নির্মাণসামগ্রী নিয়ে শততম জাহাজটি ভিড়ল মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটিতে। এর আগে ৯৯টি জাহাজ পণ্য নিয়ে এই জেটিতে ভিড়েছিল। পানামার পতাকাবাহী ‘হোসেই ফরচুন’ জাহাজটি চীনের ন্যানটং বন্দর থেকে বিদ্যুেকন্দ্রের নির্মাণসামগ্রী বোঝাই করে কক্সবাজারের মাতারবাড়ীর উদ্দেশে রওনা দেয়। মাঝপথে সিঙ্গাপুর বন্দরে থামে। গতকাল বুধবার জাহাজটি মাতারবাড়ী জেটির অদূরে সাগরে পৌঁছে। এরপর বিকেল ৪টায় জাহাজটি সাগর থেকে নতুন নির্মিত বিশেষায়িত চ্যানেল বা প্রবেশপথ দিয়ে জেটিতে প্রবেশ করে।
মাতারবাড়ীতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দরের নির্মাণকাজ এখনো শুরু হয়নি। জুন মাসে দরপত্র ডাকা হয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যেই সমুদ্রবন্দরের প্রথম পর্যায়ের টার্মিনাল নির্মাণকাজ শেষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা আছে। আর সমুদ্রবন্দরের পাশেই নির্মিত হচ্ছে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রে। এই কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা ব্যবহৃত হবে; আসবে জাহাজে করে। সেই কয়লা নামানোর জন্যই বানানো হয়েছে দুটি স্থায়ী জেটি। এই জেটির দক্ষিণ পাশেই গড়ে উঠবে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর।

জেটিতে এরই মধ্যে ভেড়া ১০০টি জাহাজের মধ্যে সবচেয়ে বড় জাহাজটি ছিল ১৫০ মিটার দীর্ঘ এবং ১০ মিটার গভীরতার। এর চেয়ে অনেক বড় জাহাজ ভেড়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজন না থাকায় বড় জাহাজ ভেড়েনি জেটিতে। গতকাল বুধবার জেটিতে ভেড়া ‘হোসেই ফরচুন’ জাহাজটির দৈঘ্যও ১১৯ মিটার আর ড্রাফট বা গভীরতা মাত্র সাড়ে পাঁচ মিটার। ফলে এত বিশাল চ্যানেল দিয়ে জাহাজটি অনায়াসেই জেটিতে প্রবেশ করেছে।
জাহাজটি সাগর থেকে ১৪ কিলোমিটার চ্যানেল দিয়ে জেটিতে চালিয়ে আনেন বন্দরের পাইলট নুর এ আলম। জানতে চাইলে মাতারবাড়ী জেটিতে পণ্য ওঠানামার সমন্বয়ক সহকারী হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন আতাউল হাকিম সিদ্দিকী বলেন, ‘বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাদের চাহিদামতোই পণ্যবোঝাই জাহাজ এনেছে। আর তাদের প্রয়োজন অনুযায়ীই পণ্য এসেছে। আশা করছি, ভবিষ্যতে জাহাজ আসা বাড়লে বন্দরের মাসুলও অনেক বাড়বে।’ ২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর মাতারবাড়ীতে নির্মিতব্য কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটিতে প্রথম জাহাজ ভেড়ানো শুরু হয়।
Leave a Reply