দেড় মাস আগে ছুুটি কাটিয়ে সৌদি আরবের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন প্রবাসী তোফায়েল আহম্মেদ (৩০)। তবে সৌদি পৌঁছালেও কর্মক্ষেত্রে পৌঁছাতে পারেননি তিনি। জেদ্দা বিমানবন্দরে মাদকসহ ধরা পড়ায় সেখানকার কারাগারে বন্দি তিনি। সম্প্রতি ফোন করে তোফায়েল পরিবারকে কারাগারে বন্দি থাকার বিষয়টি জানান। কারাগারে থাকার কথা শুনে চিন্তায় দিশাহারা পরিবারটি।

তোফায়েল ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার হাওলাপাড়া গ্রামের আব্দুস ছোবহান ভুইয়ার ছেলে। কর্মসূত্রে প্রায় আট বছর থেকে তিনি সৌদিতে থাকেন। তোফায়েলের ফোন পেয়ে তাঁর স্ত্রী মর্জিনা আক্তার নান্দাইল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়াও তাঁর মুক্তির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তোফায়েলের ছোট ভাই পাভেল মিয়া।

অভিযোগ অনুযায়ী, পাঁচ মাস আগে তোফায়েল দেশে আসেন। ছুুটি শেষে গত ৬ জুলাই সৌদির উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। এ সময় তোফায়েলের বন্ধু হৃদয় মিয়া তাঁকে একটি ব্যাগ দিয়ে তাঁর সৌদিপ্রবাসী শ্যালকের কাছে পৌঁছে দিতে বলেন। প্যাকেটে জামা-কাপড় আছে বলে জানান হৃদয়। একটি মুঠোফোন নম্বরও দিয়েছিলেন তিনি। পরে জেদ্দা বিমানবন্দর পার হওয়ার সময় মালপত্র তল্লাশির একপর্যায়ে হৃদয়ের দেওয়া ওই ব্যাগ থেকে বিপুল পরিমাণ হেরোইন ও ইয়াবা উদ্ধার করে সৌদি পুলিশ। তোফায়েলকে আটক করে সেখানকার কারাগারে পাঠানো হয়। হৃদয় মিয়া (২৮) একই উপজেলার পুরহরি গ্রামের মো. ছোবহানের ছেলে। মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘দুবাই পৌঁছে আমার স্বামী ভিডিও কল করেছিল। সে জানিয়েছিল সৌদি পৌঁছে ফোন করবে। কিন্তু দেড় মাস পর ফোন করে আটক থাকার কথা জানাল। হৃদয়ের জন্য সে বিপদে পড়েছে।’

তোফায়েলের আটকের বিষয়টি জানার পর থেকেই হৃদয় পলাতক। তাঁর বাড়িতে গিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি। পাশেই জামতলা বাজারে হৃদয়ের মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকানটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।
তোফায়েলের মা মিনা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার বাজান কোনো অপরাধ করে নাই। হেরে আইন্যা দেইন। হে আমরার ভালার লাইগ্যা বিদেশ গেছে। হে ষড়যন্ত্রের শিকার অইছে।’

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ৬ জুলাই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইতিহাদ এয়ারওয়েজের সন্ধ্যা ৭টার একটি ফ্লাইটে তোফায়েল সৌদির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। কোনো যাত্রী যখন বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন তখন স্ক্যানারে তাঁর ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। এরপর যাত্রী সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাউন্টারে যান। সেখান থেকে বোর্ডিং সম্পন্ন করে মেইন লাগেজ সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস গ্রহণ করে তা গন্তব্যে পৌঁছানোর পর যাত্রীকে ফেরত দেয়। এ ছাড়া যাত্রী একটি হাতব্যাগ বহন করতে পারেন, যেটি ইমিগ্রেশন কাউন্টারে পুনরায় স্ক্যান করা হয়। তাতে কোনো কিছু থাকলে সাধারণত স্ক্যানারে ধরা পড়ে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম বলেন, ‘মাদকদ্রব্যসহ অন্যান্য অবৈধ পণ্যসামগ্রী নিয়মিতভাবেই বিমানবন্দরের স্ক্যানারে ধরা পড়ছে। ওই যাত্রীর কাছে কোনো মাদকদ্রব্য থাকলে তা স্ক্যানারে ধরা পড়ত। বিমানবন্দরে ট্রানজিটে কিংবা অন্য কোনোভাবে সরল বিশ্বাসে ওই যাত্রী কিছু গ্রহণ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখার বিষয় আছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ চাইলে আমরা ওই যাত্রীর সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্ক্যানার ইমেজ বের করে তাদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারি।’
এ ব্যাপারে নান্দাইল থানার ওসি মিজানুর রহমান আকন্দ বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। হৃদয়কে ধরতে অভিযান চলছে।’
Leave a Reply