বিশ্বজুড়ে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) বিক্রিতে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে বিওয়াইডি। কম মূল্যের মডেল দিয়ে চলতি বছরের প্রথমার্ধে বাজার হিস্যা বাড়িয়ে তুলেছে চীনের ইভি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। এক বছরেরও কম সময়ের ব্যবধানে চতুর্থ অবস্থান থেকে সংস্থাটি এমন নজরকাড়া প্রবৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বৈশ্বিক ইভি বাজারে বিওয়াইডির এ সম্প্রসারণ টেসলার আধিপত্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এভাবে চলতে থাকলে মার্কিন ইভি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটিকে পেছনে ফেলে দিতে পারে বিওয়াইডি। গতকাল প্রকাশিত নিক্কেই এশিয়ার র্যাংকিংয়ে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জানুয়ারি-জুন সময়ে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি বিক্রিতে চীনা প্রতিদ্বন্দ্বী এসএআইসি মোটর ও ফক্সওয়াগনকে পেছনে ফেলেছে বিওয়াইডি। এ সময়ে সংস্থাটি ৩ লাখ ২৪ হাজার ইউনিট ইভি বিক্রি করেছে। মার্কিন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে সমর্থিত বিওয়াইডি বিদ্যুচ্চালিত ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়িতে মনোযোগ দিতে গত মার্চে পেট্রলচালিত যানবাহনের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়।

২০২২ সালের প্রথমার্ধে তিন লাখ ইউনিটেরও বেশি প্লাগ-ইন হাইব্রিড বিক্রি করেছে বিওয়াইডি। এগুলোকে ইভি হিসেবে বিবেচনায় নিলে প্রতিষ্ঠানটি বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি বিক্রিতে বিশ্বের শীর্ষ নির্মাতা হিসেবে স্থান পায়। ইউয়ান প্লাস স্পোর্ট ইউটিলিটি ভেহিকল (এসইউভি) ও ডলফিন সাবকমপ্যাক্টসহ সংস্থাটির ইভি লাইনআপের মূল্য ১ লাখ থেকে ২ লাখ ইউয়ানের (১৫-৩০ হাজার ডলার) মধ্যে সীমাবদ্ধ। তুলনামূলক কম মূল্য তরুণ গাড়ি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে সহায়তা করেছে।

গত সপ্তাহে সংস্থাটি একটি এসইউভিসহ জাপানে যাত্রীবাহী যানবাহন বিক্রির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। র্যাংকিংয়ের জন্য নিক্কেই এশিয়া বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান মার্কলাইনস ও গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য ব্যবহার করেছে। এ পরিসংখ্যানে ৬৬টি প্রধান বাজারে বিক্রি হওয়া প্রায় ৩০ লাখ ইউনিট ইভির তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২০২১ সালে বৈশ্বিক ইভি বাজারে নেতৃত্ব দেয়া টেসলা চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। এ সময়ে মার্কিন সংস্থাটি ৫ লাখ ৬৪ হাজার ইউনিট গাড়ি বিক্রি করেছে। তবে চলতি বছর সংস্থাটির গাড়ি বিক্রি কিছুটা ধীর হয়েছে। এক্ষেত্রে চীনে কভিডজনিত লকডাউনে গাড়ি উৎপাদনে ব্যাঘাতকে দায়ী করেছে প্রতিষ্ঠানটি। লকডাউনের কারণে সাংহাইয়ের কারখানায় টেসলার গাড়ি উৎপাদন কমেছে। জানুয়ারি-জুন সময়ে সংস্থাটির গাড়ি বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বেড়েছে। যেখানে ২০২১ সালের এ সময়ে সংস্থাটির গাড়ি বিক্রি ৯০ শতাংশ লাফিয়েছিল।

বছরের প্রথমার্ধে টেসলার গাড়ি বিক্রি প্রায় অর্ধেক বাড়লেও বিওয়াইডির বিক্রি বাড়ার হার তিন গুণেরও বেশি। জার্মানির বার্লিন ও যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে নতুন কারখানা চালুর পাশাপাশি সংস্থাটি জনপ্রিয় মডেল ওয়াই কমপ্যাক্ট এসইউভির বিক্রি বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা করছে। এসএআইসি-জিএম-উলিং জোটের তৈরি হংগুয়াং মিনি ইভি বিক্রি মন্দার সম্মুখীন হয়েছে। বছরের প্রথমার্ধে ৩ লাখ ১০ হাজার ইউনিট গাড়ি বিক্রি করে তৃতীয় অবস্থানে নেমে গিয়েছে এসএআইসি। ২০২১ সালে ৪ হাজার ৫০০ ডলারেরও কম মূল্যের গাড়িটি চীনের আঞ্চলিক শহরগুলোয় খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। তবে কাঁচামাল ও উৎপাদন ব্যয় মোকাবেলায় মূল্য বাড়ানোয় চলতি বছরের প্রথমার্ধে গাড়িটির বিক্রিতে পতন দেখা দিয়েছে।

এ সময়ে ২ লাখ ১৭ হাজার গাড়ি বিক্রি করেছে ফক্সওয়াগন। এর মাধ্যমে শীর্ষ ইভি নির্মাতার তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে জার্মান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া এ সময়ে হুন্দাই গ্রুপের ইভি বিক্রি দ্বিগুণ হয়ে ১ লাখ ৬৯ হাজার ইউনিটে পৌঁছেছে। তালিকায় দক্ষিণ কোরীয় সংস্থাটির অবস্থান পঞ্চম। ২০২১ সালে উন্মোচন করা আয়োনিক ফাইভ এসইউভি সংস্থাটির বাজার বাড়াতে সহায়তা করেছে। মাত্র ৫ মিনিটের চার্জে গাড়িটি ১০০ কিলোমিটার চলতে পারে। তবে ইভি বিক্রিতে পিছিয়ে পড়েছে জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। পেট্রলের মূল্য বাড়ার কারণে গাড়ি ক্রেতারা হাইব্রিডের দিকে ঝুঁকবেন বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা। জানুয়ারি-জুন সময়ে জীবাশ্ম জ্বালানি চালিত গাড়ি বিক্রি কমলেও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে ইভি বিক্রি। নিশান, রেনল্ট ও মিত্সুবিশি মোটরসের যৌথ উদ্যোগ ষষ্ঠ স্থানে নেমেছে। এ সময়ে জোটটি ১ লাখ ৩৩ হাজার ইউনিট গাড়ি বিক্রি করেছে।
Leave a Reply