বার্ষিক উড়োজাহাজ সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়েছে এয়ারবাস। যদিও কভিডজনিত স্থবিরতা কাটিয়ে বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ চাহিদা বাড়ায় উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। তবে অবশেষে সংস্থাটি ভঙ্গুর সরবরাহ ব্যবস্থা এবং শ্রম ঘাটতির চাপে নত হয়েছে। এ প্রতিবন্ধকতার কারণে চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে এয়ারলাইনসগুলোও।

রয়টার্সের খবর অনুসারে, কয়েক মাস ধরে উড়োজাহাজ উৎপাদনে জোর দিয়ে আসছিল এয়ারবাস। ভ্রমণের চাহিদা বাড়ায় সংস্থাটি শিগগিরই জেট উৎপাদন প্রাক-কভিড পর্যায়ে উন্নীত করার আশাবাদ জানিয়েছিল। তবে বিশ্বের বৃহত্তম উড়োজাহাজ নির্মাতা পরিকল্পিত উৎপাদন বৃদ্ধির প্রথম ধাপটি ছয় মাস বিলম্বিত করেছে। যদিও আর্থিক লক্ষ্যমাত্রাগুলো বজায় রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী গুইলাম ফৌরি বলেন, আমরা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে সরবরাহ ব্যবস্থা আগের পরিকল্পনাকে সমর্থন করতে পারেনি। ইঞ্জিন ঘাটতির কারণে আমরা লক্ষ্যমাত্রা থেকে ২৬টি উড়োজাহাজ উৎপাদনে পিছিয়ে রয়েছি। আমাদের লক্ষ্য বছরের শেষ নাগাদ এসব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ওঠা।
এয়ারবাস চলতি বছর সামগ্রিক সরবরাহের লক্ষ্য ৭২০ থেকে কমিয়ে ৭০০টিতে নামিয়ে এনেছে। সংস্থাটি ২০২৩ সালের মাঝামাঝির পরিবর্তে ২০২৪ সালের শুরুতে এ৩২০ সরু বডি জেটের উৎপাদন প্রতি মাসে ৬৫টিতে উন্নীত করবে। যদিও সংস্থাটি ২০২৫ সালে প্রতি মাসে ৭৫টি জেট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অব্যাহত রেখেছে।

ফরাসি উড়োজাহাজ নির্মাতা বর্তমানে উৎপাদনের তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে নির্বাহীরা বলেছেন, প্রাক-মহামারীর ৬০টির জায়গায় বর্তমানে প্রতি মাসে ৫০টি উড়োজাহাজ উৎপাদিত হচ্ছে। বছরের প্রথমার্ধে সরবরাহ না বাড়ায় লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করেছে এয়ারবাস। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সংস্থাটি ১৩২ কোটি ইউরোর পরিচালন মুনাফা পেয়েছে। এ মুনাফার পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩১ শতাংশ কম। এ সময়ে সংস্থাটির আয়ও ১০ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৮১ কোটি ইউরোয় দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা ১ হাজার ৩৭০ কোটি ইউরো আয়ের বিপরীতে ১৩২ কোটি ইউরো পরিচালন মুনাফার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
সরু বডির জেটগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা ছয় মাস পিছিয়ে দেয়ার সময় এয়ারবাস জানিয়েছে, দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দিতে সক্ষম উড়োজাহাজের চাহিদাও পুনরুদ্ধার হচ্ছে। এজন্য সংস্থাটি বড় ওয়াইড বডি জেটগুলোরও উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এশিয়ায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে এ জেটগুলোর বিক্রি বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কারণ এটি বড় জেটগুলোর অন্যতম প্রধান বাজার।
সংস্থাটির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ডমিনিক আসাম বলেন, রাশিয়ার জন্যও কিছু উড়োজাহাজ তৈরি করা হয়েছিল। তবে ইউক্রেনে আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে আরোপিত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে সেগুলো সরবরাহ করা হয়নি। তবে উড়োজাহাজগুলো অন্যত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। এটি এয়ারবাসের সরবরাহ লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনতে ভূমিকা রেখেছে।
Leave a Reply