পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে ট্রেনের ছাদে চড়ে কিশোরগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম গিয়েছিল তিনজন। সম্পর্কে চাচাতো ভাই তারা। একইভাবে চট্টগ্রাম থেকে কিশোরগঞ্জে ফিরতে চেয়েছিল তিন ভাই। তবে ফেরার পথে বাধে বিপত্তি। ট্রেনের ছাদে থাকা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাদের কাছে টাকা দাবি করে। সে দাবি পূরণ করতে না পারায় তিনজনকেই ফেলে দেওয়া হয় ট্রেনের ছাদ থেকে। এতে একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছে।
গতকাল সোমবার বিকেলে জেলার লালমাইয়ের বাগমারা এলাকা থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে লাকসাম রেলওয়ে থানার পুলিশ। এর আগে রবিবার রাতে অন্য দুজনকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার শিকার হওয়া তিনজন আবু সায়েম (১৮), সাদ আহমেদ (১৩) ও পলাশ মিয়ার (১৬) বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামে। তাদের মধ্যে আবু সায়েম নিহত হয়েছেন।
আহত সাদ ও পলাশ জানায়, গত শনিবার রাতে একটি ট্রেনের ছাদ উঠে চট্টগ্রাম যায় তারা। রবিবার বিকেলে তারা চট্টগ্রাম থেকে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে সোনার বাংলা ট্রেনের ছাদে ওঠে। ওই সময় ট্রেনের ছাদে ওঠেন আরো কয়েকজন। ট্রেন চলতে শুরু করলে দুর্বৃত্তদের দুজন তাদের কাছে এসে টাকা দাবি করে। এ সময় তাদের কাছে কিছু নেই বলে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ওই দুর্বৃত্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে লাকসাম রেলওয়ে জংশন পার হয়ে লালমাই উপজেলা অংশে প্রবেশ করলে দুর্বৃত্তরা একে একে তিনজনকে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেয়।

রবিবার রাতে পলাশ ও সাদকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে রাতেই লাকসাম রেলওয়ে পুলিশ তাদের কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পলাশ বলে, ‘ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ায় আমার ও সাদের হাত ভেঙে গেছে। রাতেই আমরা পুলিশকে জানিয়েছিলাম, আমাদের সঙ্গে আরেকজন ছিল। পরে সোমবার বিকেলের দিকে রেলওয়ে পুলিশ সায়েম ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করে। আমরা ভেবেছিলাম সায়েম বেঁচে আছেন। আমরা খুনিদের বিচার চাই।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি জসিম উদ্দিন খন্দকার বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছি। ঘটনায় জড়িতদের শানাক্তের চেষ্টা চলছে।’
Leave a Reply