হজরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক দুই অভিযানে প্রায় সাড়ে ২৮ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। ঢাকা কাস্টম হাউস ও অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ টিমের প্রথম অভিযানে বিমানের সিটের নিচ থেকে বেওয়ারিশ প্রায় ২৫ কেজি তরল সোনা এবং অপর অভিযানে তিন ব্যক্তির পেটের ভেতর (রেক্টাম) থেকে প্রায় সাড়ে তিন কেজি ওজনের সোনার বার ও স্বর্ণালঙ্কার জব্দ করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার বিমানবন্দরে আয়োজিত ঢাকা কাস্টমসের এক সংবাদ সম্মেলন সূত্রে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) হতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা কাস্টম হাউস, কাস্টমস গোয়েন্দা ও এনএসআই কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ টিম দুবাই থেকে আসা এমিরেটসের ফ্লাইটে (নম্বর ইকে -৫৮৪) অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান পরিচালনাকালে এয়ারক্রাফটের ইকনোমি ক্লাস এবং বিজনেস ক্লাসের যাত্রীদের সিট তল্লাশি করা হয়। তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনাকালে ইকোনোমি ক্লাসের ১২টি সিটের নিচে ৯৮টি নীল স্কচটেপে মোড়ানো ডিম্বাকৃতির বস্তু দেখতে পাওয়া যায়।
পাতলা পলিথিলিন মোড়ানো অবস্থায় ২৭ কেজি ৬০০ গ্রাম কাঁচা স্বর্ণের পেস্ট মিলে। কষ্টি পাথর ও এসিড দ্বারা পরীক্ষার পর প্রায় ২৫ পঁচিশ কেজি স্বর্ণের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। যার বাজার মূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা। তল্লাশি অভিযান পরিচালনাকালে জব্দকৃত স্বর্ণ পরিবহনের সঙ্গে কোনো যাত্রীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অন্যদিকে একই দিন বিকালে দুবাই থেকে আসা ফ্লাইটে (নম্বর ইকে -৫৮৬) অভিযান চালিয়ে তিনজন যাত্রী যথাক্রমে মশিউর রহমান রুবেল, জাহাঙ্গীর আলম ও আকবর হোসেনকে আটক করা হয়। বোর্ডিং ব্রিজ থেকে গ্রিন চ্যানেলে নিয়ে এসে আর্চওয়ে করা হলে তাদের শরীরে ধাতব পদার্থের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

পরে তাদেরকে এক্স-রে করানো হলে তাদের রেক্টামে ডিম্বাকৃতির ধাতব পদার্থের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। জব্দকৃত সোনার বার ও স্বর্ণালঙ্কারের ওজন ৩ কেজি ৩৩০ গ্রাম। যার বাজার মূল্য ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। যাত্রীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর আটক আসামিদের বিমানবন্দর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
Leave a Reply