♦ নৌপথটি ফেরি চলাচলের উপযোগী নয় বলে প্রতিবেদন
♦ নাব্যতা সংকটে ফেরির বিকল্প হিসেবে চালু করা লঞ্চ চলাচলও বন্ধ
গাইবান্ধার ফুলছড়ির বালাসী ও জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ফেরিঘাট টার্মিনালে ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের সৌন্দর্য দেখতে গিয়ে স্থানীয় লোকজন বিশাল দুটি প্রবেশদ্বারের সঙ্গে ভেতরে বাস টার্মিনাল, টোল আদায় বুথ, পুলিশ ব্যারাক, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন, জেনারেটর সাবস্টেশন, বিশ্রামাগার, রেস্তোরাঁ দেখে মুগ্ধ হলেও তাদের দীর্ঘ নিঃশ্বাস থামেনি। কারণ বালাসী-বাহাদুরাবাদ ঘাট নৌপথে এখনো কাঙ্ক্ষিত ফেরি সার্ভিসই চালু হয়নি। অন্যদিকে পরীক্ষামূলক লঞ্চ চলাচল শুরু হলেও বালাসীঘাট ও বাহাদুরাবাদ ঘাটে ডুবোচরের কারণে গত সোমবার দুপুর থেকে তা বন্ধ হয়ে গেছে।

সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে যমুনা নদীর বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর চাপ কমানোর পরিকল্পনা নিয়ে গাইবান্ধার বালাসী থেকে জামালপুরের বাহাদুরাবাদ পর্যন্ত ফেরি রুট খনন এবং ঘাটের অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ)। দুই দফায় সংশোধনের মাধ্যমে টাকার অঙ্ক ও মেয়াদ বাড়িয়ে গত জুনে ১৪৫ কোটি টাকার এ প্রকল্প শেষ হয়। শেষ মুহূর্তে বালাসী-বাহাদুরাবাদ রুটটি ফেরি চলাচলের উপযোগী নয় বলে প্রতিবেদন দেয় বিআইডাব্লিউটিএ গঠিত একটি কারিগরি কমিটি। এ কারণে বারবার উদ্যোগ নিয়েও এ রুটে ফেরি চালু করতে পারেনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। অবশেষে গত ৯ এপ্রিল বালাসীঘাট থেকে বাহাদুরাবাদ পর্যন্ত নৌপথে পরীক্ষামূলক লঞ্চ চলাচল চালু করা হয়। কিন্তু নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে তা-ও বন্ধ হয়ে গেছে।

গতকাল সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখার সময় সংস্কৃতিকর্মী মানিক বাহার বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্রের নাব্যতা সংকটের কথা আগে না ভেবে কেন এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হলো, তা বোধগম্য নয়।’
স্থানীয় সমাজকর্মী আফতাব হোসেন জানান, ২০১৭ সালে ১৩৬ কোটি টাকার ঘাট চালুর প্রকল্পটি একনেকে পাস হয়। পরে বরাদ্দ আরো বাড়ানো হয়। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে অবকাঠামো নির্মাণ করে শুধু লঞ্চ সার্ভিস চালু করায় স্থানীয় মানুষ ও যাত্রীরা ক্ষুব্ধ। এই নৌপথে ফেরি চলাচল করলে উত্তরের সব জেলার মানুষ জামালপুর হয়ে কম খরচে ঢাকাসহ অন্যান্য এলাকায় যাতায়াত করতে পারত। ট্রাকে মালপত্র পরিবহনও সহজসাধ্য হতো।

ফেরি বা টানেলের দাবিতে আন্দোলনকারী সংগঠন গাইবান্ধা নাগরিক মঞ্চের আহ্বায়ক ও জেলা বারের সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘ফেরি চলাচলের নামে সরকারকে ভুল তথ্য দিয়ে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। নিয়মিত ড্রেজিং করার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ তা করেনি। আমরা এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্রহ্মপুত্রে টানেলের জন্য আবেদন করছি। একই সঙ্গে নাগরিক মঞ্চের পক্ষ থেকে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।’
এ ব্যাপারে বিআইডাব্লিউটিএর সিরাজগঞ্জ বাঘাবাড়ী নদীবন্দরের পোর্ট অফিসার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বালাসী-বাহাদুরাবাদ নৌ টার্মিনাল দুটি ফেরি চলাচলের সব সুবিধা নিয়ে তৈরি আছে। সেখানে অন্তত এক হাজার বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যান দাঁড়ানোর সুযোগ আছে। তবে ফেরি চালুর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগের এখতিয়ার। সমীক্ষা শেষে তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।’
Leave a Reply