ওয়েবিল অনুযায়ী ভাড়া না দিলে যাত্রীদের
সঙ্গে দূর্ব্যবহার করছে বাস শ্রমিকরা
কেস স্টাডি-১ : ২৭ জুন। রাত ১০টা। যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে থেকে রাইদা পরিবহনের একটি বাসে উঠে শিমুল। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী। গন্তব্য নতুনবাজার৷

চালকের সহকারি ভাড়া চাইলে শিমুল ১০ টাকা বের করে দেন৷ কিন্তু সহকারি ১৫ টাকা দাবি করেন। তিনি বলেন, ১৫ টাকার নিচে কোন ভাড়া নেই৷ এটা লাইনের বাস। সবাই জানে। সরকারও জানে। ওয়েবিলে ভাড়া ১৫ টাকাই সর্বনিম্ন। শিমুল দিতে রাজী না হলেও সহকারি জোরপুর্বক ১৫ টাকাই আদায় করলেন। এই বাসে ভাড়া নিয়ে ঐ সহকারি আরো কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে চরম অশোভন আচরন করলেন৷ যাত্রীদের কেউ কেউ প্রতিবাদ করলেও কোন ফায়দা হয়নি৷ সে তার মতই ভাড়া আদায় করেছে৷

একই রুটে চলাচলকারী আকাশ, ভিক্টর ক্লাসিক এবং ডেমরা- বিশ্বরোড, মিরপুর রুটে চলাচলকারী নুরে মক্কা পরিবহনের বাসেও একই কায়দায় ভাড়া আদায় করা হচ্ছে৷ এছাড়া মিরপুর-মতিঝিল, গুলিস্তান-টঙ্গী রুটে চলাচলকারী বাসগুলোও ওয়েবিলে ফিরেছে। সরকারের কোন সংস্থারই কোন তদারকি নেই।
রাজধানী এবং আশপাশের এলাকায় চলাচলকারী বাসগুলো আবারো ওয়েবিলে ফিরেছে। অথচ চলতি সর্বশেষ ডিজেলের দাম বাড়ার সময় বাস বাড়িয়ে পুনঃনির্ধারনের সময় ওয়েবিলকে অবৈধ ঘোষণা করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয়। সরকারের এই ঘোষণাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রায় সব রুটে চলাচলকারী বাস আবার একই কায়দায় বাড়তি ভাড়া আদায় করছে।

যে কোন দূরত্বে নিম্ন ভাড়া আট টাকা হলেও নেওয়া ১৫ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত। নেই কোন মনিটরিং৷ নিরুপায় হয়ে ঠকছে সাধারণ মানুষ৷ যাত্রীসেবার মানের বালাই নাই। বেশিরভাগ বাসই লক্কড় ঝক্কড়৷ নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করে না৷ মানে না কোন ট্রাফিক আইন। একে অন্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যত্রতত্র যাত্রী উঠানামা চলছেই। বাস মালিকরা শ্রমিকদেরকে রীতিমত জিম্মি করে বেতনের পরিবর্তে দৈনিক চুক্তিতে ভাড়া দিচ্ছেন বাস। এতে উচ্চ জমার টাকা তুলতে বেপরোয়া আচরন করছেন বাস চালক, শ্রমিকরা৷ যাত্রীরা নিরুপায়।
যাত্রাবাড়ী-রামপুরা, উত্তরা ও গুলিস্তান- গাজীপুর রুটে চলাচলকারী রাইদা, অনাবিল, ছালছাবিল, আকাশ ওয়েবিল অনুযায়ী ভাড়া আদায় করছে। যেখানে আবুল হোটেল থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত সর্বোচ্চ ভাড়া হওয়ার কথা ১৫ টাকা সেখানে এ রুটেই যে কোন দূরত্বে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে সর্বনিম্ন ১৫ টাকা।
Leave a Reply