দেশের নৌপথ আরো আধুনিকায়ন করে জীবনমুখী করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে গতকাল অনুষ্ঠিত বিআইডব্লিউটিএর উন্নয়ন, আর্থিক ও প্রশাসনিক সংক্রান্ত বৈঠকে তিনি বলেছেন, এ সক্ষমতা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের আছে। সে অনুযায়ী এগিয়ে যেতে হবে।
নৌ-প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীতীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, দখল ও দূষণ রোধে সরকার কাজ করছে। বাংলার মানুষ এখন নদী নিয়ে ভাবছে; এটা আমাদের প্রথম সাফল্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নদী খননের কথা বলেছেন, নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খননের কথা বলেছেন। তার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ ব্যয় করা হবে।

বৈঠকে জানানো হয়, বিআইডব্লিউটিএ ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ১২ হাজার ২৪৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে। উদ্ধারকৃত তীরভূমি ও জায়গার পরিমাণ ৩৮৯ দশমিক ৬২ একর। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, আশুগঞ্জ-ভৈরব বাজার, নওয়াপাড়া, ঘোড়াশাল ও টঙ্গী নদীবন্দর এলাকায় এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়া বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরভূমিতে পিলার স্থাপন, তীররক্ষা, ওয়াকওয়ে ও জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৬ হাজার ২০২টি সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়েছে। ১০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে (হাঁটার পথ) দৃশ্যমান হয়েছে এবং আরো ৪২ কিলোমিটার ওয়াকওয়ের নির্মাণকাজ চলমান। আলীগঞ্জ আফছার উদ্দিন ঘাট, আলীগঞ্জ মাদ্রাসা ঘাট, সুলতানা কামাল ব্রিজসংলগ্ন, মাছুয়া বাজার ঘাট, নারায়ণগঞ্জ লেবার ল্যান্ডিং পয়েন্ট, নারায়ণগঞ্জ সাইলো পয়েন্ট, শিমরাইল ২ ও ৩ নম্বর ঘাট এবং সারুলিয়া লেবার হ্যান্ডলিং পয়েন্টে আরো আটটি ভারী জেটির নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। টঙ্গী নদীবন্দর এলাকায় একটি ইকোপার্ক নির্মিত হয়েছে এবং গাবতলীর বড়বাজার ও নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় আরো দুটি ইকোপার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে।
Leave a Reply