মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় লোকবল সংকটের অজুহাতে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে রেলস্টেশন। উপজেলার সাতটি রেলস্টেশনের মধ্যে বর্তমানে চালু আছে চারটি। বাকি তিনটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকলেও তা চালুর বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় যাত্রী ও মালপত্র পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে স্থানীয়রা।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার টিলাগাঁও ও ভাটেরা রেলস্টেশন এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। সর্বশেষ তিন মাস আগে বন্ধ করে দেওয়া হয় লংলা স্টেশন। আর মনু ও ছকাপন স্টেশনে একজন পোর্টার দিয়ে কোনো মতে চালু রাখা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, ভাটেরা ও টিলাগাঁও স্টেশন দুটি চালুর দাবিতে একাধিকবার ট্রেন আটকিয়ে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে তারা। রেল কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসক বরাবর একাধিকবার স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে; কিন্তু দাবি পূরণ হয়নি আজও।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, সিলেট-আখাউড়া রেল সেকশনে কুলাউড়া স্টেশনের প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে লংলা স্টেশন অবস্থিত। সেখান থেকে আরো ১৫ কিলোমিটার দূরে শমসেরনগর স্টেশন। প্রতিদিন এ পথে চলাচলকারী চারটি আন্ত নগর ট্রেন ক্রসিংয়ের জন্য লংলা স্টেশনকে ব্যবহার করত। কিন্তু তিন মাস আগে এই স্টেশনের কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার রজত রায়কে অন্যত্র বদলি করে দেওয়া হয়। এর পর থেকে স্টেশনের সিগন্যালিং ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে লংলা স্টেশনে ট্রেনের ক্রসিং বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে ওয়ানওয়ে লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বন্ধ হয়ে যাওয়া তিনটি স্টেশনে যাত্রীদের কোনো আনাগোনা নেই। অথচ একসময় এখানে যাত্রীদের দিনভর কোলাহল ছিল।
লংলা স্টেশন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক আহমদ বাদশা বলেন, ‘তিন মাস ধরে মাস্টারের অভাবে স্টেশনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লোকাল ট্রেনের যাত্রীরা চরম বেকায়দায় পড়েছে। তিন মাস আগেও লোকাল ট্রেন স্টেশনে কিছুক্ষণের জন্য থামত; কিন্তু এখন স্টেশন বন্ধ থাকায় একমাত্র লোকাল ট্রেনটি মেইন লাইন দিয়ে এসেই হুইসেল দিয়ে চলে যায়। এতে অনেক যাত্রী তাড়াহুড়া করে ওঠানামা করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।’
ভাটেরা ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ এ কে এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ভাটেরা স্টেশন বন্ধ থাকায় যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। ট্রেনে সিলেট যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই স্টেশন আমাদের অন্যতম বাহন ছিল। অচিরেই স্টেশনটি চালুর জন্য ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে জোর দাবি জানাচ্ছি।’
টিলাগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক বলেন, ‘টিলাগাঁও স্টেশনটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমানে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।’

কুলাউড়া স্টেশন মাস্টার মুহিব উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তিন মাস ধরে লংলা স্টেশন বন্ধ থাকায় কুলাউড়া ও শমসেরনগরে আন্ত নগর ট্রেনগুলো যাত্রাবিরতি রেখে ক্রসিং করতে হয়। আশা করছি, আগামী তিন মাসের মধ্যে লংলা স্টেশনে মাস্টার নিয়োগ হবে। টিলাগাঁও ও ভাটেরা স্টেশন চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।’
সিলেট-আখাউড়া রেলওয়ে সেকশনের পরিবহন পরিদর্শক (টিআইসি) তৌফিকুল আজিম বলেন, ‘সারা দেশেই বর্তমানে স্টেশন মাস্টারের সংকট রয়েছে। সিলেট-আখাউড়া সেকশনের অনেক স্টেশনই মাস্টারের অভাবে বন্ধ রয়েছে। নতুন স্টেশন মাস্টার নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান। নিয়োগপ্রাপ্তরা দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর এ সমস্যার সমাধান হবে।’
Leave a Reply