যুক্তরাষ্ট্র ও ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি এশিয়ার দেশগুলোর প্রতি জ্বালানি ও জরুরি খনিজ সম্পদের সরবরাহ চেইনে বহুমুখী উৎস তৈরির আহ্বান জানিয়েছে। মূলত রাশিয়া ও চীনের মতো দেশগুলোর ওপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই গতকাল এ আহ্বান জানানো হয়। খবর রয়টার্স।
ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল ও মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী জেনিফার গ্র্যানহোম বলেন, রাশিয়ার ওপর অব্যাহত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট ইন্দো-প্যাসিফিক দেশগুলোকে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে সরে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অঞ্চলটি যত বেশি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনবে, তত বেশি চীনের ওপর নির্ভরতা বাড়বে। কারণ চীন বিশ্বের শীর্ষ সৌর জ্বালানি প্রযুক্তি সরবরাহকারী দেশ। অন্যদিকে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ব্যাটারি তৈরিতে জরুরি খনিজের জন্য ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো ও রাশিয়ার ওপরও নির্ভরতা বাড়বে।
অস্ট্রেলিয়া সরকার ও আইইএর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সিডনি এনার্জি ফোরামে গ্র্যানহোম বলেন, যারা জ্বালানি শক্তিকে পুঁজি করে স্বৈরতন্ত্রের বীজ বুনে চলেছে, আমাদের দেশগুলো যাতে তাদের প্রতি নির্ভরশীল না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি যারা আমাদের মূল্যবোধে বিশ্বাস করে না এবং সরবরাহ চেইনের কৌশলগত দিকগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে চায় তাদের করায়ত্ত থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে হবে।

বিরোল বলেন, সৌরপ্রযুক্তির বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের ৮০ শতাংশ হিস্যাই চীনের। ২০২৫ সালের মধ্যে এ হিস্যা বেড়ে ৯৫ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। তিনি এবং গ্র্যানহোম বলেন, যেকোনো প্রযুক্তি ও জ্বালানির জন্য কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভরতা পরিহার করতে হবে। এক্ষেত্রে রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া থেকে শিক্ষা নেয়ার ব্যাপারেও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
ফোরাম শেষে গ্র্যানহোম সাংবাদিকদের বলেন, প্রযুক্তি ও সরবরাহ চেইনে চীনের বড় দখল রয়েছে। আমরা যদি আমাদের নিজস্ব সরবরাহ চেইন সমৃদ্ধ করতে না পারি, তবে এটি আমাদের খাদের কিনারে নিয়ে যেতে পারে।
জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে বিরোল বলেন, কেউ যদি কয়েক বছরের মধ্যে বড় পরিসরে জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেন, তবে তাদের জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকির কথা মাথায় রাখা উচিত। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের বাণিজ্যিক ঝুঁকি বিবেচনার কথাও বলেন তিনি। কারণ বর্তমান বিশ্ব ধীরে ধীরে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে স্থানান্তরিত হচ্ছে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন রোধের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের প্রাকৃতিক গ্যাস, জ্বালানি তেল ও কয়লার চাহিদা কমিয়ে আনতে হবে।

এদিকে আইইএ ও যুক্তরাষ্ট্র এমন সময় রাশিয়া ও চীনের ওপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে যখন রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি কিনছে এশিয়ার দেশগুলো। বিশেষ করে ভারত ও চীন রাশিয়া থেকে জ্বালানি পণ্য আমদানিতে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এড়াতে অত্যন্ত কম দামে এশিয়ার ক্রেতাদের কাছে জ্বালানি তেল বিক্রি করছে রাশিয়া। পাশাপাশি দেশটি নিজেদের বাজার আদর্শ উরাল ক্রুডকে আরো লাইট অ্যান্ড সুইট (কম ঘনত্বের দশমিক ৫ শতাংশ সালফারযুক্ত জ্বালানি তেল) করার মাধ্যমে মানোন্নয়ন করেছে। এ কারণে এশিয়ায় এ তেলের চাহিদা বেশি।
Leave a Reply