গত ২৯ জুন দেশজুড়ে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হয়। এর আগে ও পরে (২৩ জুন থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত) সারা দেশে ৩০৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬৩১ জন।

নিহতের মধ্যে নারী ৬১ জন ও শিশু ৭২ জন। এছাড়া ১১৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০৬ জন।
আজ শুক্রবার দুপুরে সংবাদ মাধ্যমে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো ‘ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১০৬ জন, বাসযাত্রী ১০ জন, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি আরোহী ২৪ জন, প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স আরোহী ২৫ জন, থ্রি-হুইলারযাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-ম্যাক্সি) ৭০ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্র) ১১ জন এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা আরোহী ৯ জন নিহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলো ১৩১টি জাতীয় মহাসড়কে, ১১৫টি আঞ্চলিক সড়কে, ৩৭টি গ্রামীণ সড়কে এবং ২০টি শহরের সড়কে সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৪৯টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৭২টি পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দিয়ে ও ২৫টি যানবাহনের পেছনে আঘাত করার কারণে ঘটেছে।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে আক্রান্ত হয়েছেন ২০.৪৮ শতাংশ, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে ২৬.৫০ শতাংশ, মোটরসাইকেল বা অন্য যানবাহন দ্বারা ধাক্কা/চাপায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৯.৭৫ শতাংশ, মোটরসাইকেল পথচারীকে ধাক্কা/চাপা দিয়ে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে ৮.৪৩ শতাংশ এবং সড়কের গর্ত ও স্পিড ব্রেকারের কারণে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৪.৮১ শতাংশ।
Leave a Reply