন আজ, তবে শরীয়তপুর সদরের যাত্রী হিসাবে আমরা উঠতে পারবো না। এটা খুবই দুঃখজনক। আমরা কী এখনও পরাধীন? আমরা কী এখনও জিম্মি? সেই জিম্মি হওয়াটা কী প্রশাসন ও স্থানীয় নেতাদের প্রচ্ছন্ন ছত্রছায়ায়?

এভাবেই একদিন জিম্মি ছিলাম সী-বোট মালিক-শ্রমিকদের কাছে। আজ ওদের কেউ ভিক্ষাও দিবে না। অন্যদের বেলায়ও যেন সী-বোট মালিকদের পরিনতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা উচিৎ। সময় বড় খারাপ জিনিস। কারো জন্যই সে অপেক্ষা করতে চায় না।
আমাদের এলাকায় কি ভিন্ন কোন প্রশাসন? আমাদের এলাকায় কি ন্যায়পরায়ন কোন নেতা নেই? থাকলেও হয়তো কোন উত্তর দিবেন না। কারন নেতার পক্ষে আমার মত আম জনতার এই লেখা পাঠ করার সময় নেই। উত্তর পেলে বুঝতে পারতাম আসলে বিষয়টা কী।
আসাদুজ্জামান জুয়েল : জেনারেল সেক্রেটারি, জেলা টেক্সেস বার এসোসিয়েশন, শরিয়তপুর।
Leave a Reply