
বর্ধিত পারিশ্রমিক ও অনুকূল কর্মপরিবেশের দাবিতে আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন উত্তর আমেরিকার পাইলটরা। কর্মীদের সঙ্গে নতুন চুক্তির বিষয়ে ব্যবস্থাপনা কোম্পানির আলোচনা হবে। এ বিষয় সামনে রেখেই বিভিন্ন উড়োজাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠানের চালকদের ইউনিয়ন বিশেষ ভোটের আয়োজন করেছে। ভোটে প্রকাশিত সিদ্ধান্ত অনুসারে, আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে আন্দোলনের পথে হাঁটবে কর্মী ইউনিয়ন। সম্প্রতি এমনটাই জানানো হয়েছে পাইলটদের পক্ষ থেকে। ঘোষণাটি এমন সময় এল, যখন এয়ারলাইনস পাইলট সংকটে রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, আমেরিকান এয়ারলাইনসের পাইলটরা নতুন চুক্তির ব্যাপারে নিজেদের মধ্যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির সময়ে বর্ধিত ভাতা ও অনুকূল কর্মপরিবেশের দাবি নিয়ে তারা সরব। উত্তর আমেরিকার বিমান চলাচলকারী প্রতিষ্ঠানগুলোয় কর্মরত পাইলটদের ইউনিয়নগুলো এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে।
দি অ্যালাইড পাইলটস অ্যাসোসিয়েশনের (এপিএ) সদস্য সংখ্যা ১৩ হাজার। বোর্ডের সঙ্গে আলোচনায় পৌঁছাতে সংগঠনটি সামনে এগিয়ে যাবে। আলোচনা এগিয়ে না গেলে আন্দোলনের পথ বেছে নেবে ইউনিয়ন। একইভাবে দ্য সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনস পাইলটস অ্যাসোসিয়েশন (এসডব্লিউএপিএ) জানিয়েছে নিজের অবস্থান। চলতি বছরের মে মাসে সংগঠনের ৯৮ শতাংশ সদস্যের উপস্থিতিতে ভোট হয়। সেখানে ৯৯ শতাংশের ভোট ছিল আন্দোলনের পক্ষে।

গত মার্চে দি এয়ার লাইন পাইলটস অ্যাসোসিয়েশন (এএলপিএ) ১৫ হাজার ডেল্টা পাইলটের পারিশ্রমিক বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিল। তার বাইরে স্বাস্থ্য পরিষেবা ও হলিডে পে, ছুটি ও কোম্পানির নীতিমালা নিয়ে কথা হয়। অন্যদিকে মে মাসে দি এয়ার কানাডা পাইলটস অ্যাসোসিয়েশন দাবি করেছিল কর্মসুবিধা ও পরিবেশের পক্ষে। চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই তারা নতুন করে আলোচনায় বসবে শিগগিরই। সেখানে ব্যবস্থাপনা পরিষদের সঙ্গে মীমাংসা না হলে বেছে নেয়া হবে আন্দোলনের পথ। একইভাবে নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছে গেছে ওয়েস্টজেটের পাইলটরা। কানাডার এ এয়ারলাইনসও আন্দোলনে যাবে প্রত্যাশিত দাবি আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে।

গত বছর এএলপিএ জানিয়েছিল, ইউনাইটেড এয়ারলাইনস হোল্ডিংসের মোট ১০ হাজার পাইলট। তাদের মধ্য থেকে ৯৪ শতাংশই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে করা চুক্তি প্রত্যাখ্যানের পক্ষে ভোট দিয়েছে। গত জানুয়ারিতে স্পিরিট এয়ারলাইনস নতুন চুক্তির জন্য ভোট দিয়েছিল। ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৬৯ শতাংশ পাইলটই চান নতুন করে চুক্তি করতে। যেখানে অর্থনৈতিক ও কর্মসুবিধা থাকবে।

জেটব্লু এয়ারওয়েজ করপোরেশন গত জানুয়ারিতে নতুন করে দুই বছরমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এএলপিএর প্রতিবেদন অনুসারে, জেটব্লুর পাইলট সংখ্যা ৪ হাজার ৬০০। সেখানকার ৭৫ শতাংশ পাইলটই চুক্তি নবায়নের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। চুক্তির নতুন প্রক্রিয়া মূলত অর্থনৈতিক। দাবি আদায় না হলে আন্দোলনে নামার কথা জানিয়ে দেয়া হয়।
ফেডএক্স এক্সপ্রেস মূলত ফেডএক্সেরই একটা ইউনিট। মে মাসের মাঝামাঝি প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিকেরা আন্দোলনে যাওয়ার জন্য ভোট দেয়। ইউনিয়ন সদস্যদের ৯৭ শতাংশই অংশগ্রহণ করেন ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায়। সেখানকার ৯৯ শতাংশ ভোট দিয়েছেন আন্দোলনের পক্ষে। সামনে নতুন মৌসুম আসছে পর্যটন শিল্পের জন্য। তার আগে দাবি আদায়ের কৌশল হিসেবেই আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাইলটরা।
Leave a Reply