বগুড়া বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ উড্ডয়ন শুরু করতে রানওয়ে সম্প্রসারণের উদ্যোগটি থমকে গেছে। কয়েক বছর আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিমানবন্দরটির রানওয়ে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
জানা গেছে, বিমানবন্দরটি সচল করতে তিন হাজার ফুট রানওয়ে সম্প্রসারণ, তেল সংরক্ষণাগার নির্মাণ এবং যাত্রী ও মালামাল ওঠানামাসহ অন্যান্য কাজে ১০০ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য বগুড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০১৮ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। দুই বছর অতিবাহিত হতে চললেও সেই উদ্যোগের আর কোনো অগ্রগতি নেই।
নব্বইয়ের দশকে বিএনপি সরকারের শেষ সময়ে জেলা শহরের এরুলিয়া এলাকায় বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের পাশে ২২ কোটি টাকা খরচ করে প্রায় ১১০ একর জায়গার ওপর আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আর কাজটি শুরু হয় ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। ২০০০ সালে বিমানবন্দরটি তৈরির কাজ শেষ হলেও গত ২০ বছরে যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক কোনো বিমান আর ওঠানামা করেনি এ বিমানবন্দরে। পরে সেখানে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমতি চেয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন মেলেনি। এ বিষয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবদুল মালেক বলেন, বাণিজ্যিকভাবে বিমান চলাচল শুরু করতে হলে রানওয়ে সম্প্রসারণ করতে হবে।
বাণিজ্যিক সম্ভাবনার দিক থেকেও এ এলাকাকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা। তাঁরা বলছেন, শুধু যোগাযোগব্যবস্থায় পিছিয়ে থাকার কারণে এ এলাকা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ এ এলাকায় কৃষিনির্ভর শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে হালকা প্রকৌশলসহ নানা ধরনের শিল্পকারখানা স্থাপনের সুযোগ রয়েছে।

জানতে চাইলে বগুড়া চেম্বারের পরিচালক ও বিসিএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টি এম আলী হায়দার বলেন, উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র বগুড়া। এখানে বিদেশি পর্যটক, শিল্পোদ্যোক্তারা ঘুরতে ও বিনিয়োগে আগ্রহী। কিন্তু সড়কপথে ঢাকা থেকে বগুড়া আসতে কখনো কখনো ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লেগে যায়। তাই বিনিয়োগ হারাচ্ছে এ এলাকা।
এদিকে বিমান যোগাযোগের সুবিধা না থাকায় জেলার আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়ামটিরও যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। অথচ ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল বা আইসিসি বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যুর মর্যাদা দিয়েছিল।
Leave a Reply