ভারত ও ইউরোপে কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন ১২ হাজার কোটি রুপি বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে টাটা স্টিল। সম্প্রতি কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহী (সিইও) টি ভি নরেন্দ্রান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেয়া সাক্ষাত্কারে নরেন্দ্রান জানান, প্রতিষ্ঠানটি ভারতে সাড়ে ৮ হাজার কোটি রুপি এবং ইউরোপে সাড়ে ৩ হাজার কোটি রুপি বিনিয়োগ করবে।
তিনি বলেন, আমরা এ বছর ১২ কোটি রুপি মূলধন ব্যয়ের পরিকল্পনা নিয়েছি। ইউরোপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভারতের স্থানীয় স্টিল বাজারে সাড়ে ৮ হাজার কোটি রুপি বিনিয়োগ ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে বিশেষ নজর দেয়া হবে কলিঙ্গনগর প্রকল্প সম্প্রসারণ, খনন কার্যক্রম এবং ইউরোপের বাজারে। এছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ, পণ্য মিশ্রণ সমৃদ্ধ করা এবং পরিবেশ সম্পর্কিত বিষয়াদির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন নরেন্দ্রান।

কোম্পানিটির ওড়িশার কলিঙ্গনগর প্লান্টের সক্ষমতা আরো বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। এটি ৩ এমটি সক্ষমতা থেকে বাড়িয়ে ৮ এমটিতে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এর বাইরে ১২ হাজার কোটি রুপি বিনিয়োগ পরিকল্পনার আওতায় নীলাচল ইস্পাত নিগম লিমিটেড (এনআইএনএল) অধিগ্রহণে ব্যয় করা হবে।
টাটা স্টিলের সিইও আরো বলেন, এ অর্থের ভেতর কোম্পানির অধীনে টাটা স্টিল লং প্রডাক্ট লিমিটেডের (টিএসএলপি) মাধ্যমে ওড়িশাভিত্তিক বার্ষিক ১ মিলিয়ন টন সক্ষমতার এনআইএনএল কোম্পানিকে অধিগ্রহণ ব্যয় করা হবে।

নরেন্দ্রান ইউরোপের ব্যবসা পরিকল্পনায় পরিবর্তনের কথাও জানিয়েছেন। পরিকল্পনা অনুসারে ওই এলাকায় ব্যবসা কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণ করা হবে। এর আওতায় ডাচ ব্যবসা এবং ব্রিটিশ ব্যবসাকে আলাদা করা হবে। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বৃহৎ পরিসরে টাটা স্টিলের অধীনে মোট পাঁচটি ব্যবসায়িক কেন্দ্র থাকবে। এর মধ্যে ভারতে তিনটি এবং ইউরোপে দুটি। এসব প্রধান কেন্দ্রের প্রতিটিতে আরো মনোযোগ দেয়া হবে। ইউরোপীয় কেন্দ্রটি স্বনির্ভরের জন্য কাজ করা হবে।
টাটা স্টিলের এ শীর্ষ কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় ইস্পাত নিগম লিমিটেড (আরআইএনএল) অধিগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, টাটা বড় কোনো প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণের জন্য মরিয়া নয়। তবে এনআইএনএল অধিগ্রহণে এ অপ্রাপ্তি দূর হয়েছে।
সরকারের শুল্কবিষয়ক পদক্ষেপ সম্পর্কে নরেন্দ্রান বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের বাধ্যবাধকতাগুলো আমি সম্পূর্ণরূপে বুঝতে পারছি এবং সাধুবাদ জানাচ্ছি। তবে মধ্যম থেকে দীর্ঘমেয়াদে আমাদের আরো সক্রিয় হওয়া উচিত, যাতে বিশ্বে স্টিল উৎপাদনে অন্যতম উত্তম জায়গা হিসেবে বিবেচিত হয়।
শীর্ষ ইস্পাত সংস্থা ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটিরও সদস্য নরেন্দ্রান। তিনি বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত বিশ্বব্যাপী ভূরাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করেছে এবং ইস্পাত শিল্পকে একাধিক দিক থেকে প্রভাবিত করেছে।
Leave a Reply