২০২২-২৪ সালের মধ্যে পাইলট স্বল্পতায় ভুগবে বৈশ্বিক অ্যাভিয়েশন খাত। মহামারী-পরবর্তী আকাশপথে ভ্রমণ অনেকাংশে বেড়ে যাওয়া এ সংকটের মূল কারণ। নতুন তথ্য বলছে, এ সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভুগবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। খবর ন্যাশনাল নিউজ।
চলতি বছরের শেষ নাগাদ আঞ্চলিক এ ঘাটতি শুরু হবে বলে জানিয়েছে বৈশ্বিক পরামর্শক সংস্থা অলিভার উইম্যান। যদি এর প্রভাব নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে কোনো পদক্ষেপ নেয়া না হয়, ২০২৩ সালে পাইলটের স্বল্পতা গিয়ে দাঁড়াবে তিন হাজার জনে। ২০৩২ সালে এ সংখ্যা ১৮ হাজারে উন্নীত হবে।
অলিভার উইম্যানের ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার ট্রান্সপোর্টেশন অ্যান্ড সার্ভিসের অংশীদার ও প্রধান আন্দ্রে মার্টিনস বলেন, আমার ধারণা, উত্তর আমেরিকার বাইরে মধ্যপ্রাচ্যে এ সমস্যার খুব দ্রুত প্রভাব পড়বে। কারণ আগামী কয়েক বছরে সেখানে আকাশপথে ভ্রমণের চাহিদা তীব্রভাবে বাড়বে। তাছাড়া নতুন নতুন কিছু সংস্থা এ বাজারে প্রবেশ করছে এবং এ অঞ্চলে পর্যটনসংক্রান্ত বড় বড় উন্নয়ন সম্পন্ন হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে পাইলটদের স্বল্পতার সঙ্গে উড়োজাহাজ ভ্রমণের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি একত্রিত হয়ে গিয়েছে। করোনা মহামারী চলাকালে এয়ারলাইনসগুলোর ছাঁটাই করা, সার্টিফিকেটধারী নতুন পাইলটের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং অবসরের যাওয়ার ফলেই এ সমস্যা তৈরি হয়েছে।
মার্টিন বলেন, আকাশপথে ভ্রমণের চাহিদা এভাবে বাড়তে থাকলে এয়ারলাইনসগুলোকে কৌশল অবলম্বন করতে হবে। সংস্থাগুলোর উচিত হবে এ শূন্যতা পূরণের জন্য অন্যান্য অঞ্চলের কাছ থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরো বেশি ত্বরান্বিত করা। ঘাটতির তীব্রতা কম থাকা বিশেষ করে লাতিন আমেরিকা ও এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে পাইলট নেয়া যেতে পারে।

যদি আমরা সেসব করতে ব্যর্থ হই, তাহলে আমরা দেখব এ অঞ্চলের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন শিডিউল সমন্বয় করতে হবে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইনস ও বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রকদের ওপর প্রভাব পড়বে। ২০৩২ সালের মধ্যে বৈশ্বিক অ্যাভিয়েশন খাতে ৮০ হাজার পাইলট স্বল্পতা হবে বলেও উঠে এসেছে গবেষণায়।
বোয়িং সম্প্রতি ২০২১ সাল থেকে আগামী ২০ বছরে বাণিজ্যিক এয়ারলাইনস পাইলট ও অন্যান্য অ্যাভিয়েশন কর্মীদের চাহিদার পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়িয়েছে। মহামারী-পরবর্তী সময়ে পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে আকাশপথে ভ্রমণ অনেক বেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ সময়ে দ্রুতগামী যানটির সংখ্যাও বাড়বে দ্বিগুণ।

মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির মতে, এখন সারা বিশ্বের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চলাচল পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে ঠিকঠাক সমর্থনে এবং কর্মিসংখ্যা ঠিক রাখতে আগামী দুই দশকে বিশ্বব্যাপী ৬ লাখ ২ হাজার পাইলট দরকার হবে। গত মাসে প্রকাশিত ২০২২ পাইলট অ্যান্ড টেকনিশিয়ান আউটলুকেও এ কথাই বলা হয়েছে। এ সময়ে শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই দরকার ৫৩ হাজার নতুন পাইলট। এ অঞ্চলের অ্যাভিয়েশন খাত মূলত পরিচালনা করে এমিরেটস, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ ও কাতার এয়ারওয়েজ। সব প্রতিষ্ঠানই মহামারী থেকে পুনরুদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, বর্তমানে আকাশপথে ভ্রমণ অনেক বেড়েছে। বাড়তি চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে বিভিন্ন এয়ারলাইনস ও বিমানবন্দর কর্মী বাড়াতে কাজ করছে। তবে কর্মী স্বল্পতার কারণে বিমানবন্দরের কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে এবং এয়ারলাইনসের সক্ষমতা কাটছাঁট করতে হচ্ছে।
Leave a Reply