রংপুরের তারাগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষে নয়জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত ৬২ জন। রোববার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের তারাগঞ্জের খারুভাজ সেতুর কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আরো পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাহের হোসেন।
নিহতরা হলেন বাসচালক জীবন রহমান (২৮), রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়াল কুঠির বাসিন্দা ও ইসলাম পরিবহনের হেলপার আনোয়ার হোসেন (৩৫), একই উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের পল্লী চিকিৎসক আনিছার, আনিছুর রহমান (৪৮), ধনঞ্জয় রায় (২৭), জেলার সৈয়দপুর উপজেলার বাসিন্দা ও তাহসিন পরিবহনের ম্যানেজার মোহসিন আলী সাগর (৪২), নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি অলিউর রহমান জুয়েল (২২), গাইবান্ধার সাদেক আলী (৬৫) ও তারাগঞ্জ উপজেলার আনোয়ার হোসেন।

এদিকে বাস দুর্ঘটনার খবর পেয়েই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে আসেন হতাহতদের স্বজনরা। সেখানে এক হূদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। ফলে চিকিৎসা দিতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে চিকিৎসক ও নার্সদের। এ সময় আহতদের সেবা দিতে এগিয়ে আসেন ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা। তারা ওষুধসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী দিয়ে সহায়তা করেন।
দুর্ঘটনাকবলিত জোয়ানা পরিবহনের যাত্রী মোবারক হোসেন জানান, নীলফামারীর সৈয়দপুরের উদ্দেশে রংপুরের মডার্ন মোড় থেকে বাসটি যাত্রা করে। যাত্রাপথে চালক তার আসনে বসেই গাঁজা মিশ্রিত সিগারেট টানেন। এ সময় বাসের ভেতর গাঁজার গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। বাসের যাত্রীরা নিষেধ করলেও চালক কর্ণপাত করেননি। উল্টো গাঁজা সেবনের পর টালমাটাল অবস্থায় বেপরোয়া গতিতে বাস চালাতে থাকেন। এ কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে যাত্রীদের দাবি। একই কথা জানান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোকেয়া বেগম। তিনি বলেন, আমি বাসে উঠতেই ভেতরে গন্ধ পাই। কিসের গন্ধ তা আমি জানি না। বাসটি ছিল সৈয়দপুর যাওয়ার শেষ বাস। তবে আমি অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরেক যাত্রী আশেক আলী জানান, রংপুর মেডিকেল কলেজ মোড় থেকে বাস ছাড়তে রাত সাড়ে ১১টা বেজে যায়। সিট বাদেও বাসের ছাদে অনেক যাত্রী তোলেন হেলপার, সুপারভাইজার ও চালক। চালক ও হেলপার গাঁজা সেবন করেন। দ্রুতগতিতে বাস চালিয়ে সৈয়দপুরের দিকে যাওয়ার পথে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। এর মধ্যেও চালক বাসের গতি কমাননি। যাত্রীরা ধীরে চালানোর অনুরোধ করলেও শোনেনি। এরপর হঠাৎ বিকট শব্দ। এরপর কী হয়েছে তা আর বলতে পারেননি আশেক। জ্ঞান ফেরার পর দেখেন তিনি হাসপাতালে।
তারাগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব মোরশেদ জানান, রোববার আনুমানিক রাত ১২টার পর সৈয়দপুরগামী জোয়ানা পরিবহনের বাসটির সঙ্গে রংপুরগামী ইসলাম পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের তারাগঞ্জ উপজেলার শলেয়াশাহ খারুভাজ সেতুর কাছে হওয়া ওই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই পাঁচজন মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো চারজন মারা যান।
Leave a Reply