1. paribahanjagot@gmail.com : pjeditor :
  2. jadusoftbd@gmail.com : webadmin :
শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
র‌য়্যাল এনফিল্ডের ৩৫০ সিসির নতুন ৪ বাইকের যত ফিচার ঝালকাঠি থেকে ১১ রুটে বাস চলাচল বন্ধ বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ১০ দেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি হলেন স্টার লাইনের হাজী আলাউদ্দিন তরুণরা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে নামুক আবার পেট্রোনাস লুব্রিক্যান্টস বিক্রি করবে মেঘনা পেট্রোলিয়াম অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশে ভারতীয় সব ভিসা সেন্টার বন্ধ মন্ত্রী এমপিদের দেশত্যাগের হিড়িক : নিরাপদ আশ্রয়ে পালাচ্ছেন অনেকেই বাস ড্রাইভার নিকোলাস মাদুরো আবারও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ইউএস-বাংলার দশম বর্ষপূর্তি : ২৪ এয়ারক্রাফট দিয়ে দেশে বিদেশে ২০ গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা

অর্থনীতিতে আশা জাগাচ্ছে বরিশালের জাহাজ নির্মাণ শিল্প

এম. মিরাজ হোসাইন, বরিশাল
  • আপডেট : শনিবার, ২৩ জুলাই, ২০২২

দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে আশা জাগাচ্ছে লঞ্চ ও পণ্যবাহী জাহাজ নির্মাণ শিল্প। একের পর এক গড়ে উঠছে ডকইয়ার্ড। স্থানীয় বেকারত্ব দূর করতেও ভূমিকা রাখছে শিল্পটি। বছরে তিন সহস্রাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হচ্ছে ডকইয়ার্ডগুলোয়। শুধু তা-ই নয়, স্থানীয় অর্থনীতিকেও সমৃদ্ধ করছে এ শিল্প। আগে বরিশালের নৌযান ব্যবসায়ীদের বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও খুলনার দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো। কিন্তু এখন জাহাজ নির্মাণ শিল্পে সুবাতাস বইছে বরিশালেও। গত এক দশকে কীর্তনখোলা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে প্রায় ১০-১২টি ডকইয়ার্ড।
এসব ডকইয়ার্ডে নির্মাণ করা হচ্ছে ছোট-বড় লঞ্চ, যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী জাহাজ। বরিশাল-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বেশির ভাগ বিলাসবহুল নৌযানই তৈরি এসব ডকইয়ার্ডে। দেশী-বিদেশী প্রযুক্তির মিশ্রণে স্থানীয় শ্রমিকরাই নির্মাণ করছেন এসব জলযান। যেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে অনেক মানুষের। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা, গ্যাস, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং স্বল্প সুদে ঋণ পেলে বরিশালে আন্তর্জাতিক মানের জাহাজ নির্মাণ সম্ভব বলেও মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
জানা গিয়েছে, নগরীর বেলতলা খেয়াঘাট এলাকায় কীর্তনখোলা তীরবর্তী সুরভী ও সুন্দরবন লঞ্চ কোম্পানির শিপইয়ার্ড প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে লঞ্চ ও পণ্যবাহী কার্গো নির্মাণ করে আসছে। বছরে প্রায় দু-চারটি চারতলা লঞ্চ তৈরি করা হয় শিপইয়ার্ড দুটি থেকে। পাশাপাশি অ্যাডভেঞ্চার কোম্পানির নিজাম শিপইয়ার্ড ও এম খান শিপইয়ার্ড রয়েছে সাবেক দপদপিয়া ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায়। এছাড়া কেডিসি সংলগ্ন চাঁদমারী এলাকায়ও ছোট-ছোট পণ্যবাহী ট্রলার ও কোস্টার নির্মাণের ডকইয়ার্ড রয়েছে। আর বরিশাল জেলার নিকটবর্তী স্বরূপকাঠী থানায় সন্ধ্যা নদীর তীরে গড়ে উঠেছে বড় বড় কার্গো নির্মাণ শিপইয়ার্ড।
প্রতি বছরই ঢাকা-বরিশাল নৌ-রুটসহ পটুয়াখালী রুটেও বৃহৎ ও বিলাসবহুল যাত্রীবাহী নৌযান যোগ হয়। এ লঞ্চগুলোর অধিকাংশই নির্মিত হয় বরিশাল নগরীর বেতলা খেয়াঘাট শিপইয়ার্ডে। এর মধ্যে রয়েছে সুন্দরবন নেভিগেশন কোম্পানি ও সুরভী লঞ্চের ক্রিসেন্ট নেভিগেশন কোম্পানি। শুধু নতুন নতুন লঞ্চ নির্মাণই নয়, এ বৃহদাকার লঞ্চগুলো মেরামতের জন্যও এ শিপইয়ার্ডগুলোয় শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করেন।
সরেজমিনে দেখা গিয়েছে, কীর্তনখোলা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে জাহাজ নির্মাণ শিল্প। জুতসই প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করেই এ শিল্পে এরই মধ্যে অর্ধশতাধিক ছোট-বড় যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান নির্মিত হয়েছে। সম্পূর্ণ বেসরকারি খাতে গড়ে ওঠা এ শিল্পে বিনিয়োগের পরিমাণও ৩০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। প্রতি বছর অন্তত পাঁচ-ছয়টি জাহাজ নির্মাণ করা হয় বরিশালে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ শিল্পে বিদ্যুৎ ঘাটতিসহ ভ্যাট ও আগাম আয়করের খড়গ রয়েছে। অথচ মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে ভোলায় গ্যাস থাকলেও গ্যাসনির্ভর এ শিল্পে নেই কোনো গ্যাস সুবিধা। ফলে প্রতিনিয়ত এসব বিরূপ পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করেই টিকে আছে বরিশালের জাহাজ নির্মাণ শিল্প। ভোলার গ্যাস বরিশালে এলে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে খরচ অনেক কম হতো। তাছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ খরচও বেশি।
