আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসোলিন ও ডিজেলের দাম রেকর্ড সর্বোচ্চে অবস্থান করছে। জ্বালানির ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলো। বাজারে চলমান সংকট ও ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল রফতানি করেছে। খবর রয়টার্স।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জ্বালানি সংকট মোকাবেলা ও স্থানীয় বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে এসপিআর থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি এখন পর্যন্ত ৫০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি জ্বালানি তেল এশিয়া ও ইউরোপে রফতানি করা হয়েছে। এর আগে রাষ্ট্রীয় মজুদ থেকে এ পরিমাণ জ্বালানি তেল আর কখনো রফতানি করেনি যুক্তরাষ্ট্র।

স্থানীয় বাজার নিয়ন্ত্রণে এসব তেল উন্মুক্ত করা হলেও এবার তা বিশ্বের অন্যান্য দেশের সংকট মোকাবেলায় ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পেট্রল পাম্পগুলোয় জ্বালানির রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি রুখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সেটিকে ম্লান করে দিচ্ছে রিজার্ভ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও জ্বালানি পণ্য রফতানি।
তথ্য বলছে, গত অক্টোবর থেকে এসপিআর থেকে প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেল করে জ্বালানি তেল সরবরাহ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে গত মসে এসপিআরের পরিমাণ কমে ১৯৮৬ সালের সর্বনিম্নে নেমেছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মার্কিন বাজার আদর্শের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। গ্যাসোলিন ও ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি ৫ ডলারেরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে এসপিআর না বাড়লে জ্বালানি তেলের দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, অপরি শোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক সংকট কালে এসপিআর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জরুরি সরবরাহের মাধ্যমে এটি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বিভাগের দেয়া তথ্যানুযায়ী, দেশটির চতুর্থ শীর্ষ পরিশোধন প্রতিষ্ঠান ফিলিপস ৬৬ টেক্সাসের বিগ হিল এসপিআর স্টোরেজ সাইট থেকে ইতালির বন্দর নগরী ত্রিয়েস্তেতে ৪ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল জাহাজীকরণ করেছে। ত্রিয়েস্তে থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে মধ্য ইউরোপের দেশগুলোর পরিশোধন কেন্দ্রে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। শুল্ক বিভাগ আরো জানায়, আটলান্টিক ট্রেডিং অ্যান্ড মার্কেটিং দুটি কার্গোযোগে ৫ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল করে রফতানি করেছে।

ইন্ডাস্ট্রি সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এসপিআরের জ্বালানি তেল নিয়ে একটি কার্গো নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। আরেকটি কার্গোর মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে ভারতের রিলায়েন্স পরিশোধন কেন্দ্রেও। এছাড়া অন্য একটি কার্গোর মাধ্যমে চীনে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছে।
রফতানি সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এদিকে লুইজিয়ানার ওয়েস্ট হেকব্যারি এসপিআর সাইট থেকে অন্তত এক কার্গো জ্বালানি তেল চলতি মাসে রফতানির কথা রয়েছে।
জ্বালানি পণ্যের বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেপলারের বিশ্লেষক ম্যাট স্মিথ বলেন, এসপিআর থেকে সরবরাহ না করলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও জালানি পণ্যের দাম আরো বেড়ে যেত। তবে যতটুকু প্রত্যাশা ছিল, সেটিও পূরণ হয়নি রিজার্ভ উন্মুক্ত করার মাধ্যমে।
সর্বশেষ গত এপ্রিলে এসপিআর থেকে সরবরাহকৃত জ্বালানি তেল নিয়ে তিনটি কার্গো ইউরোপে পৌঁছায়। অঞ্চলটিতে রফতানির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়ার ওপর থেকে নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে ইউরোপকে সহায়তা করা। বর্তমানে মার্কিন জ্বালানি তেলের মজুদ ২০০৪ সালের পর সর্বনিম্নে অবস্থান করছে।
Leave a Reply