গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ঠেকাতে একজোট হয়েছে বিশ্ব। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করতে অটোমোবাইল প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) তৈরির দিকে ঝুঁকছে। তবে কার্বন নিঃসরণে উড়োজাহাজের দায় তুলনামূলক কম। দায় কম হলেও সম্প্রতি বিদেশ ভ্রমণে আগ্রহী হচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা। এতে উড়োজাহাজে পরিবহন বেড়েছে। ফলে পরিবেশের ওপর এ খাতের বিরূপ প্রভাবও বাড়ছে। এর জের ধরে ২০৫০ সালের মধ্যে নিট জিরো গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের লক্ষ্য স্থির করেছে উড়োজাহাজ পরিবহন শিল্প খাত। তবে লক্ষ্য পূরণ নিয়ে আশঙ্কা কাটছে না বিশেষজ্ঞদের। খবর জাপান টুডে।
কভিডের প্রাদুর্ভাবের আগে প্রতি বছর জ্বালানি পোড়ানোর মাত্রা স্থিতিশীল ছিল। সে তুলনায় আজকের উড়োজাহাজের ইঞ্জিন বেশি কার্যকরী। এ সত্ত্বেও জ্বালানি পোড়ানো কমানোর হারে শ্লথগতি দেখা গিয়েছে। এক বছরে উড়োজাহাজের জ্বালানি পোড়ানো হ্রাসের হার গড়ে ১ শতাংশ।

গত সোমবার যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের সন্নিকটে শুরু হওয়া এবারের ফার্নবরো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারশোয় জলবায়ু পরিবর্তন ছিল অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। সম্প্রতি ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ দেখা দেয় যুক্তরাজ্যে। এমন সময় ফার্নবরো এয়ারশো অনুষ্ঠানটি শুরু হয়।
এ বিষয়ে বেইন অ্যান্ড করপোরেশনের এক মুখপাত্র জিম হ্যারস বলেন, কভিড-১৯ মহামারীর প্রকোপ থেকে সম্প্রতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে উড়োজাহাজ পরিবহন শিল্প খাত। এ পরিস্থিতিতে ২০৫০ সালের মধ্যে নিট জিরো লক্ষ্য অর্জনই হবে শিল্প খাতের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য কোনো নির্দিষ্ট সমাধান নেই। কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তিও নেই। সময়সীমার মধ্যে যে পরিবর্তনগুলো প্রয়োজন সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ।

এদিকে ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের তথ্য বলছে, গাড়ি কিংবা ট্রাকের ছয় ভাগের এক ভাগ কার্বন নিঃসরণ হয় এভিয়েশন খাত থেকে। উপরন্তু গাড়ি কিংবা ট্রাকের তুলনায় উড়োজাহাজ ব্যবহারের সংখ্যাও কম।
২০১৯ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি বৃহত্তম এয়ারলাইনস—আমেরিকান, ইউনাইটেড, ডেলটা ও সাউথওয়েস্টের জেট জ্বালানির ব্যবহার ১৫ শতাংশ বেড়েছে। এরপর কভিডের কারণে উড়োজাহাজ ব্যবহার কমে। এ সময় বহরে আরো কার্যকরী ও উন্নতমানের ইঞ্জিনচালিত উড়োজাহাজ যোগ হয়।
গত সোমবার ফার্নবরো এয়ারশোয় বিশ্বের দুই বৃহত্তম উড়োজাহাজ নির্মাতা এয়ারবাস ও বোয়িংয়ের কর্মকর্তারা তাদের বক্তব্যে টেকসই ইঞ্জিনের উড়োজাহাজের কথা তুলে ধরেন।

কার্বন নিঃসরণে এক অভিনব প্রযুক্তির কথা জানিয়েছে ইউরোপের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসসহ আরো সাতটি এয়ারলাইনস। ওয়েস্ট টেক্সাসে একটি প্রকল্পের আওতায় এ প্রযুক্তি দিয়ে বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ করে তা মাটির গভীরে পুঁতে রাখা হবে। অন্যদিকে বোয়িংয়ের কর্মকর্তারা জানান, টেকসই এভিয়েশন জ্বালানি (এসএএফ) কার্বন নিঃসরণের জন্য সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ উপায়, তবে সেটা একমাত্র উপায় না।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে এয়ারলাইনসগুলোর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ উড়োজাহাজের গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে একটি চুক্তি করে। ওই সময়ের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে ৩০০ কোটি গ্যালন এসএএফ উৎপাদন হবে। ২০৫০ সালের মধ্যে গতানুগতিক জেট জ্বালানি পরিবর্তনও এ চুক্তির আওতাভুক্ত। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা এ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তবে নির্ধারিত লক্ষ্যকে অতি আশাবাদ বলেও সংশয় প্রকাশ করছেন অনেকে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ লক্ষ্য পূরণ বাস্তবসম্মত নয়।
Leave a Reply