সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে পাওয়া ছয় কেজি ৭৬০ গ্রাম ওজনের ৫৮টি চোরাই স্বর্ণবারের মামলায় গ্রেপ্তার পরিবহনটির চালক, হেল্পার ও সুপারভাইজারকে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- বাসের চালক মো. শাহাদাৎ হোসেন, হেলপার মো. ইব্রাহিম ও সুপারভাইজার মো. তাইফুল ইসলাম। যাদের মধ্যে শাহাদাৎ ও ইব্রাহিমের দুই দিন করে এবং তাইফুলের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী এ রিমান্ডের আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন।

মামলায় আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. আহ্সান তারিক রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তিনি বলেন, ‘ড্রাইভারের সিটের নিচ থেকে ছয় কেজি ৭৬০ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। পরে আমিন জুয়েলার্সের মুসা খান উদ্ধারকৃত স্বর্ণ পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেন। কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা না করিয়ে কেনো প্রাইভেট একটি প্রতিষ্ঠান থেকে স্বর্ণ পরীক্ষা করবে। আসামিরা স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের দ্বন্দ্বের শিকার বলে আদালতকে জানান এ আইনজীবী।
রাষ্ট্রপক্ষে বিমানবন্দর থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের এসআই মো. ফরিদ মিয়া জামিনের বিরোধীতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।

এর আগে গত ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর বিমানবন্দর ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে সোহাগ পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব ১৪৯৫১৪ নম্বর সাতক্ষীরাগামী একটি বাস আটক করা হয়। বাসটি তল্লাশী করে চালকের সিটের নিচ থেকে ৫৮টি চোরাই স্বর্ণবার জব্দ করা হয়। যার ওজন ছয় কেজি ৭৬০ প্রাম। যার বাজার মূল্য চার কোটি ৪৫ লাখ টাকা। যা দুবাই থেকে বিমানে করে অবৈধভাবে স্বর্ণের বারগুলো দেশে আনার পর তা বাসে করে ভারতে পাচারের জন্য সাতক্ষীরা সীমান্তের দিকে যাচ্ছিল। ওই ঘটনায় ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় আসামিদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় স্বর্ণচোরাচালান আইনে মামলা করা হয়।
Leave a Reply