1. paribahanjagot@gmail.com : pjeditor :
  2. jadusoftbd@gmail.com : webadmin :
মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৩:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সম্পাদক ওসমান আলীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, অপসারণ দাবি বৈশ্বিক বিমান সংস্থাগুলোর মুনাফা হবে তিন হাজার কোটি ডলার উত্তরা মোটর্স বাজারে এনেছে ইসুজুর দুই মডেলের বাস বাংলাদেশীদের জন্য ভ্রমণ ফি কমাল ভুটান পরিবহন চাদাবাজি : সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড দখল নিয়ে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র হবিগঞ্জ নিহত ৩, আহত ৫০ গতিসীমা নিয়ে বিতর্ক : শহরে বাইকের সর্বোচ্চ গতি ৩০ কিলোমিটার, মহাসড়কে ৫০ কর্মীরা গণহারে অসুস্থ, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ৯০ ফ্লাইট বাতিল মগবাজার রেল গেটে ট্রেনের ধাক্কায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের গাড়ি চুরমার নতুন দুটি বিদেশি এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম শুরু আগামী মাসে : অক্টোবরে চালু হচ্ছে থার্ড টার্মিনাল চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৯ মাসে ৪৩৫৫ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি

ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ডোপ টেস্ট করাতে গিয়ে দুর্ভোগে চালকেরা

তৌফিকুল ইসলাম
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

ডোপ টেস্ট করাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে এসেছিলেন অমিক পাটোয়ারি। এসে জানলেন, এ হাসপাতালে দিনে মাত্র ১৫ জনের টেস্ট করানো হয়। এ জন্য সিরিয়াল নিতে হয় আগেই। অমিকও সিরিয়াল পেলেন, কিন্তু সেটা দু-এক দিনের মধ্যে নয়। তাঁকে নমুনা জমা দেওয়ার জন্য আসতে বলা হয়েছে আগামী ১১ এপ্রিল। অথচ বিদেশে যাওয়ার জন্য দ্রুতই পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স করানো দরকার অমিকের। কিন্তু ডোপ টেস্টের সনদ ছাড়া লাইসেন্স পাওয়ার উপায় নেই। আবার দ্রুত ডোপ টেস্ট করানোর সুযোগও নেই। সব মিলিয়ে ভীষণ বেকায়দায় পড়েছেন অমিক।
অমিকের মতো ভোগান্তিতে পড়েছেন আরও বিপুলসংখ্যক লাইসেন্সপ্রত্যাশী। যাঁদের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাঁরাও ডোপ টেস্টের কারণে লাইসেন্স নবায়ন করতে না পেরে রাস্তায় নিয়মিত ঝামেলা পোহাচ্ছেন। হাতে গোনা যে কয়েকটি হাসপাতালে ডোপ টেস্ট করানো হচ্ছে, সেগুলোতে মানুষের এতই চাপ যে মাসখানেকের আগে সিরিয়ালই পাওয়া যাচ্ছে না। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চালকেরা।
গত ৩০ জানুয়ারি থেকে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ডোপ টেস্টের সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়। এই টেস্টের জন্য কয়েকটি হাসপাতাল নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এসব হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, নমুনা জমা দেওয়ার পর দু-এক দিনের মধ্যেই সনদ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু নমুনা জমা দেওয়ার সুযোগ পেতেই গলদঘর্ম হতে হচ্ছে লাইসেন্সপ্রত্যাশীদের। কারণ, হাসপাতালগুলোতে একসঙ্গে বেশি মানুষের টেস্ট করানোর সুযোগ না থাকায় এ প্রক্রিয়ায় ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে। নমুনা জমা দেওয়ার সিরিয়াল পেতেই দীর্ঘদিন লেগে যাচ্ছে। এর মধ্যে প্রতিদিনই চাপ বাড়ছে টেস্ট করাতে আসা মানুষের।
টেস্টের জন্য নির্ধারিত হাসপাতাল গুলোর মধ্যে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট হাসপাতালে দিনে সর্বোচ্চ ৪০ জনের টেস্ট করা হচ্ছে। এরই মধ্যে আগামী ২০ মার্চ পর্যন্ত টেস্টের সিরিয়াল জমা পড়েছে। জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে সিরিয়াল জমা পড়েছে আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারে প্রতিদিন ৪০-৫০ জনের টেস্ট করা হচ্ছে। এ ছাড়া চাহিদা অনুযায়ী ডোপ টেস্ট চলছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও। টেস্ট করার জন্য প্রত্যেককে গুনতে হচ্ছে ৯০০ টাকা। কাকে কোন হাসপাতালে টেস্ট করাতে হবে, তা-ও নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে বিআরটিএ থেকে।
কিটসংকটের কারণে হাসপাতালগুলোতে একসঙ্গে বেশি লোকের টেস্ট করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া ডোপ টেস্টের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং লোকবল না থাকার কারণেও এ কাজে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এহেসানুল হক বলেন, ‘বেশি মানুষের ডোপ টেস্ট করাতে পারছি না। কারণ, আমাদের করোনাসহ আরও বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৪০০ পরীক্ষা করতে হয়। বেশি স্যাম্পল নিলে রিপোর্ট দিতে দেরি হবে। এখন কিটের সংকট নেই, তবে টেস্টের পরিমাণ বাড়লে কিটের সংকট হবে। তা ছাড়া লোকবলেরও সংকট আছে।’ প্রায় অভিন্ন অজুহাত শোনা গেল অন্য হাসপাতালের কর্মকর্তাদের কাছেও।
এই জটিলতা থেকে রেহাই পেতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. ফরিদ হোসেন মিঞা বলেন, ‘চলতি সপ্তাহে আরও অনেক হাসপাতালকে টেস্ট করার অনুমতি দেওয়া হবে। প্রাইভেট হাসপাতালে এই টেস্ট করানো যায় কি না, সে বিষয়ে বিআরটিএর সঙ্গে কথা বলব। যদিও প্রাইভেট হাসপাতালে খরচ বেশি হবে।’
দু-এক দিনের মধ্যে চালকদের ভোগান্তি ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করে বিআরটিএর পরিচালক (রোড সেফটি) শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানী বলেন, হাসপাতালের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।
এদিকে বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এআরআই) পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান জানালেন আরেক আশঙ্কার কথা। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ডোপ টেস্টের সনদ নেওয়ার জন্য এত ভোগান্তি হলে ভিন্ন পন্থা খোঁজার চেষ্টা করবেন অনেকে। সে ক্ষেত্রে ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স করানোর প্রবণতা বাড়তে পারে।’
এদিকে গতকাল সচিবালয়ে এক সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, ‘শুধু লাইসেন্সের সময়ই নয়, টার্মিনালগুলোতে পর্যায়ক্রমে ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা করা হবে। গাড়ি চালানোর আগেই চালকদের টেস্ট করানোর একটি সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি। সে অনুযায়ী কাজ চলছে।’ উৎস : আজকের পত্রিকা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© 2020, All rights reserved By www.paribahanjagot.com
Developed By: JADU SOFT