আগস্টে আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ ভ্রমণের চাহিদা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। বিভিন্ন দেশে কভিড-১৯ সংক্রমণ হ্রাসের পাশাপাশি বিধিনিষেধ সহজীকরণ ভ্রমণ চাহিদাকে পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেছে। খবর ন্যাশনাল নিউজ।
ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ) মাসিক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আগস্টে গত বছরের একই মাসের তুলনায় আন্তর্জাতিক ভ্রমণের চাহিদা বেড়েছে প্রায় ১১৬ শতাংশ। যেখানে এশিয়ার এয়ারলাইনসগুলো সবচেয়ে বেশি চাহিদা বাড়ার মুখোমুখি হয়েছে।
অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের চাহিদা আগস্টে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ ও সামগ্রিক ভ্রমণ চাহিদা বছরওয়ারি হিসাবে বেড়েছে ৬৮ শতাংশ। এক্ষেত্রে কিলোমিটারপ্রতি প্রত্যেক যাত্রী থেকে প্রাপ্ত আয় (আরপিকে) পরিমাপ করা হয়েছে।

সর্বশেষ তথ্যানুসারে, বিশ্বব্যাপী ট্রাফিকের পরিমাণ এখনো মহামারীপূর্ব স্তরে পুনরুদ্ধার হয়নি। বর্তমানে ট্রাফিক ২০১৯ সালের পর্যায়ের ৭৩ দশমিক ৭ শতাংশে রয়েছে। আইএটিএর মহাপরিচালক উইলি ওয়ালশ বলেন, উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুম চমত্কারভাবে শেষ হয়েছে। বিরাজমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ভ্রমণের চাহিদায় ছেদ পড়েনি বরং খুব ভালোভাবে এগিয়ে গিয়েছে। তাছাড়া জাপানসহ এশিয়ার অন্যতম ভ্রমণ গন্তব্যগুলোয় কভিডজনিত বিধিনিষেধ শিথিল করা বা উঠিয়ে নেয়ার ফলে ত্বরান্বিত হয়েছে এশিয়ার পর্যটন শিল্পের পুনরুদ্ধার।
২০২১ সালের তুলনায় এশিয়া-প্যাসিফিকের এয়ারলাইনসগুলো ৪৪৯ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধির রেকর্ড করেছে। আইএটিএর পক্ষ থেকে বলা হয়, এ অঞ্চল বছরে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি পেয়েছে। তবে চীনে এখনো ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে সামগ্রিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম খানিকটা ব্যাহত হয়। বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশটি কভিড-১৯-এর সংক্রমণ রোধ করতে বেশ কয়েকটি শহরে কঠোর মহামারী-সম্পর্কিত বিধিনিষেধ জারি রেখেছে।

আইএটিএর তথ্য অনুসারে, গত আগস্টে ২০২১ সালের একই সময়ের তুলনায় মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইনসগুলোর ট্রাফিক বেড়েছে ১৪৫ শতাংশ। আগের বছরের তুলনায় এয়ারলাইনসের সক্ষমতা ৭২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া লোড ফ্যাক্টর (এয়ারলাইনসগুলো আসন সংখ্যা কতটা পূরণ করতে পারে তার পরিমাপ) ২৩ দশমিক ৭ শতাংশীয় পয়েন্ট থেকে বেড়ে ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
এদিকে আগস্টে বৈশ্বিক এয়ার কার্গো চাহিদা আগের মাসের তুলনায় সামান্য বাড়লেও বছরওয়ারি হিসাবে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। আইএটিএর তথ্য বলছে, তবে এ সময়ে কার্গো সক্ষমতা ২০২১ সালের আগস্টের তুলনায় ৬ দশমিক ৩ শতাংশের ওপরে ছিল।
তবে স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে এয়ার কার্গো। ২০২১ সালের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মতো ব্যতিক্রমী অবস্থার মধ্যেও কার্গো ভলিউম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল বলে জানান ওয়ালশ। তিনি বলেন, তবে জ্বালানি তেলের দামে স্থিতিশীল অবস্থা, মূল্যস্ফীতির গতি ধীর ও বিশ্বব্যাপী পণ্যের লেনদেন সামান্য সম্প্রসারণ হওয়াসহ বেশ কয়েকটি সূচক ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য সব বাজারে নতুন রফতানি ক্রয়াদেশে পতন ইঙ্গিত দেয় যে আগামী মাসগুলোয় এসব সূচক গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
এদিকে আগস্টে মধ্যপ্রাচ্যের কার্গো এয়ারলাইনসগুলোর পণ্য পরিবহনের পরিমাণ বছরওয়ারি হিসাবে ১১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে গিয়েছে। এজন্য ইউরোপের সঙ্গে পণ্য পরিবহনের পতনকে দায়ী করা হচ্ছে।
Leave a Reply