১৮০০ আসনের আন্তর্জাতিক মানের নৌ-নিরাপত্তা সম্বলিত জাহাজটিতে প্রত্যেক যাত্রীর নিরাপত্তার জন্য রয়েছে লাইফ জ্যাকেটসহ যাবতীয় নিরাপত্তা সরঞ্জামাদি।
শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম-সেন্টমার্টিন রুটে চালু হচ্ছে বিলাসবহুল জাহাজ ‘এমভি বে ওয়ান’। আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে সপ্তাহের প্রতি বৃস্পতিবার রাত ১০টায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে কর্ণফুলী ক্রুজলাইনের পাঁচতারকা মানের সাত তলাবিশিষ্ট এই প্রমোদতরীটি সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করবে।
পরদিন শুক্রবার ভোরে সেন্টমার্টিন পৌঁছে একদিন-একরাত অবস্থান করে শনিবার সকাল ১০টায় সেখান থেকে রওনা দিয়ে সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে ফিরবে। ১৮০০ আসনের আন্তর্জাতিক মানের নৌ-নিরাপত্তা সম্বলিত জাহাজটিতে প্রত্যেক যাত্রীর নিরাপত্তার জন্য রয়েছে লাইফ জ্যাকেট ও জীবনতরীসহ যাবতীয় নিরাপত্তা সরঞ্জামাদি। বঙ্গোপসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় সাগরে ঢেউ হলে জাহাজের তলদেশে থাকা দু’পাশের দুটি পাখা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে ভারসাম্য রক্ষা করে। ফলে ঢেউয়ের মুখেও জাহাজ দোলে না।

গতকাল বুধবার দুপুরে পতেঙ্গার ওয়াটার বাস টার্মিনালে অবস্থানরত ‘এমভি বে ওয়ানে’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছে কর্ণফুলী ক্রুজলাইন কর্তৃপক্ষ। কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এমএ রশিদ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৪০০ ফুট দৈর্ঘ্যের সাততলা বিলাসবহুল এই প্রমোদতরীটি সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশন সুবিধা সম্বলিত। জাহাজে সাধারণ চেয়ার থেকে বিলাসবহুল কেবিন, সিভিট ও রুফটপ বাফেট রেস্তোরাঁসহ একাধিক ট্রেডিশনাল রেস্তোরাঁ, আইসক্রিম ও কফি বার, ব্রান্ডেড শপসহ সব সুবিধা রয়েছে। জাহাজ পরিচালনা ও পর্যটকদের সেবা দেয়ার জন্য ১০০ এর বেশি নাবিক রয়েছেন। সেন্টমার্টিন থেকে যারা চট্টগ্রামে না ফিরে কক্সবাজার যেতে চান, তারা প্রতিষ্ঠানটির ‘এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস’ ও নতুন ‘এমভি বারো আউলিয়া’য় চড়ে যেতে পারবেন। সেন্টমার্টিন ক্রুজে চেপে সাগরবক্ষ থেকে গোটা প্রবালদ্বীপ, ছেঁড়াদ্বীপ ও নয়নাভিরাম সূর্যাস্ত দেখারও ব্যবস্থা রয়েছে।

কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এমএ রশিদ বলেন, “আধুনিক সুবিধাসম্বলিত এই জাহাজের একদিনের জ্বালানি খরচ ২৫ লাখ টাকার বেশি। জাহাজটি চালুর পর থেকে ১০-১২ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। একবার বন্ধ করতেও চেয়েছিলাম। কিন্তু নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বলেছিলেন, এটি বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশে আর কেউ এই জাহাজ চালু করবে না। আমাদের ২ লাখ বর্গ কিলোমিটার সমুদ্র রয়েছে। কিন্তু এদিকে আমরা নজর দিচ্ছি না। অথচ জাপান মাছ রপ্তানি করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করছে। আমাদের দেশের জনগণ বাড়ছে। সামনে আরো বাড়বে। আমরা সমুদ্র সম্পদের দিকে নজর না দিলে কঠিন পরিস্থিতি মুখোমুখী হতে হবে। শুধু মৎস নয়, অনেক খাত রয়েছে সমুদ্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত।”

উল্লেখ্য, সড়কপথে চট্টগ্রাম থেকে টেকনাফ হয়ে সেখান থেকে নৌপথে সেন্টমার্টিন যেতে প্রায় ২৮২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। নদীর নাব্যতাসহ বিভিন্ন সংকট মোকাবেলা করে ২০২০ সালে কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডের প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ক্রুজলাইনের অধীনে এই রুটে জাহাজ চালু করা হয়। ফলে নদী-সাগরের বিচিত্র রূপ আর মুগ্ধতা উপভোগ করে ২৩৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে কোন ঝাক্কি পোহাতে হয় না।
Leave a Reply