চায়না অ্যাসোসিয়েশন অব অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্সের পূর্বাভাস বলছে, চলতি বছর ২ কোটি ৭০ লাখ গাড়ি বিক্রি করবে চীন। সে হিসাবে পূর্বাভাস গত বছর মোট গাড়ি বিক্রির ৩ শতাংশ বেশি। তবে গত বছরের ডিসেম্বরে এ বছর গাড়ি বিক্রির পূর্বাভাস ছিল ২ কোটি ৭৫ লাখ। সে হিসেবে নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, গাড়ি বিক্রির পূর্বাভাস কমেছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। খবর আরব নিউজ।
চায়না অ্যাসোসিয়েশন অব অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্সের তথ্য বলছে, বাস ও ট্রাকসহ বাণিজ্যিক গাড়ির চাহিদা অব্যাহতভাবে নিম্নমুখী ছিল। বাণিজ্যিক গাড়ি বিক্রি ১৬ শতাংশ কমে ৪০ লাখে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কভিড-১৯ মহামারীতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় চীনের অটোমোবাইল শিল্প খাত। নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ এড়াতে বাণিজ্যিক কেন্দ্র সাংহাইসহ দেশের নানা প্রান্তে লকডাউন জারি করে চীনা সরকার।

এদিকে চাহিদা পুনরুদ্ধার করতে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। গত মাসে গাড়ি কেনার ওপর কর অর্ধেক কমিয়ে ৫ শতাংশ ধার্য করে চীন সরকার। ৩ লাখ রেনমিনবির (৪৫ হাজার ডলার) থেকে কম মূল্যের ও সর্বোচ্চ ২ লিটার ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে এ কর প্রযোজ্য। চায়না অ্যাসোসিয়েশন অব অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারারসের নির্বাহী প্রধান প্রকৌশলী জু হাইডং বলেন, প্রণোদনা সত্ত্বেও বাণিজ্যিক গাড়ির চাহিদা খুব এটা বাড়েনি। লজিস্টিকস ও অবকাঠামো খাত কভিডের অভিঘাত এখনো সামলে ওঠেনি।
এদিকে চলতি বছরের জুনে মে মাসের তুলনায় গাড়ি বিক্রি বেড়েছে ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ। এতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি বিক্রি। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর জুনে ইভিসহ হাইব্রিড ও হাইড্রোজেন জ্বালানিচালিত গাড়ির বিক্রি ১২৯ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।

এ বছরের গাড়ি বিক্রির সার্বিক পূর্বাভাস কমালেও বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে সংস্থাটি। চলতি বছরের জন্য বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি বিক্রি ৫৬ শতাংশেরও বেশি বাড়িয়ে ৫৫ লাখ ইউনিটে উন্নীত করা হয়েছে। গত বছর সংশ্লিষ্ট খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ৪৭ শতাংশ। এছাড়া যাত্রীবাহী গাড়ির বিক্রি ৭ শতাংশ বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
চীনে কভিডের নতুন ধরন বিএ.৫ ওমিক্রনের সংক্রমণ বেড়ে চলেছে। ফলে দেশটির কয়েকটি শহরে নতুন করে বিধিনিষেধ জারি করা হতে পারে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। সুতরাং জুনে গাড়ি বিক্রি বাড়লেও অদূর ভবিষ্যতে অটোমোবাইল চাহিদা আবারো কমার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া কভিডের কারণে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থাও ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। চায়না অ্যাসোসিয়েশন অব অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারারসের নির্বাহী মহাসচিব চেন শিহুয়া জানান, চিপ সংকট ও কাঁচামালের দামের ঊর্ধ্বমুখিতার কারণে চীনের অটোমোবাইল শিল্প খাত নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে। বিশেষ করে এতে করে ইভির ব্যাটারির উৎপাদনে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। বর্তমান বাজারের স্বল্পকালীন বিক্রি থেকে ভবিষ্যতের দিকে নজর রেখে নতুন পূর্বাভাস করা হয়েছে বলে জানান বিশ্লেষকরা।
Leave a Reply