ভারতের রাস্তায় মোট ১৩ লাখ ৩৪ হাজার ইউনিট বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) চলছে। পাশাপাশি দেশটিতে জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত যানবাহনের সংখ্যা ২৭ কোটি ৮১ লাখ ইউনিটে পৌঁছেছে। সম্প্রতি দেশটির ভারী শিল্প প্রতিমন্ত্রী কৃষ্ণ পাল গুরজার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। খবর দ্য প্রিন্ট। লোকসভায় একটি প্রশ্নের লিখিত উত্তরে গুরজার বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ভারতে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নিচ্ছে।
ভারত সরকার ২০১৫ সালে জীবাশ্ম জ্বালানির নির্ভরতা কমাতে এবং যানবাহন থেকে নিঃসরণ সমস্যা সমাধানে ইভি ও হাইব্রিড গাড়ির ফাস্টার অ্যাডপশন ও ম্যানুফ্যাকচারিং (এফএএমই ইন্ডিয়া) প্রকল্প চালু করেছিল। বর্তমানে এফএএমই ইন্ডিয়া স্কিমের দ্বিতীয় পর্যায় পাঁচ বছরের জন্য বাস্তবায়ন হচ্ছে। ২০১৯ সালে এ প্রকল্পে ১০ হাজার কোটি রুপির বাজেট সহায়তা ঘোষণা করা হয়।

ইভি ব্যাটারির মূল্য কমানোর জন্য দেশে অ্যাডভান্সড কেমিস্ট্রি সেল (এসিসি) তৈরির জন্য সরকার ২০২১ সালের মাঝামাঝিতে প্রডাকশন লিংকড ইনসেনটিভ (পিএলআই) স্কিম অনুমোদন দিয়েছে। ব্যাটারির মূল্য কমলে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির খরচও কমে যাবে।
বিদ্যুচ্চালিত গাড়িগুলো অটোমোবাইল ও অটো কম্পোনেন্টের জন্য পিএলআই স্কিমের আওতায় রয়েছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে অনুমোদন হওয়া এ প্রকল্পে পাঁচ বছরে ২৫ হাজার ৯৩৮ কোটি রুপি সহায়তা দেয়া হয়েছিল। ইভির পণ্য ও পরিষেবা করও (জিএসটি) ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ইভির চার্জার বা চার্জিং স্টেশনের জিএসটি ১৮ শতাংশ কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিয়েছে, ব্যাটারিচালিত যানবাহনগুলোকে সবুজ লাইসেন্স প্লেট দেয়া হবে। পাশাপাশি এ গাড়ির ক্ষেত্রে অনুমতির প্রয়োজনীয়তা থেকে ছাড় দেয়া হবে। এ মন্ত্রণালয় থেকে রাজ্যগুলোকে ইভির ওপর সড়কের কর মওকুফেরও পরামর্শ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এ উদ্যোগও ইভির খরচ কমাতে সহায়তা করবে।
Leave a Reply