লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম বন্দর বহির্নোঙ্গরে পণ্য লাইটারিং ব্যাহত হচ্ছে। গতকাল দিনের অর্ধেক সময় লাইটার জাহাজ তেমন চলাচল করতে পারেনি। দুপুরের পর পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূলে আসার পর সীমিত পরিসরে কাজ শুরু হয়। একই কারণে বন্ধ রয়েছেসাগরে মাছ শিকার। কর্ণফুলীর তীরে অলস সময় অতিবাহিত করছে মাছ ধরার নৌকাগুলো। সাগরে অবস্থানরত নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে থেমে থেমে বৃষ্টিতে নগরীর কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী। সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে দেখাতে বলা হয়েছে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চট্টগ্রামে বৃষ্টি আরও টানা কয়েকদিন থাকতে পারে। সেই সঙ্গে আকাশ থাকতে পারে আংশিক মেঘলা থেকে সাময়িকভাবে মেঘাচ্ছন্ন। চট্টগ্রামের কোথাও কোথায় অস্থায়ী দমকা হাওয়ার সঙ্গে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ, দক্ষিণ পূর্ব দিকে থেকে ঘণ্টায় ১২-১৮ কিলোমিটার বেগের বাতাস ৪০-৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মেঘনাথ তঞ্চ্যঙ্গা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৪ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সাগর কিছুটা উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া নদীবন্দরে ১ নম্বর নৌ সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।” এদিকে চট্টগ্রামে থেমে থেমে বৃষ্টিতে নগরীর নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ। অনেকের নিচ তলার বাসা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। কাজের প্রয়োজনে ঘরের বাইরে আসা মানুষ বৃষ্টির কারণে দুর্ভোগে পড়ার পাশাপাশি সড়কে গণপরিবহন কম থাকায় অনেককে বৃষ্টিতে ভিজেই ফিরতে হয়েছে বাসচট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোঃ ওমর ফারুক জানান, জেটিতে কন্টেনার ওঠানামা স্বাভাবিক থাকলেও বহির্নোঙ্গরে পণ্য লাইটারিং ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে বৃষ্টি। কারণ, বৃষ্টির কারণে জাহাজের হ্যাচ খোলা সম্ভব হয় না। বিকেল থেকে সতর্কতার সঙ্গে লাইটারিং কাজ পরিচালিত হচ্ছে। সাগর অশান্ত থাকায় সেখানে ছোট জাহাজগুলো গমনাগমন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
Leave a Reply