1. paribahanjagot@gmail.com : pjeditor :
  2. jadusoftbd@gmail.com : webadmin :
মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
র‌য়্যাল এনফিল্ডের ৩৫০ সিসির নতুন ৪ বাইকের যত ফিচার ঝালকাঠি থেকে ১১ রুটে বাস চলাচল বন্ধ বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ১০ দেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি হলেন স্টার লাইনের হাজী আলাউদ্দিন তরুণরা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে নামুক আবার পেট্রোনাস লুব্রিক্যান্টস বিক্রি করবে মেঘনা পেট্রোলিয়াম অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশে ভারতীয় সব ভিসা সেন্টার বন্ধ মন্ত্রী এমপিদের দেশত্যাগের হিড়িক : নিরাপদ আশ্রয়ে পালাচ্ছেন অনেকেই বাস ড্রাইভার নিকোলাস মাদুরো আবারও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ইউএস-বাংলার দশম বর্ষপূর্তি : ২৪ এয়ারক্রাফট দিয়ে দেশে বিদেশে ২০ গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা

বর্তমান রেলসেবা ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

মাহমুদ আহমদ
  • আপডেট : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

অন্যসব যানবাহনে ভ্রমণের চেয়ে রেল ভ্রমণের আনন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্য যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশেষ করে আমাদের একমাত্র কন্যা আফিয়ার কাছে ভ্রমণ মানেই ট্রেন। ট্রেনে ভ্রমণ ছাড়া অন্য কোনো যানবাহনের কথা ভাবলেই তার মন খারাপ হয়ে যায়। রেলে ভ্রমণ তার জন্য ভীষণ আনন্দের কারণ। ট্রেনের ঝক ঝক শব্দ, যানজটবিহীন পথ চলা সত্যিই আনন্দদায়ক। এ ছাড়া দেশ-বিদেশে অসংখ্যবার ট্রেনে ভ্রমণ করার সুযোগও হয়েছে। প্রতিটি ভ্রমণের মাঝেই যেন লুকিয়ে থাকে নানা অভিজ্ঞতার কথা।
কিন্তু ঈদের সময় ট্রেনের টিকেট পাওয়া তো ভাবাই যায় না, কেননা গত কোরবানির ঈদে স্টেশনে দুদিন আগে লোক পাঠিয়ে টিকেট পেয়েছিলাম বড় কষ্টে। কিন্তু এবার সেই কষ্ট ভোগ করতে হয়নি। টিকেট কালোবাজারিদের রোধ করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করায় খুব সহজে ঘরে বসে নিজের আইডি থেকে অনলাইনে টিকেট করলাম। ঈদের আগে নিজের পছন্দমতো টিকেট পাওয়া যা আগে ভাবাও যেত না। ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে আমি রীতিমতো অবাক হয়েছি। ট্রেনে অতিরিক্ত কোনো যাত্রী নেই, নেই ভিড়, ট্রেন ছাড়ল যথা সময়ে, তাও আবার ঈদের আগে, এটা কি ভাবা যায়? পূূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রত্যেকটি ট্রেন চলাচল করছে, এক কথায় অসাধারণ। বাড়ি থেকে ফেরার পথেও ঠিক একই পদ্ধতিতে টিকেট করে ফিরে এলাম। ট্রেনে এমন স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ মনে হয় আর কখনও করা হয়নি।
অথচ একসময় ট্রেন ভ্রমণের কথা শুনলেই বিরক্তির ছাপ প্রকাশ পেত। কেননা রেল যাতায়াতকে মনে করা হতো ভোগান্তি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেনের অপেক্ষায় প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা, একজনের সিটের ওপর আরেকজন দাঁড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো আর টিকেট পেতে ব্ল্যাকারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনোমতে টিকেট সংগ্রহ করাসহ যাত্রীদের নানা ঝামেলার সম্মুখীন হওয়া ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু এসব ঘটনা আজ অতীত। প্রত্যেকটি ট্রেন চলছে ঠিক সময়ে এবং টিকেট ছাড়া কোনো যাত্রী রেল ভ্রমণের চিন্তাও করতে পারছেন না।
