নির্মাণকাজ শেষে দক্ষিণ এশিয়ার বড় ইকোনমিক হাব হতে যাচ্ছে পায়রা সমুদ্রবন্দর। অন্যান্য বন্দর থেকে এখানে ব্যয় সর্বোচ্চ ৩০ ভাগ কম। তাই দেশের প্রথম স্মার্ট ও গভীরতম এই সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল রোববার রাজধানীর বিআইডব্লিউটিএ মিলনায়তনে পায়রা বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমবিষয়ক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ আহ্বান জানান। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ আয়োজিত এই সভায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে একটি কার্যকর বন্দর করতে বিভিন্ন সমস্যা ও পরামর্শ তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এখন পর্যন্ত ২৯৮টি বাণিজ্যিক জাহাজ হ্যান্ডলিং করে ৮০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। পটুয়াখালীর রাবনাবাদে অবস্থিত এই বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে ৪ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। বন্দর নির্মাণে ১৬০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার কথা জানিয়ে সভাপতির বক্তব্যে পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম সোহায়েল বলেন, প্রথম টার্মিনালের কাজ শেষ পর্যায়ে। আগামী মে মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী এটি উদ্বোধন করবেন। যেখানে থাকছে চারটি জেটি।
আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে এই বন্দরের চ্যানেলটি দেশের গভীরতম চ্যানেলে পরিণত হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ১৫ মার্চের মধ্যে দেশের সবচেয়ে বড় প্রায় ৫০ হাজার টনের জাহাজ চ্যানেলে প্রবেশ করবে।

আগামী মাস থেকে ২০০-২২৫ মিটারের জাহাজ প্রতিদিন বন্দরে আসবে। চ্যানেলের গভীরতা বাড়াতে বিআইডব্লিউটিএ কাজ করছে। তিনি বলেন, বন্দর থেকে ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত-নেপাল ও ভুটানে যাতায়াত সহজ হবে। কম সময়ে যাতায়াত, অল্প ব্যয়, যানজটমুক্ত স্মার্ট সার্ভিস পাবেন সাবাই। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চ্যানেলে পলি নিয়ে আপনারা ভাববেন না। এটা কোনো সমস্যা সৃষ্টি করবে না। জেটি ও টার্মিনালের পাশে ১৭ থেকে ১৮ মিটার গভীরতা থাকবে।

শিল্পায়নের জন্য প্রকল্পে দেড় হাজার একর জমি রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আড়াই বছরের মধ্যে আন্ধারমানিক নদীতে সেতু নির্মাণ করা হবে। অর্থাৎ গোটা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পায়রা হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বন্দর। বন্দর ঘিরে দ্রুত বিমানবন্দর নির্মাণ শুরু হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য ক্যাপ্টেন জাহিদ হোসেন। বন্দরের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তিনটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন ক্যাপ্টেন শফিকুর রহমান, বন্দরের প্রধান হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার মাহমুদুল হাসান খান ও বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের পরিচালক আতিকুল ইসলাম।

টার্মিনালের অনেক সুযোগ-সুবিধার বিষয় অনুষ্ঠানে পরিষ্কার করা হয়নি উল্লেখ করে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল আলী শিমুল পণ্য আমদানি-রপ্তানি কাজে বন্দর ব্যবহারে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা কমনা করেন। বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ মাহফুজ হামিদ বলেন, মাদার ল্যান্ড অপারেশন সংগঠনের লোকদের আন্তরিকতা ছাড়া বন্দরে কনটেইনার আসবে না। বিপিসির পরামর্শ দিয়ে বন্দরে তেল টার্মিনাল করারও পরামর্শ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সোহরাব হোসেন, খুলনার ভ্যাট কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম, বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নূরুল হক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি সৈয়দ মুহাম্মদ বখতিয়ার, বাংলাদেশ ট্রেড ফর অর্ডার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক সুমন হাওলাদার, শিপিং অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মামুনুর রশিদ।
Leave a Reply