চীনে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) বিক্রি ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। আগস্টে ইভি বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ২৩ লাখ ৮০ হাজার ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। সরকারি প্রণোদনার কারণে ইভি বিক্রিতে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। খবর রয়টার্স।
চায়না অ্যাসোসিয়েশন অব অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্সের (সিএএএম) তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে গাড়ি বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।
আগস্টে সম্পূর্ণ বিদ্যুচ্চালিত, প্লাগ-ইন হাইব্রিড ও হাইড্রোজেন ফুয়েলচালিত গাড়ি অন্তর্ভুক্ত থাকা নতুন জ্বালানির গাড়ি বিক্রি আগের বছরের তুলনায় শতভাগ বেড়েছে। সিএএএমের এ পরিসংখ্যানে যাত্রীবাহী গাড়ি, বাস ও ট্রাক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অ্যাসোসিয়েশন আরো জানায়, চীনের গাড়ি রফতানি বছরওয়ারি হিসাবে ৬৫ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে ২৭ শতাংশই ছিল বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি।

বছরওয়ারি হিসাবে বাড়লেও আগস্টে বিশ্বের বৃহত্তম গাড়ির বাজারে বিক্রি আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। বিদ্যুত্স্বল্পতায় উৎপাদনে বিঘ্ন এবং রেকর্ড দাবদাহের পর গত মাসে দেশটির শোরুমগুলোয় ক্রেতাদের উপস্থিতির হার কমে যাওয়ায় মাসভিত্তিক হিসাবে গাড়ি বিক্রি কমেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ধীর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের মুখোমুখি হওয়া চীন ছোট মোটর গাড়ির বিক্রি কর কমিয়ে এবং ইভিতে ভর্তুকি দিয়ে গাড়ি শিল্পের চাহিদা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

মহামারীর শুরু থেকে জিরো কভিড নীতি অনুসরণ করায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে ধীর পুনরুদ্ধার দেখা দিয়েছে। সংক্রমণ মোকাবেলায় দেশটি আবারো শেনজেন ও চেংদুসহ আরো কিছু শহরে উৎপাদন স্থগিত ও কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এটি প্রতিটি শিল্পের সরবরাহ ব্যবস্থায় গভীর প্রভাব ফেলেছে। সরকারের এ নীতির আওতায় ভলভো, টয়োটা ও ফক্সওয়াগনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বারবার উৎপাদন স্থগিত ও কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। এখনো এ সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকায় সংস্থাগুলো গাড়ি উৎপাদন বাড়াতে হিমশিম খাচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের শুরুর কয়েক মাসে সাংহাই ও শেংচুনের বেশির ভাগ উৎপাদন এলাকায় লকডাউন আরোপ করা হয়েছিল। এটি দেশটির অটোমোবাইল শিল্পে বিপর্যয়কর প্রভাব ফেলে।
Leave a Reply