সম্প্রতি ‘টিকেট যার ভ্রমণ তার’- রেলের এই নতুন নিয়ম কার্যকর শুরু হয়েছে ১৬ আগস্ট থেকে। নতুন নিয়মানুযায়ী, এখন থেকে ট্রেনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিজ টিকেট, রিটার্ন টিকেট অথবা নির্দিষ্ট মেয়াদি টিকেট কারও কাছে হস্তান্তর বা বিক্রি করলে তাকে তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি এ ধরনের টিকেটের ক্রেতাকে একবার একক ভ্রমণের সমান অতিরিক্ত ভাড়ার জন্য দণ্ডিত করা হবে। অনুরূপভাবে টিকেটের ক্রেতা অন্যের টিকেট ব্যবহার করলে অথবা ব্যবহার করার চেষ্টা করলে সে একবার একক ভ্রমণের সমান অতিরিক্ত ভাড়ার জন্য দণ্ডিত হবে।
এ প্রসঙ্গে ১৬ আগস্ট কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের সার্বিক কাজ পরিদর্শন শেষে
    রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, ‘ট্রেনের টিকেট নিয়ে যেন কোনো কালোবাজারি না হয় সে জন্য অনলাইনে টিকেট দেওয়া হচ্ছে। আর তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে দুর্নীতি যেমন কমবে, আমাদের সময়ও বাঁচবে। অনলাইন টিকেট ক্রয়ে আস্তে আস্তে অভ্যস্ত হয়ে যাবে মানুষ। আমরা যা কিছু করছি সাধারণ যাত্রীদের জন্যই করছি।’ আমরা সব সময় লক্ষ করি ঈদ মৌসুমে টিকেট কালোবাজারিরা স্টেশনকেন্দ্রিক বেপরোয়া হয়ে ওঠে। যাত্রীদের কাজ থেকে আদায় করে নেয় অতিরিক্ত অর্থ। ট্রেনের টিকেট নিয়ে কালোবাজারি বন্ধে রেল মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে রেলযাত্রীরা নিশ্চিতভাবেই উপকৃত হবেন আর বন্ধ হবে কালোবাজারি। পূর্ণরূপে এর বাস্তবায়ন হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে রেলে ভ্রমণকারী প্রত্যেকের নাম, সিট নম্বর, বয়স সব কিছুই টিকেটে উল্লেখ থাকে, শুধু তাই নয় স্টেশনে এবং যেই বগিতে আপনার সিট সেই বগির বাইরেও নামের তালিকা ঝুলানো থাকে। টিকেট কালোবাজারিদের হাত থেকে মুক্তি পেতে ভারতে যেমন নাম ও বয়স টিকেটে উল্লেখ থাকে আমাদের দেশেও এমনটি করা যায় কি না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভেবে দেখার আহ্বান জানাচ্ছি।
একই সঙ্গে যাত্রার আগে প্রত্যেক বগিতে ভ্রমণকারীদের নামের তালিকা তাদের দেশে যেভাবে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং টিকেট চেকারদের হাতেও সেই একই তালিকা থাকে আর সে অনুযায়ী তারা টিকেট চেক করেন এই পদ্ধতিও আমাদের দেশে অবলম্বন করা যেতে পারে। অনলাইনে যারা টিকেট কাটবেন তাদের টিকেটেও নাম ও বয়স উল্লেখ থাকবে আর স্টেশন থেকে যারা টিকেট সংগ্রহ করবেন তাদেরও নাম ও বয়স উল্লেখ থাকবে। কেননা ট্রেনে দেশি-বিদেশি সবাই ভ্রমণ করবেন। এ ছাড়া বিদেশিরা পাসপোর্ট দেখিয়ে স্টেশন থেকে টিকেট সংগ্রহ করতে পারবে সেই ব্যবস্থাও করতে হবে। তাই টিকেটে নাম ও বয়স উল্লেখ করা হলে আর যাত্রার পূর্বে যাত্রীদের তালিকা ট্রেনের বগিতে টাঙিয়ে দিলে টিকেট কালোবাজারির মাত্রা অনেকটা কমে যাবে। আর এতে করে সাধারণ জনগণের জন্য ট্রেন ভ্রমণ আরও সহজ হবে বলে আমরা মনে করি।
একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার না করলেই নয়, ভারতে ভ্রমণ ও চিকিৎসাসেবার জন্য কমবেশি যেতে হয়। সে দেশে রেলে ভ্রমণ সত্যিই যে আনন্দদায়ক তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কয়েক মাস পূর্বেই রেলের টিকেট অগ্রিম করার ব্যবস্থা রয়েছে। টিকেট ছাড়া যাত্রীরা ভ্রমণ করছেন এ বিষয়টি কখনই আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি। এ ছাড়া টিকেট বিক্রির ক্ষেত্রে কালোবাজারিদের কোনো সুযোগ নেই বললেই চলে, কেননা প্রত্যেকটি টিকেটে পরিচয় উল্লেখ থাকে। একবার পাঞ্জাব থেকে কলকাতায় আসছিলাম, আমরা দশ পনেরোজন ছিলাম। আমাদের মধ্য থেকে একজন দিল্লি চলে গেলে তার টিকেটটি আমাদেরই আরেকজন বৃদ্ধ বয়সি যিনি টিকেট করতে পারেননি তার কাছে দিয়ে বলেন আমার টিকেট দিয়ে আপনি চলে যান।
আমরা ভেবেছিলাম টিকেট ও সিট যেহেতু আছে তাহলে তো আর সমস্যা হওয়ার কথা না। কিছুক্ষণ পর টিকেট চেকার এসে টিকেট চাইলেন। একেক করে সবার টিকেট চেক করা হয়ে গেলে যিনি আরেকজনের টিকেট দিয়ে যাত্রা করছিলেন তার টিকেট চেক করতেই বললেন আপনার পরিচয়পত্র দিন। যেহেতু বাংলাদেশি ছিলেন, তাই পাসপোর্ট বের করে দেখালেন, টিকেটে যার নাম এবং বয়স উল্লেখ আছে তার কিছুই মিল খুঁজে না পেয়ে তার কাছ থেকে টিকেটের দ্বিগুণ মূল্য জরিমানা স্বরূপ আদায় করলেন। এক্ষেত্রে এরা এমন যে, একজনের নামে টিকেট কেটে অন্যজন যাতে যেতে না পারে সে ক্ষেত্রে তারা কঠিন পদক্ষেপ নিয়ে থাকে, কারও আইডি কার্ডের সঙ্গে যদি টিকেট না মেলে তাহলে জরিমানা ছাড়া জেলও হতে পারে। আমাদের দেশে রেলের টিকেট পাওয়া যায় না আর টিকেট পাওয়া যায় কালোবাজারির কাছে এটা শুনলে ভারতীয়রা হাসাহাসি করে।
বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভাবা উচিত, এত বড় দেশ, তারা যদি তাদের টিকেটকে কালোবাজারিদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে তাহলে আমরা কেন পারছি না। অবশ্য আমরাও পারব। টিকেটের বিষয়ে বর্তমানে যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে আশা করি এতে অনেকটাই সুফল পাওয়া যাবে।
তবে একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়, আমাদের বর্তমান রেলপথমন্ত্রী রেলওয়ের উন্নয়নের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন আর এক্ষেত্রে ইতোমধ্যে তিনি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছেন বলে আমার ধারণা। কেননা একটি কথা তিনি বরাবরই বলে থাকেন যে, ‘মানুষ যেন স্বস্তিতে, স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারে, সেটিই আমার মূল লক্ষ্য।’ আর এ লক্ষ্যে তিনি কাজও করে যাচ্ছেন।
এ ছাড়া রেলসেবা বাড়াতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের শেষ নেই। কেননা দেশের প্রতিটি জেলায় রেলসেবা পৌঁছে দিতে উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, গত ১০ বছরে নির্মিত হয়েছে ৩৮১ কিলোমিটার নতুন রেলপথ, ৩৪৭টি রেল সেতু। ক্রয় করা হয়েছে ১৪০টি ইঞ্জিন, প্রায় ৪০০টি যাত্রীবাহী ক্যারেজ। চালু হয়েছে ১৩৫টি নতুন ট্রেন। নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ১৪ হাজার নতুন কর্মী। সম্প্রতি ৩০০ কিলোমিটার গতির ট্রেন পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রেলের উন্নয়নের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে। আমরা আশা করব, ‘টিকেট যার ভ্রমণ তার’- রেলের এই নতুন নিয়ম পরিপূর্ণভাবে কার্যকর করা হলে রেল ভ্রমণ সবার জন্য হবে আরও আনন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়।
লেখক : গবেষক।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© 2020, All rights reserved By www.paribahanjagot.com
Developed By: JADU SOFT