বোয়িংয়ের ১০০টি ৭৩৭ ম্যাক্স ১০ উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দিচ্ছে ডেল্টা এয়ারলাইনস। মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত মডেল এটি। আবার ত্রুটির দিক থেকেও এগিয়ে রয়েছে জনপ্রিয় এ উড়োজাহাজ। এ অবস্থায় মার্কিন উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা থেকে বড় এ ক্রয়াদেশ বোয়িংকে এ জেট সরবরাহ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এপির খবরে বলা হয়েছে, ১০০টি ছাড়াও চুক্তিতে ডেল্টার কাছে আরো ৩০টি উড়োজাহাজ কেনার বিকল্প রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ক্রমবর্ধমান ভ্রমণের চাহিদা সংস্থাটিকে বহর সম্প্রসারণে প্ররোচিত করছে। লন্ডনের কাছে ফার্নবরো আন্তর্জাতিক এয়ার শোয়ে এ চুক্তির ঘোষণা দেয়া হয়।

এর আগে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে দুটি ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে মডেলটি গ্রাউন্ডেড করে দেয়া হয়। তদন্ত শেষে এবং ত্রুটি সারিয়ে গত বছর থেকে মডেলটি পরিষেবায় ফেরার অনুমোতি দেয় বিভিন্ন দেশ। এরপর থেকেই বোয়িং ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারবাসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হিমশিম খাচ্ছে। নতুন ক্রয়াদেশ পাওয়ার খবরের পর মার্কিন পুঁজিবাজারে বোয়িংয়ের শেয়ারদর ৩ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি ডেল্টার এয়ারলাইনসের শেয়ারদরও প্রাথমিক লেনদেনে ৫ শতাংশ বেড়েছে।
বিভিন্ন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আক্রমণাত্মকভাবে খরচ কমানোর চেষ্টা করছে। ৭৩৭ ম্যাক্স এক্ষেত্রে এয়ারলাইনসগুলোর জন্য সহায়ক হতে পারে। ডেল্টা এয়ারলাইনস জানিয়েছে, মডেলটিতে সর্বোচ্চ ২৩০ জন বসতে পারেন। এটি পুরনো উড়োজাহাজের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি খরচ ও নিঃসরণ কমিয়ে আনবে।
যদিও ৭৩৭ ম্যাক্স ১০ এখনো ফেডারেল নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পায়নি। নির্মাণ ত্রুটির কারণে এক বছর পর ছাড়পত্র দেয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তবে বোয়িং সেই সময়সীমা শেষের আগেই অনুমোদন পেতে তাড়াহুড়ো করছে।
ডেল্টার এ ক্রয়াদেশের আর্থিক শর্তাবলি প্রকাশ করা হয়নি। বোয়িংয়ের ওয়েবসাইটে দেয়া মূল্য অনুসারে, ক্রয়াদেশটি ১ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার মূল্যের। তবে এ ধরনের ক্রয়াদেশের ক্ষেত্রে এয়ারলাইনসগুলো বড় ধরনের ছাড় পায়।
Leave a Reply