জার্মানির বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মার্সিডিজ। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি ইলেকট্রিক কার এনেছে। মডেল মার্সেডিজ-বেঞ্জ ভিশন ইকিউএক্সএক্স। এটি একটি সেডান কার। যার বিশেষত্ব হচ্ছে এক চার্জে চলবে ১২০২ কিলোমিটার। যা ইলেকট্রিক গাড়ির বাজারে রীতিমত তাক লাগিয়েছে।
কেননা, এটিই প্রথম কোনো ইলেকট্রিক গাড়ি যা কি না ১২০২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে। এই নতুন বিলাসবহুল গাড়িটি কোম্পানির নির্ধারিত ১০০০ কিলোমিটার যাওয়ার রেকর্ড ভেঙেছে।

ব্যাটারিচালিত এই গাড়ি ঘিরে কৌতূলের শেষ নেই অটোব্লগারদের মধ্যে।

এপ্রিল মাসে কোম্পানিটি স্টুটগার্ট থেকে ক্যাসিস (ফ্রান্স) পর্যন্ত প্রথম রেকর্ড-ব্রেকিং ড্রাইভ করার পর, প্রোটোটাইপ গাড়িটি এক চার্জে স্টুটগার্ট থেকে সিলভারস্টোন পর্যন্ত ১২০২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে।
সবথেকে বড় বিষয় কোম্পানি জানিয়েছে, পুরোপুরি ইলেকট্রিক প্রোটোটাইপ এই সেডান। এই গাড়িতে অন্য কোনও জ্বালানি যেমন পেট্রলের প্রয়োজন হয় না।
কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, মার্সেডিজ-বেঞ্জ ভিশন ইকিউএক্সএক্স রেঞ্জ ভারী ট্রাফিকে গ্রীষ্মের তাপমাত্রার মধ্যে ১০০ কিলোমিটার যেতে ৮.৩ কিলোওয়াট ব্যাটারি খরচ করেছে। এই গাড়ির মধ্যে নতুন হিট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থা রয়েছে।

মার্সেডিজ-বেঞ্জ গ্রুপের ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের সদস্য মার্কাস শেফার বলেন, ‘এই গাড়িটি আগের যেকোনও গাড়ির থেকে বেশি আরামদায়ক যাত্রা দিতে সক্ষম। এই নতুন গাড়িটি আবার প্রমাণ করল যে, ভিশন ইকিউএক্সএক্স রেঞ্জের এক ব্যাটারির চার্জে এটি সহজেই ১০০০ কিলোমিটারের বেশি অতিক্রম করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, মার্সেডিজ বেঞ্জ ২০৩০ 2030 সালের মধ্যে পুরোপুরি ইলেকট্রিক হওয়ার চেষ্টা করছে। কোম্পানি এখন গুরুত্বপূর্ণ নতুন গবেষণা ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ওপর কাজ করার চেষ্টা করছে। টিমওয়ার্ক ও উন্নত সংকল্প থাকলে দ্রুত আরও ভাল প্রোডাক্ট দিতে পারবে কোম্পানি।
কোম্পানি জানিয়েছে, পরীক্ষা করার সময় প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রাখেছিল মার্সেডিজ বেঞ্জ। ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপের মধ্যে চালানো হয়েছিল গাড়ি। এছাড়াও স্টুটগার্টের আশেপাশে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বে ট্রাফিকের কথাও মাথায় রেখেছিল প্রতিষ্ঠানটি।
১২০০ কিলোমিটার যাত্রা শেষ করতে ১৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় লেগেছে এই সেডানের। এই গাড়ি এখনও বাজারে আসেনি। গাড়িতে এখনও কাজ চলছে।
Leave a Reply