আকাশে ওড়ার জন্য রানওয়ে দিয়ে দ্রুতগতিতে যাচ্ছিল একটি যাত্রীবাহী বিমান। ওড়ার মুহূর্তেই একটি দমকলের গাড়ি সামনে চলে আসে। এ অবস্থায় বিমানের সঙ্গে দমকলের গাড়ির ধাক্কা লাগে এবং বিমানের পেছনের অংশে আগুন ধরে যায়। দুমড়েমুচড়ে গিয়ে দমকলের গাড়িতেও আগুন ধরে গিয়েছিল। এ ঘটনায় দুই দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইনস। ঘটনাটি পেরুর রাজধানী লিমার জর্জ শ্যাভেজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের। শুক্রবার লাতাম এয়ারলাইনসের এলএ ২২১৩ বিমানটি লিমা থেকে জুলিয়াকায় যাচ্ছিল। সেই সময়ই এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিমান এবং দমকলের গাড়ির সংঘর্ষের ভয়ঙ্কর সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় এসেছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমানের পেছনের অংশে আগুন ধরে গিয়েছে। তার পরই কালো ধোঁয়া বেরোতে শুরু করে। সেই অবস্থায় দমকলের গাড়িসহ বিমানটি রানওয়ে ধরে বেশ কিছুটা এগিয়ে থেমে যায়।
পেরুর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমানবন্দর থেকে ৬১ জনকে কাছাকাছি ক্লিনিক এবং হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তবে এটি আঘাতের কারণে নাকি সতর্কতার কারণে করা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া কোনো যাত্রী বা ক্রু সদস্য নিহত হননি বলে এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বিমানবন্দরটির পরিচালনাকারী সংস্থা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত জর্জ শ্যাভেজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পেরুর রাষ্ট্রপতি পেদ্রো কাস্তিলো টুইটারে এক বিবৃতিতে দুই দমকলকর্মীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, তিনি আহতদের সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন। এদিকে বিমানটি উড্ডয়নের সময় দমকলের গাড়িটি কেন রানওয়েতে প্রবেশ করেছিল তা স্পষ্ট নয়। প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, তারা ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে।
এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করেছিলেন ব্রাজিলিয়ান মাউরো ফেরেরা। তিনি পানামার একটি ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘যতক্ষণ না বিমানটি থামছিল এবং দমকলের গাড়ি এবং অ্যাম্বুল্যান্স এসে পৌঁছায় ততক্ষণ প্রস্থান লাউঞ্জের সবাই আতঙ্কিত ছিল। এটি একটি বেদনাদায়ক অনুভূতি। কারণ আমরা জানতাম না কতজন লোক বিমানের ভেতরে ছিল। আগুনের শিখাগুলো খুব লম্বা ছিল।’
এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে লাতাম এয়ারলাইনসের সঙ্গে জড়িত এটি দ্বিতীয় দুর্ঘটনা। এর আগে তীব্র ঝড়ের সময় তাদের একটি বিমানের সামনের অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছিল। সূত্র : আল অ্যারাবিয়া।
Leave a Reply