কার্বন নিঃসরণ রোধে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) তৈরির দিকে ঝুঁকেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। পুরোদমে ইভি চলাচল শুরু করতে তাই চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা প্রয়োজন। এরই ধারাবাহিকতায় দুই হাজার ইভি চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনায় পাইলট ট্রাভেল সেন্টারস ও ইভি গোর সঙ্গে যোগ দিয়েছে মার্কিন গাড়ি নির্মাতা জেনারেল মোটরস (জিএম)। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৫০০টি পাইলট ফ্লাইং জে সাইট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাগুলোর। খবর এপি।
ইভি স্টেশন স্থাপনে কত ব্যয় হবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অসম্মতি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে এক বিবৃতিতে বলা হয়, এর জন্য সরকারি অনুদানের ওপর অনেকটাই নির্ভর করা হচ্ছে। এবারের গ্রীষ্মেই নির্মাণ প্রকল্পটি শুরু হবে।

এ বিষয়ে জিএমের মুখপাত্র ফিলিপ লিনার্ট জানান, ২০২৩ সালের মধ্যে প্রথম চার্জারটি চালু করা হবে। কয়েক বছরের মধ্যেই নেটওয়ার্ক স্থাপনের কাজ সমাপ্ত হবে। জিএম জানায়, এক অঙ্গরাজ্য থেকে অন্য অঙ্গরাজ্যে চলাচলের সুবিধার্থে হাইওয়েজুড়ে নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হবে।

এদিকে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশজুড়ে পাঁচ লাখ ইভি স্টেশন নির্মাণের প্রকল্প নিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় গ্যাসচালিত গাড়ির পরিবর্তে ইভি চালু করতেই এ লক্ষ্য নিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর জন্য মোট ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ব্যয় হবে। এর জন্য অবকাঠামো আইন অনুমোদন করলেও এ ব্যয়ের মাত্র অর্ধেক জোগাবে কংগ্রেস।
এ বিষয়ে ন্যাশনাল ক্লাইমেটের উপদেষ্টা জিনা ম্যাকার্থি বলেন, এ সত্ত্বেও ইভি চার্জিং স্টেশনের জন্য ৭৫০ কোটি ডলার ব্যয় শিল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে। দারুণ ব্যাপার হলো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এতে সাড়া দিয়েছে। সংস্থাগুলো নিজস্ব লক্ষ্যও নির্ধারণ করছে।

mপ্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে পাঁচ লাখ চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পথ আরো সুগম করে দেবে অবকাঠামো আইন। বর্তমানে দেশটিতে ৪৯ হাজার স্টেশনে প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার ইভি আউটলেট রয়েছে।
এ বিষয়ে পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, ৭৫০ কোটি ডলারের মধ্যে ৫০০ কোটি ডলার যাবে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। এরপর ওই অঙ্গরাজ্যগুলোর মেয়র চাইলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব করতে পারে। বাকি ২৫০ কোটি ডলার চার্জিং প্রকল্পটির জন্য অনুদান হিসেবে দেয়া হবে। এখন পর্যন্ত কোনো অনুদান দেয়া হয়নি।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মোবিলিটি প্রিন্সিপাল বিশ্লেষক স্টিফানি ব্রিনলি বলেন, জনসাধারণের ইভিতে যাতায়াতের সুবিধার্থে চার্জিং নেটওয়ার্কটি স্থাপন করা হচ্ছে। পাইলটের মতো ইভির অবকাঠামোগুলো কয়েকটি স্থানের সমন্বয়ে তৈরি করা প্রয়োজন। পাইলট জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মোট ৪৪টি অঙ্গরাজ্যে ও পাঁচটির কানাডার প্রদেশে ৭৫০টিরও বেশি স্থানে আউটলেট রয়েছে।
এদিকে ২০৩৫ সালের মধ্যে শুধু বিদ্যুচ্চালিত যাত্রীবাহী গাড়ি তৈরির উদ্দেশ্য জিএমের। এছাড়া ২০২৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিকভাবে বিক্রির লক্ষ্যে ৩০টি ইভি মডেলের প্রতিশ্রুতি রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। চার্জারের জন্য প্রায় ৭৫ কোটি ডলার ব্যয় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ গাড়ি নির্মাতা সংস্থাটি। তবে এখন পর্যন্ত এর কতটুকু অর্থ ব্যয় করা হয়েছে তা প্রকাশ করতে অসম্মতি জানিয়েছে জিএম।
Leave a Reply