ঢাকার জুরাইন এলাকায় একটি কাঠের দোকানে নকশার কাজ করত নুর মোহাম্মদ। তার বাসা ছিল হাসনাবাদে। একদিন হাসনাবাদ গলির ভেতর চায়ের দোকানে পরিচয় হয় রবিনের সঙ্গে। পরে দুজনে মিলে পরিকল্পনা করে অল্প সময়ের মধ্যে ধনী হওয়ার। এরপর তারা ‘মাস্টার কি’ বানিয়ে মোটরসাইকেল চুরি করা শুরু করে। এ পর্যন্ত ৫০০ টিরও বেশি মোটরসাইকেল চুরি করেছে দুই বন্ধু। অবশেষে মোটরসাইকেল চুরি চক্রের মূল হোতা নুর মোহাম্মদ ও রবিনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (ওয়ারী) বিভাগ জানায়, রাজধানীর শনিরআখড়া ও ধলপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সঙ্গে ১৩টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে তারা। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- সজল, মনির ও আকাশ। গত বুধবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

তিনি জানান, ডিএমপির ওয়ারী এবং গেন্ডারিয়া থানার দুটি চুরির মামলা তদন্তকালে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় চোর চক্রকে ধরতে তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালান।
ডিবি প্রধান জানান, ‘মাস্টার কি’ ব্যবহার করে দুই বন্ধু নুর মোহাম্মদ ও রবিন ২০১৫ সাল থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে আসছে। চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির জন্য তারা দোহারের সজলকে তাদের চক্রের সদস্য বানায়। ঢাকা মহানগর এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে দোহারে নিয়ে যায় তারা। সজল ও মনির দোহারের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে চোরাই মোটরসাইকেল ইন্ডিয়ান বর্ডার ক্রস গাড়ি বলে বিক্রি করে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, সজল, মনির ও আকাশদের মূল কাজ ছিল দোহার এবং আশেপাশের এলাকা থেকে চোরাই মোটরসাইকেলের ক্রেতা খুঁজে বের করা। প্রতিটি চোরাই মোটরসাইকেল তারা ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করত। বিক্রির টাকা নূর মোহাম্মদ ৪০ শতাংশ, রবিন ৩০ শতাংশ ও অবশিষ্ট টাকা অন্যরা নিত। ২০১৫ সাল থেকে তারা মোটরসাইকেল চুরি করে আসছে। নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে চারটি, রবিনের বিরুদ্ধে তিনটি এবং অন্য তিনজনের বিরুদ্ধে একটি করে মামলা আছে।
Leave a Reply