তুরস্কের সমুদ্র উপকূলে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা সিরিয়ান শিশু আয়লানের নিথর দেহ কাপিয়ে দিয়েছিল মানব সভ্যতার ভিত। আয়লান একা নয়, প্রতিদিন অসংখ্য শিশু শরণার্থী মারা যাচ্ছে তুরস্কের উপকূলে। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরের সেই মর্মস্পর্শী ঘটনার পাচ বছর পূর্ণ হলো এ মাসে। এই ঘটনার পর একদল জার্মান মানবতাবাদী মানুষ ‘সী আই’ (সমুদ্রের চোখ) নামক একটি এনজিও প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের কাজ হলো, মধ্য প্রাচ্যের যুদ্ধ বিদ্ধস্ত দেশের যেসব মানুষ নতুন জীবনের সন্ধানে ভূমধ্য সাগর পাড়ি দেওয়ার সাহস করে তাদেরকে সহায়তায় করা।
ছোটো ছোটো বোটে করে এসব অসহায় মানুষ যুদ্ধ থেকে পালিয়ে সমুদ্রে ভেসে যায়। আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে তাদেরকে উদ্ধার করে সী আই। এরপর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলাপ করে তাদের জন্য নতুন ঠিকানার ব্যবস্থা করে দেয়। এমনই করে গত কয়েকদিন ধরে সী আইয়ের জাহাজ এলান কুর্দিতে অবস্থান করছিলেন ১২৫ জন স্মরণার্থী। প্রথমে তাদেরকে ফ্রান্সে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল সী আই। কিন্তু ফরাসি কর্তৃপক্ষ এই মুহূর্তে কোনো স্মরণার্থীদেরকে নিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা যোগাযোগ করে ইতালিয়ান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। সেখান থেকে অনুমতি পাওয়ার পর ইতালির সারদিনিয়া দ্বীপে জাহাজ ভিড়েছে। তবে এখনো স্মরণার্থীদের জন্য ইতালির দরোজা উন্মুক্ত হয়নি। সী আই জানিয়েছে, ‘আমাদেরকে পোর্ট কর্তৃপক্ষ বলেছে নোঙর ফেলে পরবর্তী নির্দেশনার জন্য অপেক্ষায় থাকতে।’
ইতালিয়ান সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ইউরোপীয়ান দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ১০০ জনকে নেওয়ার কথা বলেছে। বাকি ২৫ জন ইতালিতেই থাকবে।
চলতি বছরে অন্তত ৫০ হাজার স্মরণার্থী ইউরোপে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)। সমুদ্র পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক স্মরণার্থীই মৃত্যূর কোলে ঢলে পড়েন।
Leave a Reply