জানা গিয়েছে, এখনো বরিশালের নৌযান নির্মাণ শিল্পে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো বিনিয়োগে তেমন আগ্রহ দেখায়নি। শুধু ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, জনতা ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংক এ খাতে সীমিত আকারে কিছু বিনিয়োগ করেছে। তবে উচ্চ সুদের হারের সঙ্গে ব্যাংকঋণ পেতে দীর্ঘ কালক্ষেপণসহ অসামঞ্জস্যপূর্ণ শর্তের বেড়াজালের কথা জানিয়েছেন এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তারা।
সুরভী শিপিং লাইনসের পরিচালক রিয়াজ-উল কবির বলেন, বরিশালে এ ব্যবসার গোড়াপত্তন ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তখন বরিশালে দক্ষ কারিগর পাওয়া যেত না। ঢাকা থেকে শ্রমিক এনে বরিশালে জাহাজ নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছিল। তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করে বরিশালের শ্রমিক ও কারিগররা এখন অনেক দক্ষ হয়ে উঠেছেন। ফলে বাইরে থেকে এখন আর শ্রমিক আনতে হয় না। দেশের যেকোনো স্থানের চেয়ে বরিশালে মজুরিও কম। এ কারণেই বরিশালে জাহাজ নির্মাণ করলে ৩০ ভাগ খরচ সাশ্রয় হচ্ছে।
বরিশালের স্থানীয় অর্থনীতির সমৃদ্ধি এবং বেকারত্ব দূর করা নিয়ে সুন্দরবন নেভিগেশনের স্বত্বাধিকারী সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, একটি শিপইয়ার্ডে অনেক শ্রমিক কাজ করে। একেকটি চারতলা লঞ্চ নির্মাণ করতে দেড় বছরের বেশি সময় লেগে যায়। আর এ পুরোটা সময়ই শ্রমিক ও প্রকৌশলীদের ব্যস্ত সময় পার করতে হয়। কারণ শিপইয়ার্ডে পুরো ২৪ ঘণ্টাই কাজ চলে।
কী ধরনের কাজ করা হয় জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, প্রথমে লোহার প্লেটগুলো বরিশালে আনার পর তা নির্দিষ্ট কায়দায় পরিষ্কার করা হয়। এরপর কাটতে হয়। প্রকৌশলীদের নির্দেশনামতো প্লেটগুলো জুড়ে দিতে হয় কাঠামোতে। শুধু তা-ই নয়, রাজমিস্ত্রিও প্রয়োজন হয় লঞ্চের কাঠামো বসানোর জন্য। দিন-রাত শ্রমিকরা প্লেট কেটে জুড়ে দিতে থাকে কাঠামোতে। একপর্যায়ে মরিচা প্রতিরোধক রঙ করতে হয়। এরপর নির্দিষ্ট পরিমাণ কেবিন ও অন্যান্য অবকাঠামো তৈরির পর ইন্টেরিয়ার ডেকোরেশন করতে হয়। বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজ করতে হয়। বিনোদন ও আরামদায়ক যাত্রার জন্য এসি ও টিভি-ফ্রিজের এবং ক্যান্টিন ও লঞ্চ পরিচালনার জন্য বিদ্যুৎ অত্যাবশ্যক। সব মিলিয়ে অনেক স্তরে জনবল খাটাতে হয় একেকটি লঞ্চ নির্মাণের জন্য। সেক্ষেত্রে এ জনবলের বেশির ভাগই আমাদের বরিশালেরই। তবে অনেক ক্ষেত্রে দক্ষতার অভাবে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকেও জনবল নিয়ে আসতে হয়। বছরে প্রায় একেকটি শিপইয়ার্ডে ৫০০-৬০০ জনবল ব্যস্ত সময় পার করে।
শিপইয়ার্ডকে ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান নিয়ে রিন্টু বলেন, স্বাভাবিকভাবেই একটি স্থানে যখন ৫০০-৬০০ জন লোকবল বা শ্রমিক কাজ করে, তখন তাদের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে নানারকম দোকান বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। যেমন চায়ের দোকান, মুদি ও সেলুনসহ অন্যান্য। এসব ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তো স্থানীয়রাই তৈরি করছে এবং তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঁচতে পারছে। এ বাস্তবতা আপনি বেতলা এলাকায় গেলেই দেখতে পারবেন। সব মিলিয়ে শিপইয়ার্ডগুলো স্থানীয়ভাবে বেকারত্ব ঘোচাতে বেশ ভূমিকা রাখছে।
১৯৬৪ সালে সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের নয়ানী এলাকায় সাহেবের হাট খালের পাশে ছোট পরিসরে একটি ডকইয়ার্ড তৈরি করেন এখানকার লঞ্চ ব্যবসায়ী সাবেক পৌর চেয়ারম্যান প্রয়াত গোলাম মাওলা। সেখানে চারটি কাঠের লঞ্চ নির্মাণের মধ্য দিয়ে নৌযান নির্মাণের যাত্রা শুরু হয়। এখন ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটে দৈনিক দুই প্রান্ত থেকে পাঁচ-ছয়টি লঞ্চ আসা-যাওয়া করে এবং এর অর্ধেকের বেশি লঞ্চ বরিশাল শিপইয়ার্ড থেকে নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুন্দরবন, অ্যাডভেঞ্চার, সুরভীসহ অন্যান্য।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© 2020, All rights reserved By www.paribahanjagot.com
Developed By: JADU SOFT